মুর্তজা জামান

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

ইউনিমার্ট লিমিটেড

দেশে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এ কারণে আমাদের বিক্রিও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। ৮ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আমাদের বিক্রি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হোম ডেলিভারি দেয়া শুরু করেছি।

আমাদের নিয়মিত ক্রেতা যারা রয়েছেন তারা কেনাকাটার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে বেশকিছু ক্রেতা যোগ হয়েছেন। যারা আগে সাধারণ কাঁচাবাজার থেকেই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে তারা কাঁচাবাজারের পরিবর্তে সুপারশপকে বেছে নিয়েছেন।

যেসব ক্রেতা আগে কখনই সুপারশপে আসতেন না, তারাও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখানে আসছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেও যদি এসব ক্রেতা সুপারশপ থেকেই কেনাকাটা অব্যাহত রাখেন তাহলে সেটি আমাদের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এক্ষেত্রে সুপারশপের কেনাকাটার ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাটের বিষয়টি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপারশপ থেকে আপনি যেকোনো প্যাকেটজাত পণ্য কিনলেই এর ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের যেসব ক্রেতা বর্তমানে সুপারশপে আসছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে অতিরিক্ত ভ্যাটের কারণে তারা আমাদের এখানে আর আসবেন না।

ধরুন, আপনি বাইরের সাধারণ কোনো দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে একটি সাবান কিনলেন। এই একই সাবান যদি আপনি সুপারশপ থেকে কেনেন তাহলে আপনাকে ১০০ টাকার সঙ্গে আরো ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫ টাকা ভ্যাট হিসেবে দিতে হবে। একই পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ দোকান আর সুপারশপের মধ্যে এ দামের ব্যবধানের কারণে ক্রেতারা সুপারশপ থেকে কেনাকাটায় নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বর্তমানে দেশে সুপারশপের বাজারের আকার ৩ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর ১৮ শতাংশ হারে বাজার বাড়ছে। আমাদের পরিসংখ্যান অনুসারে সুপারশপ থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যদি প্রত্যাহার করা হয় তাহলে সুপারশপগুলোর বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ বাড়বে। আর স্বাভাবিকভাবেই সুপারশপের বিক্রি বাড়লে এখান থেকে সরকারের রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে। তাছাড়া আরেকটি বিষয়, আমরা বর্তমানে যেসব বিদেশী পণ্য বিক্রি করছি, সেগুলো কিন্তু সরাসরি আমদানি করতে পারছি না। তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কেনার কারণে আমাদের ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। যদি সরকার আমাদের সরাসরি বিদেশ থেকে পণ্য আনার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা ক্রেতার রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানের চেয়ে কম দামে মানসম্পন্ন পণ্য গ্রাহককে দিতে পারব। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

মানুষের জীবনযাত্রার মান যত উন্নত হবে তাদের মধ্যে সুপারশপ থেকে কেনাকাটার প্রবণতাও তত বাড়বে। তবে আমাদের মুনাফা মার্জিন কিন্তু অনেক কম। দেশে সুপারশপগুলো কীভাবে চলবে সেজন্য কিন্তু কোনো গাইডলাইন নেই। তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সুপারশপগুলোয় অভিযান চালিয়ে থাকে। অভিযান কিংবা পণ্যের মান নিশ্চিতের বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের দাবি হচ্ছে সরকার যাতে সম্ভাবনাময় ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে বিবেচনা করে সুপারশপগুলোর জন্য একটি গাইডলাইন করে দেয়। এ গাইডলাইনে সরকারের একটি সংস্থাকে সুপারশপগুলোকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। আর সর্বোপরি মানুষ যাতে সুপারশপ থেকে আরো বেশি কেনাকাটায় উৎসাহী হয় সেজন্য আমরা অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।