অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি
বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (২ জুলাই) রাতজুড়ে
এ হামলা চালানো হয়। এ সময় আহত হন অসংখ্য মানুষ। খবর রয়টার্স।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, জেনিন ব্রিগেডের
যোদ্ধারা কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করত এমন একটি ভবনে আক্রমণ করেছিল তারা। যা
পশ্চিম তীরে বিস্তৃত সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের অংশ।
হামলার সময় শহর জুড়ে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের
শব্দ শোনা যায়। আক্রান্ত হয়েছে শরণার্থী শিবিরের বড় একটি অংশ।
খালেদ আলাহমাদ নামে এক ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্স
চালক বলেন, শরণার্থী শিবিরে যা চলছে তা আসলে যুদ্ধ। আকাশ থেকে শিবির লক্ষ্য করে হামলা
হয়েছে। প্রতিবার আমরা ৫-৭ টি অ্যাম্বুলেন্স ভর্তি আহত লোক নিয়ে ফিরেছি।
অন্তত ছয়টি ড্রোন শহরের ওপর দিয়ে ঘুরে
বেড়াতে দেখা যায়। কিন্তু ওই অভিযানে ড্রোন হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না তা উল্লেখ
করতে অস্বীকৃতি জানায় সামরিক বাহিনী।
গত মাসে এক হামলায় জেনিনের কাছে তিনজন
বন্দুকধারী নিহত হয়। বাসিন্দারা বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা করা হয়েছিল।
যা গত ১৫ বছরের বেশি সময়ে দেখা যায়নি।
হামাস, ইসলামিক জিহাদ ও ফাতাহসহ সশস্ত্র
গোষ্ঠীর সদস্যরা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে, এমন অভিযোগে বছরের শুরু থেকে একের পর
এক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী।
আজ সোমবার ভোরে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে
দেখা যায়, বাসিন্দাদের আগুন দেয়া টায়ারের ঘন কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে আছে জেনিনের
সড়ক। মসজিদের লাউডস্পিকার থেকে যোদ্ধাদের সমর্থনের আহ্বান শোনা যায়।
অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া রামাল্লা শহরের একটি চেকপয়েন্টে মাথায়
গুলি করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ১৫ মাস ধরে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়ে
চলেছে। জেনিনের মতো শহরে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া ফিলিস্তিনি
গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে।










