আটলান্টিক
মহাসাগরে নিখোঁজ ডুবোজাহাজ টাইটানের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বিবিসির
খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটার কিছু পরই ডুবোজাহাজে
সংরক্ষিত অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। আর এর সঙ্গে সঙ্গেই কমে আসছে টাইটানের ৫ আরোহীর
জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা।
অবশ্য অক্সিজেন কমার
আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকাল থেকেই উদ্ধার তৎপরতা দ্বিগুণ করা হয়েছে, কিন্তু
তাতেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি টাইটানের আরোহীদের। গত রোববার নিখোঁজ হওয়া ডুবোজাহাজটিতে ৯৬
ঘণ্টার অক্সিজেন সংরক্ষিত ছিল। মার্কিন কোস্টগার্ডের অনুমান, টাইটানের সংরক্ষিত অক্সিজেন
সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, টাইটানের
অনুসন্ধান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত দুটি রোবট যান পাঠানো
হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুবোজাহাজটি
সমুদ্রতলের উপরিভাগে আছে কিনা তা এখনও অস্পষ্ট। ডুবোজাহাজটি শনাক্ত করতে আরো সময় প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকাল ৮টার দিকে পানিতে ডুব দেয় টাইটান। আট
ঘণ্টা পর ফিরে আসার কথা থাকলেও মাত্র পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় স্টেশনের সঙ্গে
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সরকারি-বেসরকারি একাধিক সংস্থার পাশাপাশি যোগ দিয়েছে যুক্তরাজ্য থেকে আনা সাবমেরিনও। তবে সময়
যতই গড়াচ্ছে পুনরুদ্ধার ক্রমশ চ্যালেঞ্জপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন
যে সাবমার্সিবলের এখনো বিদ্যুৎ আছে কিনা ও যাত্রীরা কোন অবস্থায় রয়েছেন তার ওপর
অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ইউএস কোস্ট
গার্ড ক্যাপ্টেন জেমি ফ্রেডেরিক বলেন, কখনো কখনো আপনি এমন একটি অবস্থানে থাকেন যখন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
আমরা এখনো সে অবস্থায় পৌঁছিনি।
টাইটানের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে রিমোটচালিত যানের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হবে। আর এত গভীরে নামার মতো যান রয়েছে অল্প কয়েকটি। যাদের সাফল্য নির্ভর করছে পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতির ওপর।
ওশানগেট
এক্সিপিডিশনস নামের প্রতিষ্ঠানের ডুবোজাহাজ টাইটান। ৬ দশমিক ৭ মিটার লম্বা কার্বন
ফাইবার ও টাইটানিয়ামে তৈরি এ যান। এটি সর্বোচ্চ চার হাজার মিটার গভীরতায় কাজ করতে
পারে।
যাত্রীদের
মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ব্যবসায়ী
শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান। আরো আছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রী হ্যামিশ
হার্ডিং, ফরাসি অভিযাত্রী পল হেনরি নার্গেওলে
এবং শেনগেটের প্রধান নির্বাহী স্টকটন রাশও।
পোলার
প্রিন্স নামের একটি জাহাজে বহন করে সাবমার্সিবল বা ছোট ডুবোজাহাজটিকে টাইটানিকের
ধ্বংসাবশেষের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেটি যাত্রীদের নিয়ে সাগরের গভীরে যায়।
মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরের তিন হাজার ৮০০ মিটার বা সাড়ে ১২ হাজার ফুট গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়েছিল অভিযাত্রিক দল।










