দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ‘অগ্রাধিকার’ তালিকায় রেখেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। আগামী সপ্তাহেই তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা শুরু হতে পারে। তবে এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে দুর্বল করার পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের জাতিগত বৈষম্যের শিকার বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পুনর্বাসনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অগ্রাধিকার বিবেচিত হলেও এ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউজ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সহিংস অপরাধের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রমাণ নেই। অবশ্য শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা কিছু গোষ্ঠীর বরাতে সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশটিতে জাতিগত পরিচয়ের কারণে সহিংসতা, এমনকি হত্যার মতো ঘটনা রয়েছে।
পুনর্বাসনের জন্য যাদের নির্বাচিত করা হবে, তাদের কোনো ধরনের বাধা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তারা দেশটিতে পুনর্বাসনে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু করেছেন। জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এমন আফ্রিকানদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অবশ্য কবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি তিনি।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তারা যেসব কাগজপত্র পেয়েছে সেখানে দেখা যায়, আগামী সোমবার ভার্জিনিয়ার ডালাস বিমানবন্দরে এক প্রেস ইভেন্টের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তারা এ গোষ্ঠীকে স্বাগত জানাবেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দফায় ৫৪ জন শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছবেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ছাড়া শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের জমি বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ এনেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় হয়ে ওঠা ইলোন মাস্কও দেশটির বিরুদ্ধে কৃষকদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তারা অবশ্য বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকানদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের এ সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়, যখন ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় সব ধরনের অভিবাসনভিত্তিক আশ্রয়ের আবেদন বন্ধ করে দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশের সমালোচনায় দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি গোষ্ঠীকে গ্রহণ করছে, যারা এখনো অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা বিপদাপন্ন মানুষকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে তারা।










