গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। এ আশংকায় গত মাসের ব্যাপক হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর বিবিসি।

এক প্রতিবেদনে উপসংহারে মানবাধিকার গোষ্ঠীটি বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী অসম বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে।

আরো বলা হয়, প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) নির্বিচার রকেট নিক্ষেপে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে কাজ করেছে। আইনি প্রয়োজনীয়তা না থাকা সত্ত্বেও বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করেছে।

এদিকে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে পিআইজে-এর এক মুখপাত্র ।

এই আন্তঃসীমান্ত লড়াইয়ের সর্বশেষ দফায় ৩৪ ফিলিস্তিনি ও এক ইসরায়েলি নিহত হন। গত ৯ মে শুরু হওয়া লড়াই পাঁচদিন পর মিসরের মধ্যস্থতায় সমাপ্ত হয়।

প্রথমে বিমান হামলায় পিআইজে-এর সামরিক শাখার তিন সিনিয়র কমান্ডার এবং তাদের আত্মীয় ও প্রতিবেশীসহ ১০ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করে ইসরায়েল। এর পাল্টা জবাব দিতে এক হাজার ৪০০ এর মতো রকেট ছুড়ে পিআইজে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, ঘুমন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বোমা ফেলার ক্ষেত্রে বেসামরিক লোকদের সম্ভাব্য ক্ষতি উপেক্ষা করেছে ইসরায়েল। ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে আক্রমণ শুরু একটি যুদ্ধাপরাধ।

১৩ মে চারতলা শরণার্থী শিবিরে হামলা করে ইসরায়েল। সেখানে অস্ত্র বা অন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছে বা এখান থেকে রকেট চালানোর কোনো প্রমাণ পায়নি বলেও সংস্থাটি জানায়।

এ ছাড়া পিআইজে’র রকেট হামলায় নিহত ও ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।