মনোযোগ সহকারে ও আয়েশি ভঙ্গিতে বই পড়ার সুযোগ পান না বলে অনেকেই নানা কারণ দেখান ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে একটি অজুহাত পৃথিবীব্যাপী বেশ জনপ্রিয়, তাহলো ‘আমার যদি শুধুই একটি ভালো চেয়ার থাকত’। মানে কারো যদি একটি ভালো পড়ার চেয়ার থাকে, তাহলে সে তাতে বসে ইচ্ছেমতো বই পড়তে পারত। আসলে স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি ভালো চেয়ারই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের উপস্থিতি প্রয়োজন। কেননা যে জায়গায় বসে বই পড়া হচ্ছে, তা যদি পাঠকের রুচির সঙ্গে মানানসই ও আপন মনে না হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তিনি বই পড়ায়ও মনোযোগ দিতে পারবেন না। এমনসব মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা সমাধানে বাড়ির মধ্যে বই পড়ার উপযোগী একটি মনোরম কক্ষের বিকল্প নেই। আজকের আয়োজনে নজর দেয়া যাক এমন কিছু বিষয়ের ওপর, যার সংযোগে গড়ে তোলা সম্ভব নীরবে নিশ্চিন্তে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়ার উপযোগী একটি কক্ষ।
আরামদায়ক চেয়ার
আপনি যে কক্ষে বই পড়বেন, সেখানে এমন একটি জুতসই ও আরামদায়ক চেয়ার রাখুন, যা বাড়ির অন্য আসবাবের চেয়ে অনেক বেশি স্বাতন্ত্র্য ও ভিন্ন ধরনের হয়। একই সঙ্গে তাতে বসে পড়ার সময় আরামবোধও করেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অন্য সবকিছুর চেয়ে আলাদা হলেও চেয়ারটিতে যেন থাকে আভিজাত্য, ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহ্যের পরশ।
নীরব শান্ত জায়গা
বই পড়ার কক্ষের চারপাশে যদি সারাক্ষণ কোলাহল লেগে থাকে, তাহলে বই পড়ার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটবেই। এজন্য বই পড়ার জন্য জায়গা বেছে নেয়ার আগে নীরব, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ আছে কিনা তা নিশ্চিত করে নিন।
বিকল্প পড়ার জায়গা
যদি কোনো কারণে আপনার নিজস্ব গ্রন্থাগার না থাকে, তাহলে আপনার পড়ার স্থানটি বাড়ির অন্য অংশ থেকে একটু আলাদা করুন। এক্ষেত্রে বাছাই করা জায়গাটির যেখানে চেয়ার থাকবে, তার নিচে একটি গালিচা রাখতে পারেন। যদি সম্ভব হয় দেয়ালেও একটু বাহারি রঙ কিংবা ডিজাইন করে নিতে পারেন।
পর্যাপ্ত আলো
ভালোভাবে পড়াশোনার অন্যতম প্রধান শর্ত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। পড়ার জায়গা যদি অন্ধকার হয়, তাহলে বই তো ঠিকমতো পড়াই যাবে না, সঙ্গে চোখেরও মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে এর মানে এও নয়, অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো রাখতে হবে। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন আলো না রাখা ভালো। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যে জায়গায় বই রেখে পড়া হবে, ঠিক সেখানে একটি টেবিল ল্যাম্প দিয়ে দিন। সম্ভব হলে এমন জায়গায় পড়ার টেবিলটি রাখুন, যেখানে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত আলো আসে।
সাইড টেবিল
পড়াশোনার সময় অনেকের চা, কফি পানের অভ্যাস আছে। সেক্ষেত্রে চা-কফির পেয়ালা যদি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় না রাখা হয়, তাহলে দুর্ঘটনাক্রমে তা পড়ে যেতে পারে। এতে শুধু ফ্লোর নষ্ট হবে না, বইয়েরও ক্ষতিসাধন হতে পারে। এজন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পড়ার চেয়ারের পাশে একটি সাইড টেবিল রাখা এবং তাতেই প্রয়োজনীয় টুকটাক জিনিস রাখুন।
শীতের কাপড়
শীতের সময় পড়তে গেলে অনেকের এমনিতেই আলসেমি লাগে। তার ওপর যদি শীতের মাত্রা বেশি থাকে, তাহলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর সমাধানে শীতবস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যে চেয়ারে বসে পড়ছেন, সেখানে অবশ্যই একটি কম্বল বা চাদর রাখুন।
গান শোনার ব্যবস্থা
অনেকেই আছেন যারা পড়ার সময় গান শুনতে ভালোবাসেন। কেউবা আবার পছন্দের গান শুনলে পড়ায় পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন। তারা পড়ার ঘরের উপযুক্ত একটি জায়গায় মিউজিক সিস্টেম রাখতে পারেন।
সূত্র: ডেকর এইড





