সুদানের গৃহযুদ্ধের তিন বছর হতে চলেছে। এ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে দেশটিতে এক চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তীব্র খাদ্য সংকট, ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও নিরাপত্তার অভাব—সব মিলিয়ে জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে। এ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে সুদানের নারীরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত সামাজিক ‘প্রথা’ ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন। টিকে থাকার লড়াইয়ে সব ধরনের কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করছেন, যা ঐতিহ্যগতভাবে দেশটিতে কেবল পুরুষদের কাজ হিসেবেই গণ্য হতো। খবর আল জাজিরা।

দক্ষিণ-পূর্ব সুদানের নীল নদ প্রদেশের বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোয় এখন নারীদের কঠোর পরিশ্রমের দৃশ্য অতি সাধারণ। এসব শিবিরে আশ্রয় নেয়া মায়েরা সন্তানদের বাঁচাতে কাঠ কাটা বা কাঠমিস্ত্রির মতো ভারী কাজ বেছে নিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এক মা রাশা জানান, বেঁচে থাকার আর কোনো পথ খোলা না থাকায় ভারী কুড়ালই এখন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সারা দিন প্রখর রোদে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে তিনি যা আয় করেন, তা দিয়ে সন্তানদের জন্য সামান্য বিস্কুট বা সাবান কেনাই দায় হয়ে পড়ে। নতুন পোশাক বা অন্য কোনো শখের আশা তারা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, দেশটিতে ৪ কোটি ৬৮ লাখ মানুষের মধ্যে তিন কোটির বেশি মানুষ এখনো মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। দারফুর ও করদোফান অঞ্চলে খাদ্য সংকট তীব্র এবং রোগের প্রকোপ পরিস্থিতি আরো খারাপ করছে। জাতিসংঘ এ বছরের জন্য ২৯০ কোটি ডলার অনুদানের আবেদন করেছে।

নারীদের এ জীবনসংগ্রামের পাশাপাশি সুদানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবনেও নেমে এসেছে অন্ধকার। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, স্কুল বন্ধ থাকার দিক থেকে সুদান এখন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। দেশটিতে যুদ্ধের কারণে প্রায় ৮০ লাখ শিশু— যা মোট স্কুলগামী শিশুর অর্ধেক—দীর্ঘ ৪৮৪ দিন ধরে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুদানের একটি পুরো প্রজন্ম অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে।