বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর শখ কম বেশি সবার থাকে। কিন্তু যারা অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন, তাদের জন্য বিষয়টি বেশ ভাবনার। কারণ এ ধরনের বাসায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস কম। এছাড়া বেশি পরিমাণে মাটি-পানি দেয়ার সুযোগও নেই। ফলে সব প্রজাতির গাছ এ ধরনের বাড়িতে বেড়ে উঠতে পারে না। অ্যাপার্টমেন্টে কোন গাছগুলো লাগানো যাবে, তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন—

রেক্স বেগোনিয়া নামের লাল, বেগুনি রঙের ফুলটির সঙ্গে মোটামুটি সবার পরিচয় আছে। গোলাপি, পার্পল ও স্মোকি সবুজ রঙ মিশ্রিত ফুলটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। উজ্জ্বল রঙের হওয়ায় এটি আপনার বাড়িতে উজ্জ্বল ভাব নিয়ে আসবে। এগুলো অ্যাপার্টমেন্টে লাগানোর উপযোগী গাছ। খুব বেশি যত্ন বা উপাদানের প্রয়োজন নেই। হালকা আলো, একটু পানি ও সার হলেই এরা টিকে থাকতে পারে।

বাড়ি বা ঘরের সাজে অর্কিডের তুলনা হয় না। ফুলটি সাধারণে অনন্য। অর্কিড নানা প্রজাতির আছে। রঙেও রয়েছে বৈচিত্র্য। তবে সব প্রজাতি অ্যাপার্টমেন্টে লাগানোর উপযুক্ত নয়। এক্ষেত্রে মথ অর্কিড বাছাই করতে পারেন। ছোট জায়গায় অন্যরকম একটা মাত্রা এনে দেবে গাছগুলো। অন্য গাছের তুলনায় এ গাছের পার্থক্য হলো এগুলো মাটিতে বেড়ে ওঠে না। নুড়ি ও একটু পানিভর্তি ট্রে বা পাত্রে রাখলেই চলে। ঘরের দক্ষিণ অথবা পূর্ব দিকের জানালায় রেখে দিলে বহাল তবিয়তে বেড়ে উঠবে গাছগুলো।

অর্কিডের মতো ক্যাকটাসও অ্যাপার্টমেন্টে লাগানোর উপযোগী। বাড়ি কিংবা অফিসে দু-একটা ক্যাকটাস থাকবে না, এটা ভাবাই যায় না। পড়ার টেবিলেও আমরা ছোট ছোট ক্যাকটাস গাছ সাজিয়ে রাখি। এসব গাছের তেমন পরিচর্যার দরকার পড়ে না। একটা পাত্রে মাটি নিয়ে পুঁতে দিলেই হয়। সঙ্গে কিছু নুড়ি পাথর রাখলে দেখতে ভালো লাগে। প্রতিদিন পানির দরকার হয় না। মাঝে মধ্যে দিলেই চলে। ক্যাকটাসের অনেক প্রজাতি রয়েছে। তার মধ্যে ক্রিসমাস ক্যাকটাসটি বেছে নিতে পারেন। এটাতে রঙিন ফুল ফোটে। বাথরুম বা রসুই ঘরের জানালায় রেখে দিন।

হাউজপ্লান্টের তালিকায় সবার আগে ফিলোডেনড্রনকে রাখা হয়। সবুজ রঙের হার্ট আকৃতির গাছটি যেকোনো পাত্রে লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা যায়। খুব বেশি যত্নের দরকার পড়ে না গাছগুলোর। পানি ও হালকা আলোয় বেড়ে ওঠে এসব গাছ। প্রতিদিন পানি না দিলেও হবে। এ গাছগুলো দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকে।

স্পাইডার প্লান্ট অ্যাপার্টমেন্টে লাগানোর জন্য খুবই কমন একটি গাছ। ১৯৭০-এর দশক থেকে এ প্রজাতির গাছ সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। এসব গাছের জন্য বেশি পানি লাগে না। এমনকি কৃত্রিম আলোতেও গাছগুলোর বেড়ে উঠতে সমস্যা হয় না। ঘরের এক কর্নারে রেখে দিতে পারবেন। আবার বারান্দার জানালায় ঝুলিয়েও রাখতে পারেন।

অ্যাপার্টমেন্টে এমনিতেই আলো-বাতাস কম। তাই গাছ বাছাইয়ে অধিক সতর্ক থাকতে হয়। কম আলো-বাতাসে বড় হওয়া গাছের মধ্যে ফিডল লিফ ফিগ অন্যতম। প্রায়ই এ গাছগুলো অফিস বা ঘরের টেবিলে ছোট পাত্রে রাখতে দেখা যায়। সবুজ রঙের বড় বড় পাতার এ গাছ অল্প যত্নেই সুন্দর বেড়ে ওঠে। এ গাছকে হাউজপ্লান্টের ক্ষেত্রে বন্ধু মনে করা হয়। শোয়ার ঘরেও এগুলো রাখা যায়। একটু মাটি আর পানি পেলেই খুশি এ-জাতীয় গাছ।

এগুলো ছাড়া এয়ার প্লান্ট, ইংলিশ আইভি, জেড প্লান্ট, বার্ডস নেস্ট ফার্ন গাছগুলো অ্যাপার্টমেন্টে লাগানোর উপযুক্ত।

 

সূত্র: দ্য স্প্রুস