একটা সময় অভিজাত পরিবারেই কেবল সোফাসেট দেখা যেত। এরপর সৌন্দর্য ও আরামের জন্য সোফার সঙ্গে আবির্ভাব হলো কুশনের। এখন প্রতিটি পরিবারেই যেমন দেখা মেলে সোফার, তেমনি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দেখা যায় হরেক রকম কুশনের। সোফার পাশাপাশি ইজিচেয়ার, ডিভান, গদি সবখানেই নানা নকশা ও শৈলীর কুশন ঘরে এক অন্য রকম সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। 

বসন্তের শুরুতে ঘরের জীবনযাত্রায় গতি ও প্রাণ আনতে আপনি কুশন দিয়েই শুরু করতে পারেন। আপনার যদি আগে থেকেই কুশনের সংগ্রহ থাকে, তাহলে সেগুলোর কভার পরিবর্তন করুন। শীতের শেষে ঘরের আবহাওয়া ও পরিবেশ পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়ে, বিশেষ করে বসার ঘরের। কারণ এ ঘর সর্বাধিক ব্যবহূত অঞ্চল, যেখানে আপনি পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেয়া, খাওয়া, আরাম ও ক্লান্তি নিবারণ করেন। আকর্ষণীয় কভারে মোড়ানো কুশনগুলো আপনার ঘরকে আলোকিত করে তুলতে পারে। চলুন জেনে নিই ঘর সাজাতে কুশনের ব্যবহার—


বসার ঘর আলোকিত করতে কুশন

অনেকেই একটি সোফা বা ইজিচেয়ারে একটি করে কুশন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এখন আর সেই চিন্তাধারা নেই। এখন একটি সোফা বা ডিভানের সঙ্গে একাধিক কুশন ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে আপনি তিনটি বা পাঁচটি কুশন ব্যবহার করলে একেকটাতে একেক রকমের কভার ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার ঘরের আবহাওয়া ও মেজাজে নতুনত্ব আসবে এবং আপনার সৃজনশীলতা ফুটে উঠবে। তবে কুশনের কভার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিশ্চিত হন যে সেগুলো উচ্চমানের সুতা দিয়ে তৈরি, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত এবং রুক্ষ নয়। কুশন নরম ও মলিন না হলে এগুলো ব্যবহারে মজা পাওয়া যায় না। স্পন্দিত রঙিন কুশন কভার বসার ঘরের জায়গাগুলো আলোকিত করে তোলে। আপনার ঘরের সাজসজ্জা ও ব্যাকগ্রাউন্ড মাথায় রেখে কুশনের রঙ নির্বাচন করুন। এক্ষেত্রে ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে আপনি বসন্তের রঙগুলো নির্বাচন করতে পারেন।

আর্মচেয়ারকে সমৃদ্ধ করতে কুশন

বাড়ি সাজানো কিন্তু কোনো সহজ কাজ নয়। এটা এমন একটি শিল্প, যা ধারণা ও বিষয়গুলো একত্র করে গতিশীলতার আবেদন তৈরি করে। এখানে গৃহকর্ত্রীর সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে হয়। ঘর সাজাতে আর্মচেয়ার শৈল্পিক অনুভূতি সৃষ্টি করে। আর সেই আর্মচেয়ারে যদি আপনি নানা রঙের কুশন ব্যবহার করেন, তাহলে সেগুলো আরামের সঙ্গে রঙের ডিব্বা উপহার দেবে। আর্মচেয়ারের সঙ্গে কুশনের রঙে যদি বৈপরীত্য সৃষ্টি করা যায়, তবে সেটা দুর্দান্ত পছন্দ হতে পারে। বাহারি রঙের এ কুশনগুলো আর্মচেয়ারের আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।

