সময়যন্ত্রে পরিভ্রমণ
করে ১৯৭০-এর
দশকের কেউ
যদি আজকের
এই বাংলাদেশে
এসে উপস্থিত
হন, তবে
তিনি হয়তো
কিছুতেই এ
দেশকে চিনে
উঠতে পারবেন
না। একটা
সময় বাংলাদেশকে
তলাবিহীন ঝুড়ির
সঙ্গে আখ্যায়িত
করেছিলেন জনৈক
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী,
কভিড পরিস্থিতির
আগে সেই
বাংলাদেশই প্রায়
৮ শতাংশ
প্রবৃদ্ধি অর্জনে
সক্ষম হয়।
অর্থনীতির প্রকৃত
খাতগুলোয়ও এ
ধরনের অগ্রগতি
দৃশ্যমান। কৃষির
ক্ষেত্রে (শস্য,
চাষাবাদ, মত্স্য,
গবাদিপশু ও
বনজ) আমি
এখানে গুরুত্ব
দেব। প্রথমত,
ক্ষেত্রগুলোয় উল্লেখযোগ্য
পরিবর্তন সাধিত
হয়েছে, যা
কিনা আগের
চেনা চেহারায়
আর নেই।
যদিও সার্বিক
অর্থে পুষ্টি
ও খাদ্যনিরাপত্তা
এখনো সম্পূর্ণভাবে
অর্জিত হয়নি।
বড় ধরনের
অগ্রগতি হয়েছে
চাল উৎপাদনের
ক্ষেত্রে। এই
প্রধান খাদ্যে
দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ
হয়েছে। মত্স্য
খাতে যেমন
আমূল পরিবর্তন
ঘটেছে, তেমনি
হাঁস-মুরগির
খামারের বদৌলতে
মাংস ও
ডিম উৎপাদন
বৃদ্ধির পাশাপাশি
দেশব্যাপী তা
ছড়িয়েও পড়েছে।
এগুলো অত্যন্ত
প্রশংসনীয় অগ্রগতি,
তবে প্রকৃতির
নিরন্তর ধাক্কার
ফলে পিছলে
পড়ার ঝুঁকিগুলোও
সত্য। ফলস্বরূপ,
দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি
এবং বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তির
পাশাপাশি মানুষের
দক্ষতার ওপর
ভিত্তি করে
সে সম্পর্কিত
পরিকল্পনা যদি
না করা
হয় তাহলে
অর্জনগুলো ধরে
রাখা এবং
তার ওপর
ভিত্তি করে
আরো এগিয়ে
যাওয়া সম্ভব
না-ও
হতে পারে।
২০ বছরের
মধ্যে উন্নত
দেশ হওয়ার
যে লক্ষ্যমাত্রা
রয়েছে, তা
সমন্বিত পদ্ধতিতে
ঝুঁকিগুলো মোকাবেলা
করার দিকে
যথাযথ মনোযোগ
দেয়ার আহ্বান
জানায়।
এখানে আমি
এসব বিষয়ের
কম-বেশি
ব্যাখ্যা প্রদানের
চেষ্টা করব।
এখানে যেহেতু
বেশকিছু বিষয়
রয়েছে, আমি
সংক্ষিপ্তভাবে এবং
পরিসংখ্যান এড়িয়ে
মোদ্দা কথাটা
বলার চেষ্টা
করব, যদিও
তা পুরোপুরি
সম্ভব হবে
না। অর্জনগুলোর
পাশাপাশি ব্যর্থতা
এবং সেসবের
কারণে যেসব
ঝুঁকি রয়ে
গেছে এবং
এর ফলে
ভবিষ্যতে অর্থাৎ
আগামী ৫০
বছরে কী
ঘটতে পারে
তা তুলে
ধরতে চেষ্টা
করব। আমি
জোর দেব
কৃষির ওপর,
তবে প্রয়োজনবোধে
এর পাশাপাশি
সামষ্টিক অর্থনীতি
এবং অন্য
খাতগুলোর সঙ্গে
কৃষির সম্পর্ক
নিয়েও বলার
চেষ্টা করব।
কৃষির ভূমিকা
বিষয়টিকে
গতানুগতিক মনে
হতে পারে,
তবুও পুনরোক্তি
করা ভালো
হবে। সব
দেশেই কৃষির
প্রধান কাজ
খাদ্য উৎপাদন।
দ্বিতীয় ধাপে
আসে আয়
ও কর্মসংস্থান,
