প্রার্থনা, কোরআন তিলাওয়াত আর চোখের জলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি আপনার ডাকে সাড়া দিতে হাজির’। মূলত এ তালবিয়া পাঠের মধ্য দিয়েই হজের আনুষ্ঠানিকতায় প্রবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। তাই একে হজ-ওমরার স্লোগান হিসেবে অভিহিত করা হয়।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৫ লাখের বেশি মুসলমান হজ পালন করছেন। তারা প্রথমে মক্কার পার্শ্ববর্তী মিনায় সমবেত হন। হাজিদের জন্য সেখানে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন তাঁবু প্রস্তুত করা হয়।

মক্কা নগরী থেকে মিনায় অবস্থান করার পর গতকাল ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা রওনা হন বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত আরাফাতের ময়দানে। সেখানে তারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করেন। আত্মশুদ্ধি, মাগফিরাত ও রহমতের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান, যাকে হজের মূল অনুষ্ঠান বলা হয়।

তিনদিকে পাহাড়ঘেরা প্রায় চার বর্গমাইল আয়তনের এ বিশাল সমতল মাঠের একপ্রান্তে জাবালে রহমত। অর্থাৎ রহমতের পাহাড়। ১৪০০ বছর আগে এখানেই শেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) দিয়েছিলেন তার বিদায় হজের ভাষণ। সূর্যাস্তের পর সবাই একত্রে সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন। এরপর রওনা হন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে পৌঁছে রাতযাপন এবং শয়তানকে পাথর মারার জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করেন। আজ ঈদুল আজহার দিন কোরবানিসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন হাজিরা। জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ১২ জিলহজ শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে হজের খুতবায় ফিলিস্তিনিদের হেফাজত করতে আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে মুসলমানদের ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি বলেন, ‘ঈমানদারদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। আর শয়তান মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু। মুসলমানদের উচিত পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।’

আরাফাতের ময়দানে সারা বিশ্বের হাজিদের সামনে খুতবায় শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা ইসলামকে মানবজাতির জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। যদি তুমি তোমার শত্রুকে ক্ষমা করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে তার বন্ধু বানিয়ে নেবেন।’

ইসলাম ধর্মের তিনটি স্তর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর সর্বোচ্চ হলো ইহসান। এছাড়া পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নম্রতা প্রদর্শন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ করা ইসলামের অংশ। আর লজ্জা ইমানের একটি শাখা।’

খতিব আরো বলেন, ‘হজের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা উচিত। বেশি বেশি দোয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত। আল্লাহ বলেন, তোমরা ভালো কাজে সাহায্য করো আর মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকো।’

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হজ পালন করতে আসা মুসল্লিদের সমন্বিত পরিষেবা এবং মাঠ পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বাস্তবায়নে নজর দিয়েছে দেশটির সরকার। হাজিদের নিরাপত্তায় ১৫ হাজারেরও বেশি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা মক্কা নগরীকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চলছে নজরদারি, আকাশে উড়ছে ড্রোন।

অন্যান্য দেশের হাজিদের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের ৮৫ হাজার ১৬৪ হাজিও অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশীদের সেবায় রয়েছে ১৮টি টিম।