পছন্দ হোক আর না হোক, চারপাশে শীত বইছে পুরোদমে। কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে কোনোদিন মধ্যভাগে সূর্যের উঁকি থাকে, কোনোদিন একেবারেই থাকে না। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে সবাই চান দ্রুত ঘরে ফিরতে। তবে বাড়ির জানালা-দরজা বন্ধ করে ঠাণ্ডা বাতাস ঠেকানো গেলেও শীতে স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতরে থাকে কনকনে ঠাণ্ডা। তাই দরকার ঘরকে উষ্ণ রাখা। কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করে আপনি ঠাণ্ডা দূর করে ঘরকে উষ্ণ আরামদায়ক করে তুলতে পারবেন
যুক্ত করুন ভারী-মোটা পর্দা
গরমের দিনে আপনি পাতলা ও হালকা রঙের জানালার পর্দা ব্যবহার করলেও শীতের দিনে এসে ওই পর্দা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এগুলো বাইরের শীতল তাপমাত্রা ও বায়ুকে বাধা দিতে পারে না। এতে খুব সহজেই আপনার ঘর ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে। এজন্য এগুলোর পরিবর্তে বাইরের তাপমাত্রা ও বায়ু প্রতিরোধী ভারী-মোটা পর্দা লাগিয়ে নিন। মোটা পর্দা ঘরের ভেতরের বাতাসকে উষ্ণ ও শীতল বাতাসকে বাইরে রাখতে সহায়তা করে। তার পরও যদি মনে হয় জানালার ফাঁকফোকর দিয়ে বাইরে থেকে ঠাণ্ডা ঢুকছে, তাহলে রাতে প্লাস্টিক দিয়ে পুরো জানালা মুড়ে দিন।
বন্ধ রাখুন দরজা
দরজা বন্ধ রেখে আপনি কক্ষগুলো গরম রাখতে পারেন। আপনি যদি নির্দিষ্ট একটা ঘরে হিটার ব্যবহার করেন, তাহলে দরজা খোলা রাখলে তাপ বের হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া দরজা বন্ধ রেখে কক্ষে থাকলেও কক্ষের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এজন্য আপনি দরজায় ডোর ক্লোজার লাগিয়ে নিতে পারেন।
দিনের আলোয় পর্দা সরিয়ে দিন
শীতের সময় সূর্য প্রাকৃতিক হিটার হিসেবে কাজ করে। তাই এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। দিনের আলোয় জানালা খুলে পর্দা সরিয়ে ঘরে আলো প্রবেশের সুযোগ করে দিন। সূর্যের আলো ঘরের ঠাণ্ডা বায়ু ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করে ঘরকে উষ্ণ করে তোলে। তবে মনে রাখবেন, সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জানালা ও পর্দা লাগিয়ে দিতে হবে। তাহলে রাতেও ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি কমবে না। এছাড়া জানালার আশপাশে রোদ পড়ার স্থানে বড় একটি আয়না বসিয়ে দিতে পারেন। আয়নার প্রতিফলিত তাপে ঘর আরো বেশি উষ্ণ হয়ে উঠবে।
স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করতে পারেন
ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। শীতকালে ঘরকে উষ্ণ রাখার ক্ষেত্রে রাইট থার্মোস্ট্যাট ভালো কাজ করে। ঘুমানোর সময় ও বাইরে থেকে বাড়িতে প্রবেশের পর গরম তাপমাত্রার জন্য এ থার্মোস্ট্যাট আপনার স্বাচ্ছন্দ্য বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে ঘরের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির বেশি পরিবর্তন করা উচিত নয়, এতে আপনার বিদ্যুৎ খরচ বেশি বেড়ে যেতে পারে।
দেয়াল ঢেকে দিতে পারেন
ঘরের দেয়াল বাইরের ঠাণ্ডা রোধ করতে পারে না। এজন্য ঘর গরম করলেও বাইরের ঠাণ্ডা দেয়ালের মাধ্যমে ভেতরে এসে ঘরকে শীতল করে দেয়। এজন্য দেয়ালে কাপড় বা কাগজ লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে ঘরের ভেতরের গরম বাইরে যেতে বা বাইরের ঠাণ্ডা ভেতরে আসতে পারবে না। এক্ষেত্রে আপনি গিফট শপগুলোয় বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের কাগজ কিনতে পারবেন।
মেঝেতে কার্পেট
শীতের এ সময় মেঝে খুব বেশি ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। মেঝের এ ঠাণ্ডা ঘরকেও শীতল ও স্যাঁতসেঁতে করে তোলে। তীব্র ঠাণ্ডায় মেঝেতে ঘরের মধ্যে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে ওঠে। এজন্য মেঝেতে কার্পেট বা মাদুর বিছিয়ে নিন। এগুলো মেঝে থেকে ঠাণ্ডা উঠতে বাধা দেয়। এতে ঘরের মধ্যে চলাফেরা করা সহজ হয় এবং ঘরও গরম থাকবে।
স্টিলের পাইপগুলো কাপড়ে জড়িয়ে দিন
ঘরে থাকা বিভিন্ন তৈজসপত্রে স্টিলের হাতল থাকে, যা শীতকালে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এটা ঘরের পরিবেশকে ঠাণ্ডা করে দিতে সহায়তা করে। এজন্য জিনিসপত্রের স্টিলের হাতলগুলো কাপড়, টেপ বা কাগজে জড়িয়ে দিলে কাজ করতেও সুবিধা হবে, আবার সেটা আপনার ঘরকেও ঠাণ্ডা করবে না।
রান্না করুন সন্ধ্যার পর
শীতের সময় সকাল, সন্ধ্যা বা রাতে রান্নাবান্নার কাজ চালাতে পারেন। রান্নার তাপও আপনার ঘরকে উষ্ণ রাখতে পারে। ওই সময়গুলোয় যেহেতু রান্নাঘর ব্যতীত অন্য ঘরগুলো জানালা-দরজা বন্ধ থাকে, তাই উষ্ণতা বজায় থাকবে। তবে মনে রাখতে হবে, রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন রান্নাঘরের জানালা বা ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
বায়ুর ফিল্টার ও ভেন্টিলেটর পরিবর্তন
আপনার বাড়ির বায়ুর ফিল্টার ও ভেন্টিলেটরগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কেবল অ্যালার্জেন হ্রাস করে না, বরং এগুলো বায়ুর মানকেও বাড়িয়ে তোলে। ফিল্টার ও আধুনিক ভেন্টিলেটরগুলো শীতল বায়ুকে গরম করতে পারে, যা আপনার হিটার ব্যবহার হ্রাস করে খরচ কমাতে সহায়তা করে।
সূত্র: বেস্টলাইফ অনলাইন