যেগুলো ভীষণ
গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে
বিভিন্ন দেশে
সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে কৃষিতে
আয় ও
কর্মসংস্থান সংকুচিত
হয়েছে, বিষয়টি
বাংলাদেশের জন্যও
সত্য। মনে
রাখতে হবে,
এখানে আমি
কেবল আপেক্ষিক
অবদানের কথা
বলছি, সামগ্রিক
অবদানের পরিমাণ
কমেনি, বরং
বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও কয়েক
বছর আগে
একজন অর্থ
উপদেষ্টা প্রকাশ্যে
বিস্ময় প্রকাশ
করেছিলেন একথা
বলে যে
কৃষি খাত
নিয়ে সবাই
কেন এত
হইচই করছে,
যেখানে মোট
জিডিপিতে খাতটির
খুব একটা
অবদান নেই।
ওই ভদ্রলোক
হয়তো ভুলে
গেছেন, যে
খাবারের অভাবে
আমরা সবাই
অভুক্ত থাকব,
তা কিন্তু
কৃষি থেকেই
আসে এবং
এমন একটা
সময় ছিল
যখন কৃষি
কর্মসংস্থান ছিল
দেশের অর্ধেক
বা তারও
বেশি মানুষের
জীবিকার উৎস।
তাছাড়া কৃষি
খাত এখনো
কর্মসংস্থানের অন্যতম
বৃহৎ ক্ষেত্র।
কৃষির আরো
দুটি অবদান
রয়েছে। প্রধান
রফতানিযোগ্য পণ্য
হিসেবে কৃষিদ্রব্য
বৈদেশিক মুদ্রা
অর্জনের মাধ্যমে
পুঁজি-পণ্যের
পাশাপাশি অন্যান্য
প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য
আমদানিতে সক্ষমতা
অর্জন অনেক
দেশে প্রথম
পর্যায়ের উন্নয়নের
সূচনা করে।
পাকিস্তান আমলে
কাঁচামাল হিসেবে
পাট রফতানি
এবং পরবর্তী
সময়ে চিংড়ি
রফতানির মতো
ইতিবাচক কিছু
উদাহরণও এ
দেশে রয়েছে।
খাতটির অন্যতম
অপ্রত্যক্ষ অবদানের
মধ্যে রয়েছে
শিল্পের প্রধান
প্রধান কাঁচামাল
সরবরাহ করা।
পাটের কথা
আমাদের মনে
আসার কারণ
হচ্ছে, এটি
ছিল কৃষি
প্রক্রিয়াজাত শিল্পের
প্রাথমিক উদাহরণ।
এখনো কৃষিপণ্য
প্রক্রিয়াকরণ তৈরি
পোশাক খাতের
বাইরে শিল্পের
একটা বড়
অংশ।
এ নিবন্ধে
আমি মূলত
খাদ্য উৎপাদনের
বিষয়গুলোয় মনোনিবেশ
করব, পাশাপাশি
প্রাসঙ্গিক অন্য
কিছু বিষয়ও
তুলে ধরব।
পাঠককে শুধু
কৃষির পরিবর্তন
বা ভবিষ্যতে
কী ধরনের
পরিবর্তন হতে
পারে, এ
ধরনের বিষয়ের
মধ্যে সীমাবদ্ধ
না রেখে
কৃষকের অপরিবর্তিত
অর্থনৈতিক অবস্থা
নিয়েও আলোচনা
করতে চাই।
স্যার আজিজুল
হকের ‘ম্যান
বিহাইন্ড দ্য
প্লাউ’ বা
‘লাঙ্গলের
পিছনের মানুষ’
বইটি প্রকাশিত
হওয়ার পর
৮১ বছর
পার হয়ে
গেছে। এ
বইয়ে বর্ণনা
করা হয়েছে
বাংলার কৃষকের
দুর্দশার কথা,
বিশেষ করে
তাদের ঘাড়ে
জমিদারি ব্যবস্থার
জোয়াল, ব্রিটিশের
শোষণের ধারাবাহিকতায়
একবার নীল
চাষ ও
পরবর্তী সময়ে
পাট চাষে
বাধ্য করা
যেন ব্রিটিশদের
অধীনে থাকা
পাটকলগুলো স্বল্প
মূল্যে কাঁচামাল
সরবরাহের মাধ্যমে
অস্বাভাবিক মুনাফা
