ভবঘুরে মনটা শেষবেলায় ঘরে ফিরলেও যেন বাইরের জগত্টাকে নিয়ে আসে দরজার এপাশে। তাই স্বভাবে একটু প্রাণবন্ত ও উচ্ছল যারা, তাদের কাছে বোহেমিয়ান স্টাইল দারুণ জনপ্রিয়। বোহেমিয়ান শৈলীর মূল দিক হলো প্রাণবন্ততা। সেটা কেবলই পোশাক-আশাকে নয় বরং শোয়ার ঘরটাকেও সাজাতে পারেন
বোহেমিয়ান শৈলীতে।
যখনই আপনি অন্দরে বোহেমিয়ান লুক আনার চেষ্টা করবেন, তখনই ঘরের ভেতরটা পরিণত হবে স্বাধীনচেতা আত্মার এক আশ্রয়স্থলে। সাদামাটা শোয়ার ঘরে প্রাণের ছোঁয়া আনতে বর্ণিল রঙ, উজ্জ্বল বাতিসহ আরো কিছু যোগ করতে পারেন। বোহেমিয়ান শৈলীতে ঘর সাজানোয় বেশ কয়েকটি বিশেষ দিক রয়েছে—
হেডবোর্ড
বোহেমিয়ান শৈলীতে শোয়ার ঘর সাজাতে প্রথমেই বদলে ফেলতে হবে খাটটি। খাটের সাধারণ কাঠের হেডবোর্ডের পরিবর্তে বরং অ্যান্টিক হেডবোর্ড বেশি জুতসই। সবচেয়ে ভালো হয় খাট যদি হয় পায়াবিহীন। একটু উঁচু ম্যাট্রেস দিয়ে মেঝেতে বিছানা পাতা হলে আরো ভালো। সেক্ষেত্রে হেডবোর্ডের পরিবর্তে খাটের মাথার দিকটায় একদম উপরের দেয়াল থেকে খাটের প্রশস্ততা বরাবর বর্ণিল এমব্রয়ডারি করা কাপড় নামিয়ে দেয়া যায়। তাছাড়া মাথার দিকের দেয়ালে ট্যাপেস্ট্রি সেট করে দেয়া যেতে পারে।
বই ও শিল্পকর্ম
বই জ্ঞানের ভাণ্ডার হলেও বোহেমিয়ান ঘরে আপনার বইগুলো শিল্প হয়ে উঠতে পারে। শোয়ার ঘরকে রঙিন ও প্রাচুর্যপূর্ণ করে তুলবে আপনার সংগ্রহের বইগুলো। এজন্য আপনি বিছানার হেডবোর্ডের দুইপাশে লম্বা দুটি বুক শেলফ স্থাপন করে সেখানে সাজিয়ে তুলতে পারেন রঙবেরঙের বইয়ের বাহার। মাঝখানে যুক্ত করতে পারেন বিভিন্ন শৈলী ও নকশার আর্ট ওয়ার্ক। এক্ষেত্রে আপনি হাতে আঁকা শিল্পকর্ম বাছাই করতে পারেন। বোহেমিয়ান শয়নকক্ষ সাজাতে বাজারে আপনি প্রচুর আকর্ষণীয় চিত্রকলা, অঙ্কন ও ছবি পাবেন।
তাজা ফুল
প্রতিটি বোহেমিয়ান শয়নকক্ষ তাজা ফুল ডিজার্ভ করে। ফুলের ম-ম সুবাসে পুরো ঘরে তৈরি হয় এক অন্য রকম আবেশ। তাই কেন আপনি নিজের ঘুমের জায়গায় দুর্দান্ত রঙ ও সুবাসের ফুল যুক্ত করবেন না? তাজা ফুলের ঘ্রাণ মাতিয়ে দেবে আপনার অন্দরের পরিসর। আর ফুলের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন বাহারি রঙ আর রকমারি সব ফুলদানি। ক্রিস্টাল, কাচ, সিরামিক, ফাইবার, শক্ত প্লাস্টিকসহ কিনতে পারেন বাঁশ, কাঠ, বেত বা মাটির ফুলদানি।
রঙের খেলা
বোহেমিয়ান ঘরের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো বাহারি রঙের খেলা। ঘর হতে হবে খুবই আরামদায়ক, যেখানে বিছানায় লুটোপুটি খাবে আলস্য। বোহেমিয়ান শোয়ার ঘরের রঙ সাদা বা ঘিয়ে
হওয়াই সবচেয়ে ভালো, যেখানে রঙের খেলা খেলবে রঙিন কাপড়, পর্দা, বিছানার চাদর, কার্পেট, কুইল্ট, বাতি আর গাছ। তবে দেয়ালে গাঢ় রঙের ব্যবহার যে একেবারেই নেই তা নয়, ঘরের একটা পাশ গাঢ় রঙ করা যেতে পারে বিশেষ কোনো সংযোজন থাকলে।
অনেক বালিশ
অধিকাংশ সাজসজ্জার শৈলীতে বালিশের সংখ্যা একটু বেশিই থাকতে হয়। আর বোহেমিয়ান হলে তো কোনো কথাই নেই, সেখানে বালিশের নেই কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা। বোহেমিয়ান শৈলীতে ঘর সাজাতে কোনো নিয়মেরই তোয়াক্কা থাকে না। প্রচলিত নিয়মগুলো ভঙ্গ করতেই বোহেমিয়ান। তবে খেয়াল রাখবেন অনেক বালিশের সংখ্যার পাশাপাশি বালিশের কাভারে যেন রঙবেরঙের ছাপ থাকে।
প্রাণের সবুজ
সবুজ গাছ যেকোনো স্থানের চেহারা পাল্টে দিতে পারে নিমিষেই। গাছের প্রতি অগাধ ভালোবাসা যদি থেকেই থাকে, তবে বোহেমিয়ান শৈলীতে ঘর সাজাতে যুক্ত করতে পারেন গাছ। বিছানার পাশে, জানালার ধারে, বুকশেলফে সাজিয়ে রাখুন ইনডোর প্লান্ট। ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন শৈলীর যত খুশি তত গাছের টব।
এলোমেলোই যখন ধাঁচ
বোহো বেডরুমে তথাকথিত আসবাব না ঢোকানোই ভালো। বাড়িতে কাঠের বাক্স থাকলে তার ভেতরেই বইপত্র সাজিয়ে রাখা যাবে। বাঁশ দিয়ে বুকশেলফ বানিয়ে ফেলতে পারেন।
আশপাশে দেয়ালে ছোট-বড় মিলিয়ে টাঙিয়ে দেয়া যায় ছবির ফ্রেম।
আরামদায়ক হতে হবে
বিছানার সামনে লম্বা করে বিছিয়ে দিন কয়েক রঙের উল দিয়ে বোনা শতরঞ্জি। বসার জন্য বুকশেলফের একপাশে চওড়া শতরঞ্জি বিছিয়ে উপরে কয়েকটি কুশন ফেলে রাখা যায়। এতে করে যেন শুয়ে-বসে যেভাবে খুশি বই পড়া যায়। আর যেভাবে আপনি আরামদায়ক ও মজাদার একটি স্বাদ তৈরি করতে পারবেন, সেটাই হতে পারে আপনার ঘুমানোর দুর্দান্ত একটি জায়গা। সেটা যতই উচ্ছৃঙ্খল ডিজাইন বা ভবঘুরে মনে হোক না কেন, সেটাই হবে বোহেমিয়ানদের স্বর্গ।
সূত্র: দ্য স্প্রুস





