চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। এ অঞ্চলে নতুন হুমকির মুখে জোট শক্তিশালী করার বার্তা হিসেবে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের আশপাশের এলাকায় ‘ফ্রিডম এজ ২০২৫’ নামক একটি উন্নততর ত্রিপাক্ষিক বিমান ও নৌ মহড়া চালাচ্ছে। মহড়াটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। খবর সিএনএন।
যৌথ এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। এখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেয়ার কৌশল এবং সামুদ্রিক অপারেশনের অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর প্রধানরা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রদর্শন হিসেবে মহড়াটিকে বিবেচিত করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবেলা এবং এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ‘এ মহড়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দুই গুরুত্বপূর্ণ এশীয় মিত্রের মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো উন্নত করা হবে, এবং এটি ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে উন্নত প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ যদিও তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।
সম্প্রতি চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার নেতারা বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে একসঙ্গে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজেদের ঐক্য প্রদর্শন করেছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক থাকার পাশাপাশি রাশিয়ার থেকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়াও চীন-উত্তর কোরিয়া বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের কোনো উল্লেখ না থাকায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন এখন উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তি হিসেবে মেনে নিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধ মহড়া’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ধীরে ধীরে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিবেশকে দুর্বল করে তুলছে।‘ অন্যদিকে, চীনও যুক্তরাষ্ট্রকে জাপানে ‘টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ না পাঠানোর অনুরোধ করেছে।
সবমিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন-রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার কুচকাওয়াজ ছিল রাজনৈতিক নাটক। আর যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-কোরিয়ার যৌথ মহড়া বাস্তব প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জোট শক্তিশালী করার বার্তা এবং এসব মহড়া দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বহন করে।