করতে পারে,
যা বাংলার
কৃষকদের ক্রমে
দরিদ্র করে
দেয়। ১৯৫০-এর
দশকের গোড়ার
দিকে জমিদারি
ব্যবস্থার সমাপ্তি
ঘটলেও বাজার
কৌশল ও
বিপণন ব্যবসায়ীদের
এজেন্টদের কারসাজি
কৃষকদের দরিদ্র
করেই রেখেছে,
প্রক্রিয়াটি এখনো
সতত চলমান।
কৃষি খাত:
গত পাঁচ
দশক
ফসল
একই
গতিতে না
হলেও গত
পাঁচ দশকে
বেশ কয়েকটা
ঘটনা ঘটেছে।
প্রথমে আলোচনা
করা যাক
কৃষি জিডিপি
ও প্রবৃদ্ধি
হার নিয়ে।
শস্যের ক্ষেত্রে,
১৯৭০-এর
দশকে চাল
উৎপাদন যেখানে
মোটামুটি ১২
মিলিয়ন টন
ছিল, পরবর্তী
সময়ে তা
বৃদ্ধি পেয়ে
হয় ৩৬
মিলিয়ন টন।
এখানে অনুঘটক
হিসেবে কাজ
করে কয়েকটি
বিষয়। তার
মধ্যে প্রথম
দিকে অন্যতম
ছিল গভীর
নলকূপ ও
ভূ-উপরস্থ
সেচ ব্যবস্থার
প্রবর্তনের মাধ্যমে
শুকনো মৌসুমে
বোরো ধানের
উৎপাদন বৃদ্ধির
বিষয়টি। তবে
বড় ধরনের
বাঁকবদল ঘটে
আশির দশকে,
যখন নীতি
পরিবর্তনের মাধ্যমে
ব্যক্তি খাতে
অগভীর নলকূপ
স্থাপনকে উৎসাহিত
করা হয়।
একইভাবে ভর্তুকিযুুক্ত
রাসায়নিক সারের
যুগপৎ নীতি
উচ্চফলনশীল জাত
চাষে আরো
গতি যোগ
করেছিল। ফলে
সত্তরের দশকে
যেখানে দুই
মিলিয়ন টনের
বেশি বোরো
উৎপাদন হতো
না, ২০০০
সালের দিকে
তা চার
গুণ বেড়ে
আট মিলিয়ন
টনে দাঁড়ায়
এবং আমনকে
ছাড়িয়ে যায়।
গত ২০
থেকে ২৫
বছর সময়কালে
বেশ বড়
ধরনের পরিবর্তন
ঘটে। এখন
বোরো উৎপাদনের
পরিমাণ ২০
মিলিয়ন টনে
এসে দাঁড়িয়েছে,
যদিও আমন
উৎপাদনও বৃদ্ধি
পেয়েছে ৭-৮
থেকে ১৩-১৪
মিলিয়ন টনে।
আউশ উৎপাদনের
পরিমাণ মাত্র
৩ মিলিয়ন
টন হওয়ার
কারণে এটি
সম্পূর্ণ প্রান্তিক
ফসলে পরিণত
হয়েছে। বোরোর
প্রাধান্যের কারণে
বাংলাদেশের পক্ষে
খাদ্যশস্যে কম-বেশি
স্বাবলম্বী হওয়া
সম্ভব হয়েছে,
যদিও এটি
দেশকে অন্যান্য
ঝুঁকির মুখোমুখি
করেছে, যা
শেষ পর্যন্ত
এর বৃদ্ধি
হ্রাস করতে
পারে।
শতাব্দীর শুরুর
দিকে গম
উৎপাদন ছিল
সন্তোষজনক, প্রায়
দুই মিলিয়ন
টন। তবে
২০০৬-০৭
সালের দিকে
তা হ্রাস
পেয়ে হয়
সাত লাখ
টন। যদিও
ধীরে ধীরে
তা আবার
বাড়ে, তবে
সে পরিমাণটি
খুব বেশি
নয়, মাত্র
এক মিলিয়ন
টন। অন্যদিকে
২০০০ সালের
দিকে ভুট্টা
উৎপাদনের পরিমাণ
যেখানে তেমন
উল্লেখযোগ্য ছিল
না, সেখানে
২০১৮-১৯
সাল নাগাদ
এটির উৎপাদনের
পরিমাণ বৃদ্ধি
পেয়ে পৌঁছে
৩ দশমিক
৫ মিলিয়ন
টনে। এটি
ঘটেছিল মূলত
পোলট্রি ফার্মের
খাবার হিসেবে
ব্যবহারের কারণে।
অন্যান্য ফসলের
মধ্যে আলু
উৎপাদনের পরিমাণ
বৃদ্ধি পায়।
আশির দশকের
মাঝামাঝি আলু
উৎপাদনের পরিমাণ
যেখানে মাত্র
এক মিলিয়ন
টন ছিল,
সেখানে প্রায়
১০ গুণ
বৃদ্ধি পেয়ে
