ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর সফর করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। গতকাল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এসবের মধ্যেই গতকাল গাজার মাগাজি আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।
বৈঠকের সময় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে জানান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত। গাজা উপত্যকায় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেয়া উচিত। ব্লিঙ্কেন ও আব্বাস পশ্চিম তীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থার মতে, মাহমুদ আব্বাস ব্লিঙ্কেনকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন না মেনে ইসরায়েলের হাতে গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণ যে গণহত্যা ও ধ্বংসের শিকার হয়েছে, তা বর্ণনা করার জন্য আমার কাছে কোনো শব্দ নেই।’
এদিকে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এর আগে শুক্রবার তেল আবিব ও শনিবার আম্মান সফর করেন। গতকাল তিনি ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় যান। এরপর তার তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জানান, ব্লিঙ্কেন গাজায় জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো আবার চালু করার জন্য মার্কিন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘ব্লিঙ্কেন স্পষ্ট করেছেন যে ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করা উচিত নয়।’
ম্যাথিউ মিলার আরো বলেন, ‘ব্লিঙ্কেন পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্লিঙ্কেন একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের ক্ষেত্রে মানবিক বিরতির দিকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।’
যুদ্ধবিরতির কোনো অগ্রগতি হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। এছাড়া ডেলাওয়ারের একটি গির্জা ছেড়ে যাওয়ার সময় থাম্বস-আপ দেখিয়েছেন।
গত সপ্তাহে বাইডেন গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। মিনিয়াপলিসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের একটি বিরতি দরকার। যাতে জিম্মিরা মুক্তি পায়।’
অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের ফিলিস্তিন সফর যুদ্ধবিরতি আলোচনার এক ধাপ অগ্রগতি। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এসব আলোচনাকে বারবার নাকচ করে দিয়েছেন।
গতকালও গাজার মাগাজি আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। শনিবার রাতের এ হামলায় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আল কিদরা বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে জায়গা না পাওয়ায় গুরুতর আহত কয়েকজনকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, গত ৭ অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৭৭০ হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৮৮০ শিশু রয়েছে।










