শীতের
রানী তল্পিতল্পা গুটিয়ে
নিতে শুরু করেছে। বসন্তের
জানান দিতে গাছেরা
যেন আকুল হয়ে
শাখায় শাখায় সবুজকে
আহ্বান জানাচ্ছে, এ
যেন প্রকৃতির নতুন
কবিতা লেখার পূর্বপ্রস্তুতি। ঋতুরাজ
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি
সেজে উঠতে শুরু
করেছে অপরূপ রঙে। লাল,
হলুদ, কমলা, সবুজের
মতো উজ্জ্বল রঙগুলো
খেলা করে প্রকৃতিতে। তবে
সব রঙ
ছাপিয়ে এ সময়টায়
হলুদের একটু বেশি
রকম বাড়াবাড়িই চোখে
পড়ে।
আর
রঙের খেলা শুধু
প্রকৃতি কিংবা পোশাকে
যে আটকে
থাকে, বিষয়টি এমন
নয়।
বছরজুড়ে যে হলুদকে
কেউ ঘরের সাজে
আনতে নারাজ হবেন,
সেই হলুদই কিন্তু
এ সময়টায়
প্রাধান্য পায় অন্দরসাজে। ঘরের
সাজে উজ্জ্বল ভাব
আনতে এ রঙের
যে জুড়ি
মেলা ভার, সে
কথাও নিশ্চয়ই কারো
অজানা নয়।
তাই বসন্তকে বরণ
করে নিতে এ
সময়ে ঘরের সাজে
হলুদ রঙ ব্যবহার
করতেই পারেন।
এক্ষেত্রে
প্রথমেই আপনি হাত
দিতে পারেন বাড়ির
দরজা-জানালার পর্দায়। এমনিতেই
শীতের মোটা ও
ভারী পর্দা এ
ঋতুতে অকার্যকর হয়ে
পড়ে। তাই
গরম আবহাওয়ার উপযোগী
হালকা পর্দা পছন্দ
করার সময় আপনি
হলুদ রঙকে প্রাধান্য
দিতে পারেন।
হলুদ পর্দাগুলোর ওপর
সূর্যের আলোকরশ্মি পড়ে
এগুলো আপনার পুরো
ঘর আলোকিত
করে তুলবে।
ঘর হয়ে
উঠবে বসন্তের রঙে
রঙিন।
শীতে
প্রকৃতির পাশাপাশি বাড়িতেও
একটি জবুথবু ভাব
বজায় থাকে।
এমন স্যাঁতসেঁতে ভাব
দূর করে ঘরকে
প্রাণবন্ত করে তুলতে
রঙ অনেক
বড় ভূমিকা
পালন করে।
তাই ঘরের দেয়ালে
উজ্জ্বল রঙ বা
বর্তমান রঙের ওপর
একটি উজ্জ্বল শেড
যেটাই যুক্ত করেন
না কেন,
আপনার ঘরে নতুন
জীবনের ছাপ পড়বে
এবং সেখানে আপনাকে
প্রাণ খুলে শ্বাস
নিতে সহায়তা করবে। আপনার
অন্দরমহলে যদি রঙ
করার প্রয়োজন না
পড়ে, তবে আপনি
বারান্দা বা বাড়ির
বাইরে বসন্তের প্রাকৃতিক
রঙগুলো যুক্ত করতে
পারেন। এছাড়া
আপনি দরজা-জানালায়
উজ্জ্বল রঙ করেও
প্রাণবন্ত ছাপ আনতে
পারেন।
উষ্ণ
আবহাওয়াকে স্বাগত জানাতে
সবচেয়ে সহজ পন্থা
হলো ঘরে তাজা
ফুলের সুবাস ছড়িয়ে
দেয়া। বসন্তে
উত্সব মানেই ফুলের
আবেশ। ফুলেদের
রাজ্যে এখন ভরা
মৌসুম। আর
কৃষ্ণচূড়া, দোলনচাঁপা, কনকচাঁপা,
কাঁঠালচাঁপা,
পলাশ ও বেলি
ফুলের মতো বসন্তের
ফুলগুলো খুব রঙিন
ও উজ্জ্বল
হয়।
আপনি বাড়িতে খুব
অল্প ব্যয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ
রঙের ছায়া যুক্ত
করতে ঘরে এ
ফুলগুলো আনতে পারেন। এগুলো
একদিকে আপনার ঘর
রাঙিয়ে তুলবে, অন্যদিকে
ঘরে বসন্তের হাওয়ায়
ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে
দেবে।
ভারী
কম্বল, লেপ ও
রেশমি গরম কাপড়গুলো
শীতের সময়ে বিছানায়
