গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমারে তিন ধাপের নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনটি শুরু থেকেই ভুয়া বা সাজানো ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে আসছেন দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী দল নিষিদ্ধ, শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি ও চলমান সংঘাতের কারণে দেশটির বড় অংশে ভোটই হচ্ছে না। এসব কারণে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের ৩৩০টি টাউনশিপের (জেলার চেয়ে ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল) মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট হয়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায়। চলমান গৃহযুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বহু এলাকায় ভোট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
রাজধানী নেপিদো ও বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট কেন্দ্র খোলা হয়। তবে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় দেখা গেছে। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুনে নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট দিতে আসতে পারে।
ভোটের দিন নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ছিল উদ্বেগজনক। বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। মান্দালয় অঞ্চলে রকেট হামলায় তিনজন আহত হয়। থাইল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা মিয়াওয়াদিতে বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যু ও তিনজন আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গৃহযুদ্ধের বাস্তবতায় ভোট আয়োজন যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এসব ঘটনা তা আবারো সামনে এনেছে।
নির্বাচনকে বৈধ ও সুষ্ঠু বলে দাবি করছে সামরিক জান্তা সরকার। ভোট দেয়ার পর জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘এ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং এটি দেশকে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে ফেরানোর একটি ধাপ।’
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহল কঠোর ভাষায় নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছে। জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘বেসামরিকদের ওপর বোমা হামলা, রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দি করা ও সব ধরনের ভিন্নমতকে অপরাধ বানিয়ে যে নির্বাচন হচ্ছে, তা নির্বাচন নয়; এটি বন্দুকের নলের মুখে অভিনীত এক প্রহসন।’
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টসহ কয়েকটি পশ্চিমা সরকার নির্বাচনটিকে সাজানো বলে উল্লেখ করেছে। বিরোধী দল নিষিদ্ধ ও নেতারা কারাবন্দি থাকায় এ ভোট গ্রহণযোগ্য নয়।
এ নির্বাচনে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি দেশজুড়ে প্রার্থী দিয়েছে। তবে ৪০টির বেশি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। নিষিদ্ধ দলগুলোর মধ্যে রয়েছে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। সু চি ও দলের অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাবন্দি। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে নির্বাসনে রয়েছেন।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের ভোট হবে আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি। ফল ঘোষণা হতে পারে জানুয়ারির শেষে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, এ নির্বাচন রাজনৈতিক সংকট কমানোর বদলে বিভাজন আরো গভীর করতে পারে।










