জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বেইজিং সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন চীনা কর্মকর্তা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপকালে এ আহ্বান জানান। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে পূর্ববর্তী সহযোগিতার ফলে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী প্যারিস চুক্তি ব্রেক থ্রু এনেছিল স্মরণ করিয়ে ইয়েলেন বলেন, ‘উভয় সরকারই তাদের জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের জন্য উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সমর্থন করতে চায়।’

বেইজিংয়ে জলবায়ু গোলটেবিল বৈঠকে লিখিত বক্তব্যে ইয়েলেন বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়নে মার্কিন-চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি। বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে বৃহত্তম বিনিয়োগকারী হিসেবে আমাদের উভয়েরই যৌথ দায়িত্ব এবং এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে’।

জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকা চীন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থসহায়তা করা উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব। তবে বেইজিং বলছে, তারা স্বেচ্ছায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণ দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবগুলো এড়াতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলে মনে করা হয়।

ইয়েলেন বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগের অর্থায়ন কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে ও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা উচিত। ওয়াশিংটন ও অন্যদের পাশাপাশি বেইজিংয়ের সমর্থন পেলে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) ও জলবায়ু বিনিয়োগ তহবিলের মতো জলবায়ু সংস্থাগুলো তাদের প্রভাবকে আরো বাড়াতে সক্ষম হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বরে জিসিএফের তহবিলে প্রতিশ্রুত সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। এ প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তহবিলে আরো ১০০ কোটি ডলার সহায়তা করার কথা জানান। জিসিএফ হলো জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে একটি তহবিল, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজন ও ঝুঁকি কমাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করে। গত বছর মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের প্রতিক্রিয়ায় চীন জলবায়ু, নিরাপত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করে দেয়।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নস জানান, তিনি মার্কিন জলবায়ু দূত জন কেরির সফরের অপেক্ষায় আছেন। কেরি বলেন, ‘‌চীন তাকে শিগগিরই সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।’

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক বিবৃতি থেকে জানা গেছে, নিউ গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং প্যাক্টের লক্ষ্যে ইয়েলেন গত মাসে প্যারিসে একটি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। যেখানে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেন। ওই সম্মেলনে লি বলেছিলেন, ‘চীন ক্লিন এনার্জি সহযোগিতার জন্য বৈশ্বিক অংশীদারত্ব গড়তে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’