চীন বর্তমানে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ভাবছে। শিনজিয়াং প্রদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির লক্ষ্যে চীন এখন এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এটি উভয় দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
চীনা সরকার নয়জন যুক্তরাজ্য নাগরিকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে পাঁচজন কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য ও দুজন হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন। তারা শিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রতি চীনের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ফলে তাদের চীন, হংকং ও ম্যাকাওতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, চীনে থাকা সম্পত্তি জব্দ ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে নিষেধ করা হয়।
চীনের নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করার কারণ যুক্তরাজ্য শিনজিয়াং প্রদেশে গণহত্যার অভিযোগে চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে এখন দুই দেশই তাদের সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছে। চীনের লন্ডনে অবস্থিত দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, চীন সবসময় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক একটি ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি ওঠে যখন কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের চীনা কর্মকর্তা যুক্তরাজ্য সফর করেন। গত সপ্তাহে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং ও বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা করতে এসেছিলেন।
তারা যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর হে রেচেল রিভস এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ওয়াং জনাথন রেনল্ডসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া চীনের শীর্ষ কূটনীতিক লিউ জিয়ানচাওও যুক্তরাজ্য সফর করেছেন এবং পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এখন পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি যে চীন সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, নাকি কিছু নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে। এপ্রিলে চীন পাঁচজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও ইউরোপীয় সংসদের মানবাধিকার উপকমিটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি চীনের একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। তবে দুই দেশই একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আলোচনা চালাচ্ছে। চীন টাওয়ার অব লন্ডনের কাছে একটি সুপার-এম্বাসি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে, যা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্য সরকার গ্রীষ্মে এ পরিকল্পনা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেবে।
চীনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন যুক্তরাজ্য-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে দুই দেশই তাদের সম্পর্ক মজবুত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।










