বিশ্বব্যাপী চীনের বন্দর নেটওয়ার্ক দুর্বল করে আরো বেশি কৌশলগত বন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি চলতি শতকের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, যুদ্ধকালীন সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজ বহর যথেষ্ট ক্ষমতাশালী নয়। ফলে বিদেশী জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় চীনের বন্দর ও নৌপথে আধিপত্য বৃদ্ধিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। বিপরীতে দেশী জাহাজ নির্মাণে উৎসাহ দেয়া, নিয়ন্ত্রণাধীন শিপিং রেজিস্ট্রি সম্প্রসারণ ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চেকপয়েন্টে নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন বন্দরে চীনের হিস্যা বা অংশীদারত্ব কিনতে মার্কিন বা পশ্চিমা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে সহায়তার কথা ভাবছে হোয়াইট হাউস। বিশেষ করে, গ্রিসের পিরেইউস বন্দরের চীনা অংশীদারত্ব তাদের নজর রয়েছে। কসকো (চীনা ওশান শিপিং কোম্পানি) গ্রুপের ৬৭ শতাংশ হিস্যা রয়েছে এখানে। এছাড়া পানামা, স্পেন ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বন্দরেও চীনের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এরই মধ্যে কসকোকে চীনা সামরিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোম্পানির তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জানায়, দেশটি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বন্দর ও নৌপরিবহন ক্ষেত্রে নিয়মিত সহযোগিতা করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক জোরপূর্বক প্রভাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১২৯টি প্রকল্পে চীনের বন্দর বিনিয়োগ রয়েছে। কসকো, চায়না মারচেন্টস, এসআইপিজির (সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট গ্রুপ) মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে এ বিনিয়োগ পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সেগুলো নজরদারি, সামরিক সুবিধা বা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য ব্যবহার হতে পারে।

ক্যারিবিয়ানে জ্যামাইকার কিংস্টন বন্দরের চীনা বিনিয়োগও মার্কিন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে মার্কো রুবিও বলেছেন, চীনা সরকার-সহায়ক কোম্পানিগুলো ‘প্রেডেটরি (শিকারী)’ আচরণ করছে, যা আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোতে মার্কিন স্বার্থ হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে।