আগের মাসের তুলনায় অক্টোবরে দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। সেপ্টেম্বরেও একই ধরনের সংকোচন দেখা যায়। বিশ্লেষকদের পাশাপাশি ব্রিটিশ পরিসংখ্যান সংস্থাও অর্থনীতির ধীরগতিকে বাজেটে কর বৃদ্ধিজনিত উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করছে। খবর এফটি।
এর আগে অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন, অক্টোবরে ব্রিটিশ অর্থনীতি দশমিক ১ শতাংশ সম্প্রসারণ হতে পারে। কিন্তু সরকারি তথ্য এর উল্টোটা বলছে। ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের সামনে যে আরো চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে এ পরিসংখ্যান, এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
এ সংকোচন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসের জন্য খারাপ খবর। বাজেটের আগে গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ায় কয়েক মাস ধরে এমপিরা তার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। ২৬ নভেম্বর বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রী স্যার মেল স্ট্রাইড এ পতনকে ‘চরমভাবে উদ্বেগজনক’ ও ‘লেবারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার সরাসরি ফলাফল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সরকার প্রবৃদ্ধিকে নিজেদের অগ্রাধিকার দাবি করলেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি গত সাত মাসে শুধু একবারই সম্প্রসারণ করেছে। এখন মে মাসের তুলনায় কোনো উন্নতি নেই।
যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিষেবা খাতের বিভিন্ন বিভাগে মাসজুড়ে স্থবিরতা বিরাজ করছিল। কারণ খাতগুলো বাজেট ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কুইল্টারের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ লিন্ডসে জেমস বলছেন, ‘বাজেট ও ভোক্তা আস্থা, খরচ ও ব্যবসায় পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে উৎপাদনের অনেকটা পতন ঘটেছে অক্টোবরে।’
র্যাচেল রিভস বাজেট ঘোষণায় ২ হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ড কর বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। করের সম্মিলিত আকার ২০২৯ সালের মধ্যে জিডিপির রেকর্ড ৩৮ শতাংশে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরেও দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি সংকোচনের তথ্য দিয়েছিল ওএনএস। ওই সময় সাইবার আক্রমণের কারণে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে আগস্টে কোনো ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়নি ব্রিটিশ অর্থনীতিতে।
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক সুরেন থিরুর মতে, অক্টোবরের নেতিবাচক এ পরিস্থিতি নভেম্বরে বিদ্যমান থাকতে পারে।
আগস্ট-অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসে দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে ব্রিটিশ অর্থনীতি, যা ২০২৩ সালের পর তিন মাসের ভিত্তিতে প্রথম পতন।










