সংকট মুহূর্তে প্রবেশ করেছে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে নিখোঁজ ডুবোজাহাজের উদ্ধার তৎপরতা। পাঁচ আরোহীর জন্য থাকা অক্সিজেন শেষ হতে আর মাত্র এক রাত বাকি। খবর দ্য স্ট্রেইট টাইমস।

টাইটান নামের ডুবোজাহাজটি গত রোববার সকাল ৮টার দিকে পানিতে ডুব দেয়। আট ঘণ্টা পর ফিরে আসার কথা থাকলেও মাত্র পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সনার যন্ত্রের মাধ্যমে পানির নিচের অজানা শব্দটা ধারণের পর ওই এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার সরকারি-বেসরকারি একাধিক সংস্থা যোগ দিয়েছে এই অভিযানে। তবে সময় যতই গড়াচ্ছে পুনরুদ্ধার ক্রমশ চ্যালেঞ্জপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ইউএস কোস্ট গার্ড ক্যাপ্টেন জেমি ফ্রেডেরিক বলেন, কখনো কখনো আপনি এমন একটি অবস্থানে থাকেন যখন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা এখনো সে অবস্থায় পৌঁছিনি। 

শব্দ ধারণ করা হয়েছে উত্তর আটলান্টিকের এমন একটি অংশে, যা আকারে মার্কিন রাজ্য কানেকটিকাটের দ্বিগুণ। গভীরতায় চার কিলোমিটার। স্থানটির বিস্তৃতির পাশাপাশি যেকোনো সময় আবহওয়ার পরিবর্তনও উদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদ্ধারকারীদের অনুমান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রীদের অক্সিজেন ফুরিয়ে যেতে পারে। ক্ষুদে ওই ডুবোজাহাজে ৯৬ ঘণ্টার মতো ব্যবহারের বাতাস রাখা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সাবমার্সিবলের এখনো বিদ্যুৎ আছে কিনা ও যাত্রীরা কোন অবস্থায় রয়েছেন তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

টাইটানের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে রিমোট-চালিত যানের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হবে। আর এত গভীরে নামার মতো যান রয়েছে অল্প কয়েকটি। যাদের সাফল্য নির্ভর করছে পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতির ওপর।

ওশানগেট এক্সিপিডিশনস নামের প্রতিষ্ঠানের ডুবোজাহাজ টাইটান। ৬ দশমিক ৭ মিটার লম্বা কার্বন ফাইবার ও টাইটানিয়ামে তৈরি এ যান। এটি সর্বোচ্চ চার হাজার মিটার গভীরতায় কাজ করতে পারে।

যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ-পাকিস্তানী ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান। আরো আছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রী হ্যামিশ হার্ডিং, ফরাসি অভিযাত্রী পল-হেনরি নার্গেওলে এবং ওশেনগেটের প্রধান নির্বাহী স্টকটন রাশও।

পোলার প্রিন্স নামের একটি জাহাজে বহন করে সাবমার্সিবল বা ছোট ডুবোজাহাজটিকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেটি যাত্রীদের নিয়ে সাগরের গভীরে যায়।

মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরের তিন হাজার ৮০০ মিটার বা সাড়ে ১২ হাজার ফুট গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে আটদিনের এই ভ্রমণের জন্য আড়াই লাখ ডলার খরচ করতে হয়।