সার্বিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে কসোভোকে আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো। দেশটির উত্তরে এথনিক সার্ব অঞ্চলে মেয়র নিয়োগের জন্য কসোভো সরকার জোরপূর্বক পৌরসভা ভবনে প্রবেশের একদিন পর এ আহ্বান জানায় সামরিক জোটটি। খবর রয়টার্স।

এ ঘটনার পর শুক্রবার কসোভো পুলিশ এবং এথনিক আলবেনিয়ান মেয়রদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ফেরাতে সার্বিয়া তার সেনাবাহিনীকে পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে রাখতে এবং সীমান্তের কাছাকাছি ইউনিট স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। 

ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোটের মুখপাত্র ওয়ানা লাঙ্গেশকু এক টুইট পোস্টে লিখেন,”আমরা কসোভোর প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, কসোভোয় ৩ হাজার ৮০০ জনের ন্যাটো নেতৃত্বাধীন শান্তি রক্ষাকারী মিশন ‘কে-ফোর’ সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।

কসোভোর উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী ভারী যুদ্ধযান নিয়ে পৌরসভার ভবনগুলোকে পাহারা দিয়েছে। কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি সম্প্রতি নতুন মেয়রদের সঙ্গে পুলিশি অভিযানকে সমর্থন করেছেন।

 তিনি গতকাল এক টুইটে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের কোনো বাধা ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহণের অধিকার রয়েছে। নাগরিকদেরও এ নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন কসোভো সরকারকে তার উত্তরের কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচনা করে বলেন, ‘‌তারা"অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। আলবিন কুর্তি কসোভো ও সার্বিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সহায়তা করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে। ফলে কসোভোর সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।’

উল্লেখ্য, কসোভোর উত্তর অঞ্চলের সার্বিয়ানরা ২০০৮ সালে সার্বিয়ার কাছ থেকে কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকার করে না। তারা বেলগ্রেডকে এখনো তাদের রাজধানী হিসেবে মনে করে। এথনিক আলবেনিয়ানরা কসোভোর জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও অধিক। শুধু উত্তর অঞ্চলে সার্বিয়ানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।