ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এমন পরিস্থিতিতেও ‘যুদ্ধবিরতি’র আহ্বান জানাতে সম্মত নয় তেল আবিবের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এ ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে আরব মিত্রদের বিভক্তি দেখা দিয়েছে। খবর আলজাজিরা।

গত শনিবার (৪ নভেম্বর) জর্ডানের রাজধানী আম্মানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মতবিরোধ প্রকাশ্য হয়। সেখানে উপস্থিত যথাক্রমে জর্ডান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি ও সামেহ শউকরির ইসরায়েলকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন এর বিপক্ষে অবস্থান নেন।

এসময় সাফাদি বলেন, এ হামলাকে ইসরায়েলের আত্মরক্ষা হিসেবে আমরা গ্রহণ করি না। কোনো অজুহাতে ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তা আনবে না, এ অঞ্চলে শান্তি আনবে না।

ব্লিংকেনের মতো, যুদ্ধবিরতি"হামাসকে পুনরায় সংগঠিত করতে ও আক্রমণের পুনরাবৃত্তির সুযোগ দেবে।

এর পরিবর্তে বাইডেন প্রশাসন গাজায় ত্রাণ বিতরণ ও হামাসের হাতে আটক বন্দিদের মুক্তির প্রচেষ্টা হিসেবে স্থানীয়ভাবে ‘মানবিক বিরতি’ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে ব্লিংকেন একই আহ্বান জানালেও তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের বিরতির বিপক্ষে অবস্থান তেল আবিবের।

গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না- এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তার দুই ঘনিষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যে খোলাখুলি বিভক্ত দেখা গেল। এর আগেও জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উঠলে আমলে নেয়নি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাতে মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বোমা হামলায় ৩০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া মোট হিসেবে অন্তত নয় হাজার ৪৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।