যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে সম্মত হয়েছে জাপান। তার জন্য ১৯৪৭ সালের শান্তিবাদী সংবিধানের অধীনে সামরিক রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা রদ করেছে দেশটি। এ পদক্ষেপ চলমান ইউক্রেন সংঘাতের কারণে কিছুটা কমে যাওয়া ওয়াশিংটনের অস্ত্রের মজুদকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আরটি।
টোকিওতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের প্রথম প্রাণঘাতী অস্ত্র রফতানি। জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্সের লাইসেন্সের অধীনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে থাকে। যদিও জাপানের তৈরি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি কিয়েভে যাবে না। তবে তারা ওয়াশিংটনকে ইউক্রেনে আরো ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে উৎসাহিত করতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে অবদান রাখার আশা করছি।’ জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি জাপান-মার্কিন জোটকে আরো শক্তিশালী করবে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘শান্তিবাদী জাতি হিসেবে আমাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন নেই।’ জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাহম ইমানুয়েল বলেন, ‘টোকিও প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
রফতানির সিদ্ধান্তটি একই দিনে এসেছিল, যখন জাপানের মন্ত্রিসভা প্রতিরক্ষা ১৬ শতাংশ রেকর্ড বৃদ্ধি অনুমোদন করেছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের) সামরিক বাজেটের জন্য জাপানের পার্লামেন্টের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।
কিশিদা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা জাপানকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশে পরিণত করে।
জাপানের মার্কিন অনুমোদিত সংবিধানের অধীনে এ ধরনের সামরিক ব্যয় একসময় অকল্পনীয় বলে মনে করা হতো। যার অধীনে টোকিও শুধু যুদ্ধ করার অধিকার ত্যাগ করে এবং কেবল ন্যূনতম আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র রাখতে পারবে বলে একমত হয়।










