বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভসহ (ফেড) বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। এসব বিষয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে। টানা দুইদিন ধরে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বৃহৎ শেয়ারবাজারগুলোর প্রধান প্রধান সূচক। খবর এপি ও রয়টার্স।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় শেয়ারবাজারগুলোয় গতকাল অধিকাংশ সূচকে পতন হয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশটিতে শিল্পোৎপাদনের গতি শ্লথ হয়ে আসার তথ্য টোকিওর শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ফ্ল্যাশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, জাপানের উৎপাদন খাতের কার্যক্রম নভেম্বরে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ছিল। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, এ তথ্যের কারণে জাপানি বিনিয়োগকারীরা এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক গতকাল কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩ হাজার দশমিক ১৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকে পতন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ।

এশিয়া-প্যাসিফিকের দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক গতকাল দশমিক ৪ শতাংশ পতনের দেখা পায়। এ অঞ্চলের শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোরও শেয়ারদর ছিল নিম্নমুখী। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারদর কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার শেয়ারদর কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। বৃহদায়তনের এসব কোম্পানির শেয়ারদরে পতনকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর প্রধান প্রধান সূচকে দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই পরিস্থিতি দেখা গেছে ইউরোপের বাজারেও। মহাদেশটিতে বৃহৎ প্রায় সব সূচকেই গতকাল বজায় ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা।

যুক্তরাষ্ট্রে গতকালই নভেম্বরের কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান প্রকাশের কথা ছিল। অর্থনীতিবিদরা এ সময় দেশটিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবে তাদের হিসাবে দেশটির অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার খুব একটা সন্তোষজনক না-ও হতে পারে। এছাড়া আগামীকাল মূল্যস্ফীতি পরিসংখ্যান প্রকাশেরও কথা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন এসব পরিসংখ্যানে উঠে আসা তথ্যের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। এমন প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের গতি বেশ শ্লথ হয়ে এসেছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ গত সপ্তাহেই সুদহার কমিয়েছে। আবার ২০২৬ সালে আরো কমানোর ইঙ্গিত ও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশটির কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান শক্তিশালী হলে সুদহার হ্রাসের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। বিষয়টি তাদের মধ্যে সতর্কতার মাত্রা আরো বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি শেয়ার সূচকগুলোয়।

গতকাল এ প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছিল, নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে আনুষ্ঠানিক লেনদেন তখনো শুরু হয়নি। তবে ফিউচার সূচকগুলো ছিল নিম্নমুখী ধারায়। এর মধ্যে নাসডাক ফিউচার কমেছে প্রায় দশমিক ৮ শতাংশ।

বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি ও এআই সম্পর্কিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে গতকাল দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। এর মধ্যে মার্কিন শেয়ারবাজারে এআই খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, আবার কয়েকটির কমেছে। এনভিডিয়ার শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ওরাকলের শেয়ারদর কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ব্রডকমের শেয়ারদরও কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

মুদ্রাবাজারে বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার এখনো কিছুটা দুর্বল রয়েছে। শক্তিশালী হয়েছে ইউরোর বিনিময় হার। জাপানি ইয়েনও কিছুটা শক্তিশালী অবস্থায় এসেছে।