দীর্ঘদিন থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেন। একসময়ের সমৃদ্ধ দেশটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের কৃষি খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। দেশটির কয়েক লাখ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের কবলে। ইয়েমেনের মতো অবস্থা আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে এশিয়া ও আফ্রিকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। বলা হয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ দুই অঞ্চলের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা সর্বাধিক বিঘ্নিত হতে পারে। দেশ হিসেবে নাম এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেন, লেবানন, ইরাক, আফ্রিকার লিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতির। চীনসহ পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সীমিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রেখেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু দেশে তীব্র সংঘাত চলছে। ইরাকে সরকারবিরোধী লাগাতার বিক্ষোভ খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ইয়েমেনের সংঘাত দেশটিকে দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংঘাত চলছে লিবিয়ায়। আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার. দক্ষিণ সুদানে লাখো মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কমার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। এসব কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশকে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে চীনসহ পূর্ব এশিয়া  ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর কৃষি ও পশুপালন খাতে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপ বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি এসব দেশকে সীমিত পরিসরে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি কিংবা রোগব্যাধি বিস্তারের পাশাপাশি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছে এফএও। বিশেষত মৌসুমি ঝড়-বাদল এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশের কৃষি ও পশুপালন খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে চীন ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছে অর্ধশতাধিক। এর প্রভাব বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য বিঘ্নিত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি।