সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রথম ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি টেলিগ্রামে লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন বৈঠকটি স্থানীয় সময় আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ার উল্লেখ করা দিনেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
পলিয়ানস্কি বলেছেন যে, আসাদ সরকারের পতনের প্রভাব এবং পরিণতি রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশের জন্য কী হবে তা এখনো অস্পষ্ট।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, গোলান মালভূমিতে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত বেসামরিক অঞ্চলে ইসরায়েল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্ক দখলে নিলে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে তার দেশত্যাগের খবর প্রকাশ হলেও তিনি কোথায় গিয়েছেন, তা নিয়ে দিনভর ছিল ধোঁয়াশা। অবশেষে গতকাল রাতে বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয় বাশার মস্কো পৌঁছেছেন।
রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা তাস ও রিয়া নভস্তির বরাত দিয়ে বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেছেন। রাশিয়া তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে।
এর আগে বাশার আল-আসাদের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়ার পর সিরিয়া ত্যাগ করেছেন বাশার। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রে সংঘাতে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের সঙ্গে আলোচনার পর বাশার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ডেপুটি চেয়ারম্যান কনস্টান্টিন কোসাচিভ জানান, মস্কো সিরিয়ার জনগণকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক, কিন্তু সম্ভবত অতীতের মতো সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়বে না। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের যদি আমাদের সমর্থন প্রয়োজন হয় তবে তা দেয়া হবে। তবে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সিরিয়ানদের নিজেদেরই মোকাবেলা করতে হবে।’










