উত্তর কোরিয়ার বিস্তীর্ণ সাদা বালুর সৈকত, নীলাভ জলরাশির তীরে এখন সারি সারি ঝকঝকে বিলাসবহুল হোটেল, ওয়াটার পার্ক এবং প্রমেনেড। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের বিখ্যাত অবকাশকেন্দ্র ওয়াইকিকির মতো করে তৈরি করা হয়েছে বিলাসবহুল রিসোর্ট ‘ওনসান-কালমা’। পর্যটনকেন্দ্রটি নিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনও বেশ আশাবাদী। তার মতে, রিসোর্টটি ওয়াইকিকির সমতুল্য হবে। তবে সেখানে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটকের তীব্র সংকট।

জুনে চালু হওয়া রিসোর্টটির ভিডিও পর্যালোচনা করে সিএনএন দেখেছে, বিশাল সৈকতে শুধুমাত্র কিছু রাশিয়ান পর্যটকই দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে বেড়াতে আসা ৩৪ বছর বয়সী পশু চিকিৎসক দারিয়া জুবকোভা বলেন, ‘আমাদের ছাড়া আর কোনো বিদেশী সেখানে ছিল না—এবং আমরা মাত্র ১৫ জন ছিলাম।’ তিনি ছিলেন কোভিড মহামারির পর ওনসানে ছুটি কাটানোর অনুমতি পাওয়া প্রথম বিদেশী পর্যটকদলের একজন।

দারিয়া জুবকোভা জানান, রিসোর্টটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দুটি অঞ্চলে বিভক্ত। সেজন্য আমরা অঞ্চলগুলোর মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারিনি। তিনি আরো জানান, সেখানে একটি বড় ওয়াটার পার্ক ছিল, সেটা বাইরে থেকে দেখতে পারলেও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে অভ্যর্থনায় হোটেল কর্মীদের কোনো কমতি ছিল না। চিকিৎসকরা তাপমাত্রা পরীক্ষা ও জীবাণুনাশক স্প্রে করেছেন। এমনকি পর্যটকদের জন্য আলাদা করে ড্রায়ার ও চেয়ার কেনা হয়েছে।

এ পর্যটকের মতে, তাদের আতিথেয়তা খুবই ভালো ছিল। উনারা আমাদের সবার জন্য সর্বচ্চ চেষ্টা করেছে। আমাদের জন্য বিশেষভাবে কাপড় শুকানোর যন্ত্র এবং চেয়ার কিনে এনেছেন। এমনকি আমাদের জন্য উচ্চমানের সেবা নিশ্চিতে যা করা সম্ভব তার সবটাই তারা করেছেন।

রিসোর্টটি নিয়ে জুবকোভা জানান, সেখানে আমরা আর কর্মী ছাড়া আর কেউ ছিল না। সিএনএন বলছে, রিসোর্টটি এখনো একটি প্রদর্শনী মঞ্চের মতো—অতিথিদের জন্য প্রস্তুত, কিন্তু অতিথি নেই।

তবে দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একেবারে নিজস্ব ধাঁচে হলেও পশ্চিমা ব্র্যান্ডের অনুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘মিরাই রিজার্ভ’ নামক একটি ক্যাফে রয়েছে, যা স্টারবাকস রিজার্ভ-এর আদলে তৈরি। রয়েছে আইকিয়া নামে পরিচিত আসবাবের দোকান ও অ্যাপল স্টোরের মতো দেখতে স্মার্টফোন শোরুমও।

সুইডিশ পর্যটক জোহান নাইল্যান্ডার বলেন, আমি অবাক হয়েছিলাম —সেখানে মোবাইল ফোনে কিউআর কোডে পেমেন্ট আছে। আপনি দেখবেন মানুষ মেসেজ করছে, প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল দেখছে, গেম খেলছে। সেখানে সবই ছিল।

তিনি আরো বলেন, সব জায়গার মানুষই প্রায় এক রকম। তারা সন্তানদের ভালো চায়, গান গায়, রাজনীতি নিয়ে ঠাট্টা করে। অন্য যেকোনো জায়গার দৈনন্দিন জীবনের মতোই মনে হয়।

২০২৫ সালে পিয়ংইয়ং ম্যারাথনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, সরকার আবার ভিসা স্থগিত করে। ইউটিউবার মাইক ও কেনেডি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক।’

নাইল্যান্ডার মনে করেন, উত্তর কোরিয়া একটি বিশাল ভোক্তা বাজার হতে পারে, যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেটুকু দেখা যাচ্ছে, তা শুধু প্রদর্শনের জন্যই রাখা হয়েছে।