গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর অবস্থা দেখা দেয়। ইসরায়েলের দাবি, সম্মতি অনুযায়ী এক জিম্মিকে মুক্তি দেয়নি হামাস। ফলে ইসরায়েল গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়িতে ফিরতে বাধা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির এ চুক্তি আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। তাছাড়া ইসরায়েল একে চুক্তি না বলে প্রায়ই ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ বা কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মাঝে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তি টিকবে কিনা সে বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর সিএনএন।
শনিবার ইসরায়েলি চার নারী সেনাকে মুক্তি দেয় হামাস। ইসরায়েল বলছে, একই দিনে ২৯ বছর বয়সী বেসামরিক নাগরিক আরবেল ইয়েহুদকেও মুক্তি দেয়ার কথা। কিন্তু তাকে ওই চার নারীর সঙ্গে মুক্তি দেয়া হয়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজার সাধারণ মানুষকে নেজারিম করিডোর পেরিয়ে উত্তরে ফেরার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু এটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তির অধীনে শনিবার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ ইয়েহুদ হামাসের কাছে নেই। গাজার আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) এক শীর্ষ নেতা সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা ইয়েহুদকে আটক রেখেছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাকে মুক্তি দেয়া হবে।
ইসরায়েল ও হামাস একে অন্যকে চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ তুলছে। এতে ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর হওয়া এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাবেক ইসরায়েলি জিম্মিবিষয়ক আপসকারী গেরশন বাসকিন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।’ তার এ বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিময়ে কিছু না পেয়ে হামাস ইয়েহুদকে মুক্তি দেবে না। ইসরায়েলের উত্তর দিকে গাজাবাসীদের যাওয়া বন্ধ করার হুমকি হামাসকে তাকে মুক্তি দিতে রাজি করানোর জন্য যথেষ্ট নয়।’
বাসকিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি ইসরায়েল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের উত্তরে যেতে বাধা দেয়, তবে এতে জিম্মিদের মুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধ হতে পারে। তিনি ইসরায়েলকে চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘ইসরায়েলের উচিত এখন কথা কম বলা ও মধ্যস্থতাকারীদের আরো বেশি কাজ করতে দেয়া। পাশাপাশি ইসরায়েলের উচিত কাতার ও মিসরকে জানানো যে তারা হামাসের সঙ্গে সেপ্টেম্বরে গৃহীত তিন সপ্তাহের চুক্তিতে সম্মত হতে প্রস্তুত।’
হামাস বলেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও বন্দি বিনিময়ের শর্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব করছে। কারণ তারা আল-রশিদ সড়ক বন্ধ রেখেছে। এতে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।










