ওমান উপসাগরে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের
পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার আটক করেছে ইরান। সোহারের ওমানি বন্দরের কাছে এক দল সশস্ত্র
ব্যক্তি সেন্ট নিকোলাস নামের ওই জাহাজে উঠে। এরপর ইরানের একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়ার
নির্দেশ দেয়। খবর বিবিসি।
নৌবাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার
(১১ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ
ও জ্বালানি তেলের বাজেয়াপ্তের প্রতিশোধ হিসেবে সেন্ট নিকোলাস জব্দ করা হয়েছে।
ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস গতকাল
জানায়, তারা জানতে পেরেছে চার-পাঁচজন ‘অননুমোদিত ব্যক্তি’ জাহাজে উঠেছে। কালো মুখোশসহ
সামরিক ধাঁচের কালো ইউনিফর্ম ছিল তাদের পরনে।
আরো যোগ করেছে যে সেন্ট নিকোলাসের সঙ্গে
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয়
গণমাধ্যম জানিয়েছে, জাহাজটি গ্রিক মালিকানাধীন হলেও এটি আমেরিকান।
পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এম্পায়ার
নেভিগেশন বলছে, জাহাজে এক লাখ ৪৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল দিয়ে লোড করা ছিল। ১৮ ফিলিপিনো
ও একজন গ্রিক নাবিকসহ জাহাজটি ইরাকের বসরা থেকে তুরস্কে দিকে যাচ্ছিল।
সেন্ট নিকোলাসের পূর্ব নাম সুয়েজ রাজন।
ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করেছিল।
চার্টারকারী প্রতিষ্ঠান সুয়েজ রাজন লিমিটেড ওই সময় ইরানের পক্ষে গোপনে তেল বিক্রি
ও পরিবহন করে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দোষ স্বীকার করে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ ও এর কর্মীদের অবিলম্বে
মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত করার ইরানের
সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র
বেদান্ত প্যাটেল বলেছেন, আমরা মনে করি এ ধরনের পদক্ষেপ বাণিজ্যিক জাহাজ এবং আঞ্চলিক
ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অনিশ্চয়তা যোগ করবে।
এতদিন লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা
জাহাজে আক্রমণ করে এলেও নতুন ঘটনাটি নৌ বাণিজ্য সংকটে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।










