রাশিয়ার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারো প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি ইউক্রেনে লড়াইরত যোদ্ধাদের রুশ সর্বোচ্চ সামরিক পদক ‘‌হিরো অব রাশিয়া’ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। খবর রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি।

তিনি বলেন, ‘‌বিভিন্ন সময়ে আমার নানা চিন্তা-ভাবনা ছিল, বিষয়টি আমি গোপন করব না। তবে এখন একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। আমি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়ব।’

এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, ‘‌নির্বাচনে লড়তে পুতিনের প্রতি বহু মানুষ আহ্বান জানিয়েছেন।’

সম্প্রতি রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে ভোটাভুটির পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরদিনই প্রার্থিতার ঘোষণা দেন পুতিন। ১৭ মার্চের ওই নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২৪ বছরের নেতৃত্বের মেয়াদ আরেক দফা বাড়বে। এর আগে আট বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন পুতিন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন পুতিন। ফলে আগামী মার্চের নির্বাচনে পুতিনের জয় একেবারে নিশ্চিত। পুতিনবিরোধীদের রাশিয়া ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে অথবা কারাবন্দি করা হয়েছে। এছাড়া দেশটিতে স্বাধীন গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি দেখা যায়।

২০২০ সালে রাশিয়ার সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার থেকে ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে আগের মেয়াদ বাতিল করে পুতিন স্পষ্টত আগামী বছর আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলে পুতিন ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন এবং আবার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে তিনি আরেক মেয়াদে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশটির কারাবন্দি বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌তারা যেন পুতিন ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দেন।’

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরই মধ্যে দুজন ব্যক্তি অংশ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন দেশটির সাবেক আইনপ্রণেতা বরিস নাদেজদিন এবং সাংবাদিক ও আইনজীবী ইয়েকাতেরিনা দুন্তসোভা।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ান ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া ও খেরসন অঞ্চলের বাসিন্দারা এবারই প্রথম দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে।