শাহীন খান
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
জেমকন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টস লিমিটেড (মীনা বাজার)
এটা ঠিক বর্তমান পরিস্থিতিতে সব সুপারশপেরই বিক্রি অনেক বেড়েছে। মার্চে আমাদের মীনা বাজারের বিক্রি ৭০ শতাংশ বেড়েছে। শুরুতে মানুষ যখন একসঙ্গে অনেক কেনাকাটা করছিল, তখন আমরা সরবরাহ দিতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটা ঠিক হয়ে গেছে। বাড়তি ক্রেতাদের সেবা দিতে আমরা অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ দিয়েছি। মূলত আমাদের নিয়মিত ক্রেতাদের পাশাপার্িশ নতুন বেশকিছু ক্রেতাও যোগ হয়েছে, যারা আগে কাঁচাবাজার থেকে পণ্য কেনায় অভ্যস্ত ছিলেন। নতুন করে ক্রেতা যোগ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক। করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা থেকে উত্তরণের পরও যদি এসব ক্রেতা সুপারশপ থেকেই কেনাকাটা অব্যাহত রাখেন, তাহলে সেটি সুপারশপ ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। আমরাও চেষ্টা করছি ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য। পাড়ার মুদি দোকান কিংবা বাইরের কাঁচাবাজারে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পণ্যের দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা যায়। কিন্তু সুপারশপগুলোতে কিন্তু দাম বাড়েনি। আমরা নিয়মিতভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ বাজারের সঙ্গে মীনা বাজারের পণ্যের দামের ব্যবধানের বিষয়ে ক্রেতাদের অবহিত করছি। কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতারা বাজারের চেয়ে সুপারশপগুলো থেকে কম দামে পণ্য কিনতে পারছেন। কিন্তু মোড়কজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বাইরের তুলনায় সুপারশপে দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে সুপারশপ থেকে মোড়কজাত পণ্য কিনলে এর ওপর ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হয়। সুপারশপের বিক্রি বাড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বাধা।
গত ১০ বছর ধরেই সুপারশপ থেকে মোড়কজাত পণ্য কিনলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে। প্রথমে এটি দেড় থেকে ২ শতাংশের মতো ছিল। ২০১৩ সালে এটি বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হয়। পরে এটি আরো বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। যারা আমাদের নিয়মিত ক্রেতা, তারা এ ভ্যাটের বিষয়ে অভ্যস্ত। কিন্তু নতুন ক্রেতা যারা আগে কখনই সুপারশপে আসতেন না কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আসছেন, তারা এ ভ্যাটের বিষয়ে আমাদের প্রশ্ন করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে অতিরিক্ত ভ্যাটের কারণে নতুন ক্রেতারা আগের মতোই সুপারশপ বিমুখ হয়ে যেতে পারেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বর্তমানে আমরা একটি সংকটকালীন সময় পার করছি। এ পরিস্থিতিতে সুপারশপ থেকে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় স্থগিত করা যেতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন সরকার ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সাময়িকভাবে হলেও ক্রেতাদের স্বস্তির জন্য আমাদের অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট স্থগিতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।
সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে এমনটা ভেবেই কিন্তু আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। চাল, ডাল, আটাসহ একেবারেই মৌলিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেগুলো রয়েছে, সেগুলো আগামী দুই মাস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা ক্রেতাদের সরবরাহ করতে পারবে। তবে পচনশীল পণ্য যেমন সবজি, মাছ, মাংস এগুলো বড় আকারে মজুদ রাখার মতো সক্ষমতা কারোরই নেই। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হলে পচনশীল পণ্য সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। একটি বিষয় লক্ষণীয় যে এ সংকটকালীন মুহূর্তে সব সুপারশপই কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে পণ্য সরবরাহে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছে। সবাই তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ক্রেতাদের সেবা দিচ্ছে। দুর্যোগকালে আমরা যে সরকারের সহায়ক হতে পারি সেটা কিন্তু এরই মধ্যে সুপারশপগুলো দেখিয়েছে।
সুপারশপগুলোর ভবিষ্যৎ ভালো দেখছি। কারণ হচ্ছে দেশে নগরায়ণ বাড়ছে, সেই সঙ্গে মানুষের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো আর কাঁচাবাজারে গিয়ে পণ্য কেনার মতো সময় মানুষের কাছে নেই। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুপারশপ থেকে পণ্য কেনার প্রবণতাও বাড়বে।