সেরা সঙ্গী হয়ে
ছিল। কিন্তু
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে
সঙ্গে এগুলোর প্রয়োজন
ফুরিয়ে আসছে।
এজন্য বিছানাজুড়ে ছড়িয়ে
থাকা লেপ, কম্বল
পরিবর্তনের
পাশাপাশি বালিশ ও
বিছানার কাভারেও পরিবর্তন
নিয়ে আসুন।
বালিশ ও বিছানার
কাভার পছন্দের ক্ষেত্রে
বসন্তকালীন
চেহারা আনতে তুলা,
সিল্ক বা উলের
হালকা ও উজ্জ্বল
রঙ পছন্দে
রাখুন।
বসার
ঘরে দেশী আসবাবের
সঙ্গে ঘরের কর্নারে
রাখতে পারেন প্রকৃতির
ছোঁয়া বেত অথবা
বাঁশের ল্যাম্পশেড।
বারান্দায় রাখতে পারেন
বেতের আরামদায়ক চেয়ার। দেয়ালে
টানাতে পারেন মাথাল,
বিভিন্ন ওয়ালম্যাট, কাগজের
তৈরি ফুল ইত্যাদি। খাবারের
টেবিলে রাখা যেতে
পারে মাটির থালা,
বাটি, গ্লাস, মগ
ইত্যাদি। এগুলোয়
ফুটে উঠবে দেশীয়
আমেজ। আপনার
ঘরের ফ্লোরে বিছাতে
পারেন মাদুর, শীতলপাটি
কিংবা শতরঞ্জি।
আজকাল বাজারে মাটি, বাঁশ বা বেতের তৈরি অনেক ধরনের শোপিস পাওয়া যায়। সেগুলো দিয়েও সাজাতে পারেন আপনার অন্দরমহলের দেয়ালগুলো। ঘরের কোণে অথবা সিঁড়িতে মাটির বড় পাত্রে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাতে রেখে দিতে পারেন মোমবাতি অথবা প্রদীপ। সন্ধ্যায় অতিথিদের আসার সময় জ্বালিয়ে রাখুন রঙ-বেরঙের মোমবাতি। দেখবেন মোমের আলোয় পাল্টে যাবে আপনার ঘরের পরিবেশ।
বসন্তের
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি
ধুলা-নোংরাও একটু
বেশি হয়।
যদিও বসন্তের ধুলা
পরিষ্কারের
সময় এখনো আসেনি। আপনি
যদি বসন্তজুড়ে ধুলা
মোকাবেলা করতে চান,
তাহলে ধুলার বিপক্ষে
সফল হতে আপনার
একটি যুক্তিসংগত পরিকল্পনা
করা উচিত।
এক্ষেত্রে আপনি আপনার
ছুটির দিন ঘিরে
পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন। সপ্তাহে
এক বা
দুদিন পুরো বাড়ি
পরিষ্কারের
বিষয়টি মাথায় রাখুন। আর
যদি বাড়িতে শিশু
থাকে বা কয়েক
মাসের মধ্যে শিশু
জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা
থাকে, তাহলে ঘর
পরিষ্কারে আলাদাভাবে গুরুত্ব
দিন।
এগুলোর
সঙ্গে বসার ঘর
বা বেডরুমে
হলদে সবুজ রঙের
ফুলদানি ব্যবহার করতে
পারেন। নতুন
এ মৌসুমে
ঘরে ব্যবহার করা
গ্লাস, মগ, কলমদানি,
টব ইত্যাদি
ছোট জিনিসপত্রেও সতেজতার
ছাপ থাকা ভালো। প্রাকৃতিক
ফুল ছাড়াও বনসাই
ও ক্যাকটাসজাতীয়
গাছ ঘরে প্রাকৃতিক
পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য
করে।
আর
একদিন পরেই পালিত
হবে বাঙালির বসন্ত
উত্সব। এ
উত্সব উপলক্ষে ঘরটা
সুন্দর করে সাজিয়ে
তুলতে পারলে শরীর
ও মনে
আসবে সতেজতার অনুভূতি। তাছাড়া
প্রতিটা উত্সবে ঘর
সাজানোটা যেন বাঙালির
এক ধরনের
ঐতিহ্য।
সূত্র:
ফোর্বস





