২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২২৩ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছর এককভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে ১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা ছিল।
গতকাল জাতীয় সংসদে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবার কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রথমবারের মতো ডিজিটালি সংক্ষিপ্ত আকারে বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়। আসন্ন অর্থবছরের বাজেট গতানুগতিক কোনো বাজেট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশকে যুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত ‘রূপকল্প: ২০২১’ বাস্তবায়নে বিগত এক দশকে দারিদ্র্য বিমোচনসহ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক অনুকরণীয় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুন পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৮ হাজার ৯৭৫ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন, ২ হাজার ৪টি ইউনিয়নে ওয়াই-ফাই রাউটার স্থাপন এবং ১ হাজার ৪৮৩টি ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল অসমতা হ্রাসে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও শিল্পাঞ্চলে ৫ হাজার ৮৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং ১৫০টি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা এসব সেন্টারের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সারা দেশে ১ হাজার ১৮৪টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আইটি ও আইটিএস-বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ই-গভর্নমেন্ট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে তথ্য-উপাত্ত ডিজিটালি আদান-প্রদানের নিমিত্তে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি এবং রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৮টি হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি হাই-টেক পার্কের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকিগুলোর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাইবার ঝুঁকি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ প্রণয়ন এবং ওই আইনের নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় নতুন সংস্থা হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠন করা হয়েছে। সর্বোপরি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারি, বেসরকারি ও একাডেমিয়া—এ তিন ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়ায় বিশদ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির আওতায় ১৮ হাজার তরুণ-তরুণীর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মাণাধীন পার্কসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী তিন বছরে ৫০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এরই মধ্যে চালু হওয়া হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কসমূহে ১৪ হাজার জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।





