অনলাইন কনটেন্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্প্রতি বাইটড্যান্সের সংবাদ প্ল্যাটফর্ম টাউটিয়াও এবং অ্যালিবাবার ইন্টারনেট ব্রাউজার অপারেটর ইউসিওয়েবকে তলব করেছে চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএসি)। অনলাইন ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযান আরো সম্প্রসারণ করেছে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স।

সিএসি জানিয়েছে, টাউটিয়াও ট্রেন্ডিং টপিক লিস্ট এবং অন্য স্থানে ‘ক্ষতিকর কনটেন্ট’ প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে। ইউসিওয়েবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এটি ‘নন-অথরিটেটিভ সোর্স ও নন-মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায়’ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ক্ষতিকর ঘটনা সম্পর্কিত কনটেন্ট প্রধান ট্রেন্ডিং লিস্টে প্রবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে। এ ধরনের কনটেন্টের মধ্যে রয়েছে সাইবারবুলিং এবং কিশোরদের গোপনীয়তা সম্পর্কিত বিষয়।

দুটি প্ল্যাটফর্মকেই ‘অনলাইন ইকোসিস্টেমের নিয়ম ভঙ্গ’ করার অভিযোগে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, শাস্তির মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর শৃঙ্খলাবিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি গত সোমবার দুই মাসব্যাপী একটি জাতীয় অভিযান ঘোষণা করেছে, যাতে সমাজে সহিংসতা বা শত্রুতাপূর্ণ অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর লক্ষ্য হলো চীনে একটি ‘পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর’"অনলাইন পরিবেশ গঠন, যেখানে নেতিবাচক বা সমালোচনামূলক কনটেন্ট সীমিত থাকবে এবং সরকারের সামাজিক মূল্যবোধের প্রচার হবে।

গত সপ্তাহে অন্য বড় প্ল্যাটফর্ম, যেমন সংক্ষিপ্ত ভিডিও অ্যাপ কুয়াইশো, মাইক্রোব্লগিং সাইট ওয়েইবো এবং ইনস্টাগ্রামধর্মী সাইট শিয়াহংশু (রেডনোট) বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল সিএসি।

চীনের অর্থনীতি সাম্প্রতিক সময়ে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং যুব সমাজের বেকারত্ব উদ্বেগ বাড়ায়, নেতিবাচক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

পাশাপাশি, চীনের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দেশের বেসরকারি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। মঙ্গলবার চীনের বাজার তদারকি সংস্থা কার্গো সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম হুয়োলালাকে দেশটির জাতীয় প্রতিযোগিতা আইন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সমন দিয়েছে। এর চারদিন আগে সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্ল্যাটফর্ম কুয়াইশোর ই-কমার্স সেবা কুয়াইগোতেও অনিয়মের সম্ভাব্য কারণে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এ পদক্ষেপগুলো চীনের কর্তৃপক্ষের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় ডিজিটাল ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।