ইউক্রেনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সুমি-তে বেসামরিক নাগরিক বহনকারী একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। শনিবার (১৭ মে) সকালে এ হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছে বলে সুমি আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন। খবর বিবিসি।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা কাজ করছেন। ২০২২ সালের পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলার খবর এল।
হামলায় বেসামরিক হতাহত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়া কোনো মন্তব্য করেনি। এ নিয়ে ইউক্রেন বারবার অভিযোগ জানিয়ে এলেও মস্কোর ভাষ্য, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা ও সৈন্য সমাবেশ লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে।
এ হতাহতের ঘটনাকে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ ঘটনার পর রাশিয়ার ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে। যদি কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ না দেয়া হয়, তাহলে রাশিয়া কখনো প্রকৃত কূটনীতির পথে আসবে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া শান্তি আলোচনায় “দুর্বল ও অপ্রস্তুত” একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, যাদের কাছে প্রকৃত আলোচনার কোনো ম্যান্ডেট ছিল না। যুদ্ধ বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপই এখন জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
তিন বছর আগে শুরু হওয়া যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ হবে তা নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি না হলেও দুই পক্ষই এক হাজার করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে একমত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ শুক্রবার জানান, বন্দি বিনিময়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়েছে, তবে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উমেরভ। শিগগিরই সম্ভাব্য নতুন এক দফা আলোচনার ঘোষণা আসবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।










