জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩০’ শুরু হচ্ছে আজ। এবারের আয়োজন হচ্ছে ব্রাজিলের অ্যামাজন অরণ্যের শহর বেলেমে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত হওয়ায় এ সম্মেলন ঘিরে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তুঙ্গে। এতে বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রতিনিধি, বিজ্ঞানী, পরিবেশকর্মী ও নীতিনির্ধারকরা একত্র হয়েছেন। এবারের বৈঠকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু তহবিল, উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ ও বন সংরক্ষণ বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছে আয়োজক দেশ ব্রাজিল। খবর রয়টার্স।
জাতিসংঘের জলবায়ু চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর বার্ষিক এ বৈঠককে কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা কপ বলা হয়। ১৯৯২ সালে রিও আর্থ সামিটে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘ জলবায়ু চুক্তির মাধ্যমেই এ সম্মেলনের সূচনা হয়। এবারের ৩০তম কপ সম্মেলন সেই সূচনাস্থল ব্রাজিলেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক দেশটি জানিয়েছে, নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আগের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপরই এবার গুরুত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও অ্যামাজন অরণ্য সংরক্ষণকে বৈঠকের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রতি দশকে গড়ে দশমিক ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়ছে। এটি ১৯৯০-২০১০ দুই দশকের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্ব ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি উষ্ণতার সীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে প্রবালপ্রাচীর ধ্বংস, গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ দ্রুত গলন, আর অ্যামাজন অরণ্যের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তাপপ্রবাহে বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী এরই মধ্যে ভুগছে। তাপমাত্রা প্রতি এক ডিগ্রি বেড়ে গেলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ২-৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যানসেটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ গত বছরই ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। শুধু ইউরোপেই গত গ্রীষ্মে তাপজনিত কারণে ৬২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের কপ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে ব্রাজিল। দেশটি আগের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, বন সংরক্ষণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ তহবিল নিশ্চিত করাকে আলোচনায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবার তুলনামূলক কম হলেও চীন, ভারত ও ব্রাজিলের নেতৃত্বে গঠিত বিএএসআইসি জোট বৈঠকে প্রভাব রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোটও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবেলায় বাড়তি আর্থিক সহায়তার দাবি তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের কপ৩০ বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো সম্মেলন হতে পারে। দেশগুলো যদি নির্গমন হ্রাস, বন সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের স্পষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তবে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির সীমা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।










