ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশের বিখ্যাত জেলা চিতোর। ঐতিহাসিক খ্যাতি ছাপিয়ে এ জেলা কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য নতুন করে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষত গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল আম উৎপাদনে চিতোরের সুখ্যাতি ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে গেলে চোখে পড়বে সারি সারি আম বাগান। জানুয়ারি নাগাদ এসব আম গাছে মুকুল আসে। আর ভরা গ্রীষ্মে পাকা আমে ভরে ওঠে চিতোরের বাগানগুলো। মৌসুমজুড়ে গাছ ও আমের যত্ন নিতে ব্যস্ত থাকেন চিতোরের বাগানীরা।

তবে এবারের মৌসুমে চিতোরের আমচাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এর প্রধান কারণ, এবার জেলার আম গাছগুলোয় অন্যবারের তুলনায় মুকুল কম এসেছে। ফলে মৌসুম শেষে ফলটির উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন চিতোরের আম বাগানীরা।

চিতোরের সরকারি হর্টিকালচার বিভাগ জানিয়েছে, এবারের মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি থাকায় আমের মুকুল প্রায় ২০ শতাংশ কম এসেছে। গরমের কারণে অনেক গাছে মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জ্বলে গেছে। অনেক গাছে দেরি করে মুকুল এসেছে। এসব কারণে মৌসুমজুড়ে চিতোরে আম উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত আম বাজারে আসতেও বিলম্ব হতে পারে।


চিতোর জেলার পূর্বাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চল তুলনামূলক কম উষ্ণ। জেলার পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আমের বাগান অবস্থিত। এ অংশটিতে দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও রাতে তা অনেকটাই কমে আসে। তবে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেকটাই কমে এসেছে। রাতগুলোও উষ্ণ থাকছে। তাপমাত্রার এ পরিবর্তন জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চিতোরে আমের মুকুল হতে সমস্যা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার হর্টিকালচাল বিভাগ।

২০১৮ সালেও অনেকটাই সমস্যায় পড়েছিল চিতোরের আম বাগানীরা। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকায় ওই বছরও জেলায় আমের মুকুল আসতে বিলম্ব হয়েছিল। ফলে বাজারে আম আসতে আসতে দু-তিন মাস দেরি হয়ে যায়। সমস্যায় পড়ে অন্ধ্র প্রদেশের আমের পাল্প তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে দেরিতে ফল উঠলেও ওই বছর সেখানকার বাগানগুলোয় আম উৎপাদনে বড় ধরনের মন্দা ভাব দেখা যায়নি। বাগানীদের লোকসানও তুলনামূলক কম ছিল।

২০১১-১৫ সাল অবধি চিতোরসহ অন্ধ্র প্রদেশের কৃষকরা বড় ধরনের খরার সম্মুখীন হয়েছিল। এ দুর্যোগ জেলায় কৃষির ধরন বদলে দেয়। খরা ও এর পরবর্তী সময়ে অনেক কৃষকই প্রচলিত শস্যের বদলে ফল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েন। মূলত তখন থেকেই চিতোরের কৃষকদের কাছে আম উৎপাদন জনপ্রিয়তা পায়।

 

ফ্রেশপ্লাজাডটকম অবলম্বনে