মাত্র কয়েক ঘণ্টা টিকে থাকার মতো অক্সিজেন
রয়েছে ডুবোজাহাজ টাইটানে। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের দেখতে যাওয়া ক্ষুদে যানটি নিয়ে আশঙ্কা
ক্রমশ বাড়ছে।
অভিযানটি পরিচালনা করছে ওশেনগেট এক্সপিডিশন।
টাইটানে চালক হিসেবে আছেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী স্টকটন রাশ। নিউইয়র্ক টাইমসের এক
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তার সঙ্গে ডুবে যাওয়া টাইটানিকের একটা সম্পর্ক রয়েছে।
বিখ্যাত ওই জাহাজের সঙ্গে সলিল সমাধি ঘটা
এক দম্পতির উত্তরসূরীকে বিয়ে করেছেন তিনি।
স্টকটন রাশের স্ত্রীর নাম ওয়েন্ডি রাশ।
তিনি হলেন স্ট্রাউস দম্পতির প্রপৌত্রী। যারা ছিলেন গত শতকের শুরুর দিকের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল
স্টোর ম্যাসির মালিক। ধনকুবের দম্পতি ইসিডোর স্ট্রাউস ও আইডা স্ট্রাউস ছিলেন টাইটানিক
জাহাজের প্রথম শ্রেণীর যাত্রী।
১৯১২ সালে প্রথম যাত্রায় আটলান্টিকে ডুবে
যায় টাইটানিক। দুই হাজার ২০০ যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৭০০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
সেই গল্প উঠে এসেছে জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ সিনেমায়। যেখানে
স্ট্রাউস দম্পতিকে কিছুটা নাটকীয়ভাবে দেখানো হয়।
ওয়েন্ডি নিজেও টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখেছেন।
গত দুই বছরে অংশ নিয়েছেন সাগরতলের তিনটি অভিযানে। স্বামীর প্রতিষ্ঠিত ওশানগেটে তিনি
কমিউনিকেশন ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত আছেন।
ডুবতে বসা টাইটানিকের নারী ও শিশুরা যখন
নৌকায় আশ্রয় নিচ্ছিল, তখন আইডা একা বাঁচতে চাননি। তাই লাইফবোটের আসন ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে
জাহাজে থেকে যান। বেঁচে থাকা যাত্রীরা জানান, টাইটানিকের ডেকের ওপর পরস্পরের হাত ধরে
দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন ইসিডোর ও আইডাকে।
অন্যদিকে ১৯৯৭ সালের ব্লকবাস্টার হিট ‘টাইটানিক’-এ
দেখানো হয়, জাহাজে যখন পানি বাড়ছে এক বয়স্ক দম্পতি বিছানায় একে অপরকে
জড়িয়ে ধরেছেন। যা এই সিনেমার অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য।
ওই সময়ের সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, ইসিডোরের
মৃতদেহ দুই সপ্তাহ পর সমুদ্রে পাওয়া যায়। কিন্তু আইডাকে কখনো পাওয়া যায়নি।
সেই ইসিডোর-আইডা দম্পতির মেয়ে মিনির বংশধর
ওয়েন্ডি রাশ।










