যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে আজ দায়িত্ব গ্রহণের সপ্তাহ পূর্ণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্ষমতা বিস্তারে দক্ষতার সঙ্গে বড় পরিবর্তন এনেছেন। এ অল্প কয়েকদিনে তার দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপ প্রমাণ করছে, তিনি ঠুনকো বা অতিরঞ্জিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেননি। কারণ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দিকেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ প্রাথমিক ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রদর্শনী ট্রাম্পের এজেন্ডা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনে পরিবর্তন আনতে তার অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে তুলেছে। খবর রয়টার্স।
ফেডারেল সরকার পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে কাজটি সমাধা করা তার জন্য অনুকূলে ছিল না বলে তিনি মনে করেন। এ লক্ষ্যে তিনি একযোগে বিভিন্ন সংস্থার শত শত সরকারি কর্মচারীকে স্থানান্তর বা বরখাস্ত করেছেন। এসব পদক্ষেপ প্রশাসনিক কাঠামোকে পরিবর্তন করে তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি দ্রুত দক্ষিণ সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন, ইউএস কোস্ট গার্ডের প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৬টি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এ আদেশগুলোর মধ্যে পরিবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে মার্কিন নাগরিকত্ব নীতির পরিবর্তনসহ নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের প্রচলিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করছে।
সম্ভবত সবচেয়ে দুঃসাহসী পদক্ষেপ হিসেবে তিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলায় অংশ নেয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ সমর্থককে ক্ষমা করেছেন। ট্রাম্পের মিত্ররা তার এ চমকপ্রদ ও শক্তিশালী সূচনাকে বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব পদক্ষেপের কারণে ফেডারেল কর্মকর্তা, ইউনিয়ন, অধিকারবিষয়ক নানা সংস্থা, এমনকি গণমাধ্যমকেও বিস্মিত করেছে। তারা বলছেন, ট্রাম্পের রক্ষণশীল সমর্থকরা যখন তিনি ক্ষমতার বাইরে ছিলেন, তখন কয়েক বছর ধরে সাবধানে নীতিগুলো পরিকল্পনা করেছেন, যা তাকে ফিরে এসে দ্রুত কাজ শুরু করতে সাহায্য করেছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউজের প্রধান কৌশলবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্টিভ ব্যানন বলেন, ‘এই দল ফেডারেল সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অর্জনের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
ট্রাম্পের বিরোধীরা বলছেন, তিনি মার্কিন সংবিধানকে তার মূল উদ্দেশ্যের বাইরে বিকৃত করছেন। এছাড়া নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি নির্বাহী ক্ষমতাও ব্যবহার করছেন। ট্রাম্পের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, তিনি দেশকে একত্রিত করার চেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা ও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেয়ার ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল বেশ কয়েকজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিরাপত্তা অনুমোদন বাতিল করা। এ কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ রুশ প্রভাব অভিযানের অংশ।
ট্রাম্প তিনজন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিরাপত্তা সুবিধাও বাতিল করেছেন, এমনকি ইরান থেকে আসা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির মুখেও। ট্রম্পের সহকারীরা তার অন্যতম কঠোর সমালোচক ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের সাবেক চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলির ছবি পেন্টাগনের একটি করিডোর থেকে সরিয়ে ফেলেন।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়েছেন। কারণ তার দল মনে করেছিল যে তারা তার প্রতি যথেষ্ট বিশ্বস্ত নয়। এ পরিবর্তনের ফলে তিনি তার সমর্থকদের ১০০টিরও বেশি নিরাপত্তা পদে নিয়োগ দিতে পারবেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একজন সিনিয়র ফেলো উইলিয়াম গ্যালস্টন বলেন, ‘তিনি স্পষ্টতই এমন ব্যক্তি নন, যিনি সহজে তার ক্ষোভ ভুলে যান।’