শোয়ার ঘরের কুশন

ঘরে উষ্ণতা ও আরামদায়ক অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে সাশ্রয়ী পছন্দ হলো কুশন। তাই শোয়ার ঘরের কুশন কভার নির্বাচন করতে কয়েকবার চিন্তা করে নিন। আপনার ঘরের ওয়ালপেপার, বালিশের কভার, ঘরের রঙ, বেডশিটের রঙ ও প্রিন্ট বিবেচনায় নিয়ে তবেই কুশনের রঙ পছন্দ করুন। শোয়ার ঘরের সাজসজ্জার সঙ্গে কুশনের শৈলীর মিল থাকলে ঘরে প্রাণবন্ত অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে আপনি বিমূর্ত প্রিন্ট, পুষ্পশোভিত বা জ্যামিতিক প্রিন্টগুলো নির্বাচন করতে পারেন। শোয়ার ঘরের বেডের জন্য দুটি বালিশের সঙ্গে দুটি কুশন রাখা ভালো। আকারের ক্ষেত্রেও আয়তাকার ও বৃত্তাকার কুশন থেকে বেছে নেয়ার সুযোগ আছে।


পড়ার
ঘরে স্বস্তিদায়ক অনুভূতি

অনেকের কাছেই বই সংগ্রহে রাখা নেশার মতো। অনেকে এ সংগ্রহ বৃদ্ধি করতে করতে বাড়ির একটি ঘরকে গ্রন্থাগারে পরিণত করেন। এই বই পড়া নেশার সঙ্গে রিলাক্স অনুভূতি তৈরি করতে পারে কুশন। পড়ার ঘর বা গ্রন্থাগার যেটাই হোক না কেন, সেখানকার কুশনের কভার পছন্দের ক্ষেত্রে প্রিন্টগুলো বিবেচনায় রাখুন। এমন ধরনের প্রিন্ট পছন্দ করুন, যা ঘরের সঙ্গে সখ্য তৈরি করতে পারে। এমন কিছু সুতা, প্রিন্ট বা রঙ এড়িয়ে চলুন, যেগুলো উষ্ণতা ও ভালো অনুভূতি সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়। পড়ার ঘরের চেয়ারের সঙ্গে মিল রেখে আপনি ছোট প্যাটার্ন ও প্রিন্টের কুশন কভার বাছাই করতে পারেন।

বাগানকে জীবন্ত করতে কুশন

বাড়ির সঙ্গে ফুলের সুগন্ধযুক্ত একটা বাগান কে না চায়! প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুলের বাগানে একটু সময় কাটাতে পারলে তাজা অনুভূতি দেয়। আর ফুলের একটা বাগান প্রশান্তির এক শান্ত স্থানও। বাগানের চেয়ারগুলোয় কুশন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ফুলের বিষয়টি মাথায় রাখুন। কুশনের কভারেও ফুলের ছোঁয়া বা লতাপাতার শৈলী রাখুন। এমন একটি আরামদায়ক পরিবেশে সকালে চা বা কফি অনন্য স্বাদ এনে দেবে। ভালো মানের কভারে মোড়ানো কুশনগুলো মনের প্রশান্তি ও আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পারে।


এই
কুশনই হলো এখনকার প্রতিটি বাড়িতে থাকা সর্বাধিক আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা আইটেম। আজকাল কুশনগুলো কেবল স্ট্যান্ডার্ড বর্গ আকারে আসে না। হরেক আকারের কুশনে ঘর রাঙানো যায়। কেনা ছাড়াও আপনি মনমতো কুশন কভার বানিয়ে নিতে পারেন। তবে যেমন কুশন কভারই নির্বাচন করেন না কেন, আপনার বাড়িতে কতটা আলো প্রবেশ করে, ধুলাবালির মাত্রা কেমন, এ বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ এগুলোর ওপরও নির্ভর করে কেমন কাপড়ের কুশন কভার কিনবেন, সেটা জমকালো হবে না নিয়মিত ধোয়ার উপযোগী।

সূত্র: রাজরঙ