প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ফের চীন সফর করছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। গতকাল চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো দেশটি সফরে যাচ্ছেন লুকাশেঙ্কো। খবর রয়টার্স।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে চীন সফরে যান তিনি। ওই সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত লুকাশেঙ্কো। গত জুনের শেষ দিকে রুশ ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার বিদ্রোহ করে রাজধানী মস্কো অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় ওই বিদ্রোহ থেকে সরে আসেন ওয়াগনারপ্রধান।

লুকাশেঙ্কোর প্রেস সার্ভিস জানায়, বেইজিংয়ে আলোচনায় বসবেন বেলারুশের রাষ্ট্রপ্রধান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাদের আলোচনায় বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চলতি বছর তাদের প্রথম বৈঠকের পর শি জিনপিং বলেছিলেন, ‘‌চীন-বেলারুশ বন্ধুত্ব অটুট। উভয় পক্ষের উচিত ক্রমাগত পারস্পরিক রাজনৈতিক বিশ্বাস বৃদ্ধির মাধ্যমে একে অন্যের প্রকৃত বন্ধু ও আরো ভালো অংশীদার হওয়া।’

১৯৯৪ সাল থেকে বেলারুশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন লুকাশেঙ্কো। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করতে মস্কোকে তার অঞ্চল ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে পশ্চিমাদের রোষানলে পড়েন তিনি।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে চীন। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কোনো নিন্দা করেনি দেশটি। তবে চলতি বছর ইউক্রেন সংঘাতের ইতি টেনে শান্তির আহ্বান জানায় বেইজিং।

১ মার্চের বৈঠকের পর ইউক্রেনে ‘দ্রুত’ শান্তি চুক্তির আহ্বান জানান লুকাশেঙ্কো ও শি জিনপিং। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের ২২তম মাসে এসেও এর কোনো উন্নতি হয়নি। চলমান এ সংঘাত বন্ধে কোনো পক্ষই আলোচনার জন্য আপস করতে রাজি নয়।

এর আগে শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে গত অক্টোবরে চীন সফর করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তৃতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি ওই সফর করেন।

ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুতিনের প্রথম বিদেশ সফরের মধ্যে একটি চীন। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তান সফর করেছিলেন পুতিন।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমাদের সমালোচনা সত্ত্বেও মস্কোর সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে বেইজিং। চীন বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তারা আন্তর্জাতিক আইনকানুন লঙ্ঘন করেনি। কেননা যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অধিকার তাদের আছে। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ আরো বেড়েছে।