যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা অ্যারিজোনার সান রাফায়েল উপত্যকা। এই প্রাকৃতিক বনভূমিতে মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। তবুও সেখানকার কানাডা সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত বরাবর প্রায় ২৪ দশমিক ৭ মাইল নতুন প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি নির্মাণ হলে বাঘ, ভালুক, পাহাড়ি সিংহ, প্রংহর্ণ ও অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতিসহ অন্তত ৪ শতাধিক প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে।
এই প্রাচীর নির্মাণকে পরিবেশবিদেরা ‘বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়েছেন। স্কাই আইল্যান্ড অ্যালায়েন্স-এর বন্যপ্রাণী কর্মসূচি পরিচালক ইমন হ্যারিটি জানিয়েছেন, এই প্রাচীর একবার নির্মাণ হয়ে গেলে বন্যপ্রাণীরা আর সহজে চলাচল করতে পারবে না। অঞ্চলটিতে ৬৫টি মোশন ক্যামেরায় নিয়মিতভাবে ভালুক, ববক্যাট, প্রংহর্ণ ও পাহাড়ি সিংহের মতো প্রাণীর গতিবিধি চিত্রধারণ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্মিত অন্যান্য প্রাচীরের মতোই, এটি প্রাণীদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।
২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে সীমান্ত প্রাচীর নির্মিত হয়েছে এমন ১০০ মাইলজুড়ে বন্যপ্রাণীর চলাচল ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। ভালুক, নেকড়ে, জাগুয়ার, প্রংহর্ণ এর মতো বড় প্রাণীদের চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যামেরায় দেখা গেছে, একটি মেক্সিকান গ্রে উলফ ২৩ মাইল দীর্ঘ প্রাচীর বরাবর পথ খুঁজেও কোনো ফাঁকা অংশ খুঁজে না পেয়ে অবশেষে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
‘এই অঞ্চল এতটাই অরক্ষিত ও জনমানবশূন্য যে গত পাঁচ বছরে কোনো ক্যামেরায় কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশী ধরা পড়েনি’ জানান হ্যারিটি। তারপরও এই অঞ্চলে শত কোটি ডলার খরচ করে প্রাচীর নির্মাণকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও ধ্বংসাত্মক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু প্রাচীরই নয়, ট্রাম্প প্রশাসন এপ্রিল মাসে এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে ঘোষণা দেন ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকোর সীমান্ত বরাবর ৬০ ফুট প্রশস্ত ‘রুজভেল্ট রিজার্ভেশন’কে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে দেয়া হবে। এতে করে সীমান্ত বরাবর সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পথ খুলে যেতে পারে, যা পরিবেশগত ভারসাম্য আরো বিপর্যস্ত করবে।
এই প্রকল্পকে পরিবেশের জন্য ধ্বংসাত্মক ও করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।