বর্তমানে ১০
মিলিয়ন টন
হয়েছে।
অন্য শস্যের
মধ্যে তুলনামূলকভাবে
তেলবীজের উৎপাদন
বৃদ্ধি ঘটেছিল,
১৯৮৭-৮৮
সালের দিকে
৪ দশমিক
৫ লাখ
টন পরিমাণ
উৎপাদিত হলেও
পরে তিন
লাখ টনে
নেমে গিয়েছিল,
তবে ২০১৪-১৫
সালের দিকে
উৎপাদনের পরিমাণ
বেড়ে হয়
পাঁচ লাখ
টন।
তার পরে
যা ঘটেছিল
বলা হচ্ছে
সরকারিভাবে, তা
একটা জবরজং
ব্যাপার। পরের
বছর তেলবীজের
উৎপাদন দেখানো
হয় ৯
লাখ ৩৪
হাজার টন
(৮৬ শতাংশ
বৃদ্ধি পেয়ে),
তার পরের
বছর ৫
লাখ ৬০
হাজার টন
(৬০ শতাংশ
কমে) এবং
পরবর্তী সময়ে
১০ লাখ
২৬ হাজার
টন বা
পুনরায় ৮৩
শতাংশ বৃদ্ধি
পায়। পরে
আমরা এ
ধরনের তথ্য-উপাত্তের
উদ্ভট ওঠানামা
এবং কৃষি
পরিকল্পনার সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয়
ফিরে আসব।
যেসব শস্যের
উৎপাদন কমে
গিয়েছিল বা
অপরিবর্তিত ছিল,
তার মধ্যে
অন্যতম হলো
ডাল, আখ
এবং সম্ভবত
পাট। আশির
দশকের শুরুতে
সরকারি হিসাবে
ডাল (বিশেষ
করে মসুর
ও খেসারি)
উৎপাদনের পরিমাণ
ছিল পাঁচ
লাখ টন,
২০০৯-১০
সালে যা
অর্ধেকেরও বেশি
কমে দাঁড়ায়
দুই লাখ
টনে এবং
পরবর্তী সময়ে
২০১৭-১৮
সালে আবার
উৎপাদনের পরিমাণ
বেড়ে দ্বিগুণ
হয়। তবে
আখ উৎপাদন
আশির দশকের
সাত লাখ
টন থেকে
ধারাবাহিকভাবেই হ্রাস
পেয়ে বর্তমানে
অর্ধেকেরও কম
হয়েছে।
অন্যান্য বাণিজ্যিক
ফসলের মধ্যে
বড় ধরনের
পরিবর্তন হয়েছে
পাট উৎপাদনের
ক্ষেত্রে। কিছু
বিভ্রান্তি তৈরি
হয়েছে উৎপাদনের
পরিমাণ গণনা
পদ্ধতির কারণে।
যেমন কখনো
বেল হিসাবে,
কখনো টনে
কিংবা কখনো
একই কলামে
দুই অংকের
হিসাব করার
মাধ্যমে সব
জট পাকিয়ে
গেছে এবং
কী ঘটছে
তা বুঝে
ওঠাটা কঠিন
হয়ে পড়েছে।
খুব সম্ভবত
উৎপাদন বেড়েছে
কিন্তু তেলবীজের
মতোই আমরা
দেখতে পাই
যে ২০০৯-১০
সাল থেকে
২০১০-১১
সাল নাগাদ
উৎপাদনের ক্ষেত্রে
উল্লম্ফন ঘটেছে,
অর্থাৎ উৎপাদনের
পরিমাণ বেড়েছে
৬৫ শতাংশ।
এখন পর্যন্ত
উৎপাদনের পরিমাণ
সম্ভবত ১৬
লাখ টনের
ধারেকাছে ঘোরাফেরা
করছে।
পুষ্টি চাহিদা
পূরণে শাকসবজি
ও ফলের
গুরুত্বের বিষয়
অতি জরুরি,
বিশেষ করে
আমাদের দেশের
মানুষের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের
ঘাটতি যেমন
দস্তা, ভিটামিন
এ, ভিটামিন
বি-১২
ও লোহার
চাহিদা পূরণে
এদের অবদান
অনেক।
দ্বিমত পোষণের
অবকাশ নেই
যে শাকসবজি
ও ফল
উৎপাদনের পরিমাণ
বেড়েছে, বাজারে
গেলে যে
কেউ বিষয়টি
অনুমান করতে
পারবেন, অতীতে
কিন্তু বিষয়টি
এমন ছিল
না। তাহলে
কীভাবে এর
উৎপাদন বেড়েছে?
অনুমান করতে
পারি যে
এক্ষেত্রে বাড়িতে
চাষ ও
ভোগ বৃদ্ধি
দুটোই নেপথ্য
কারণ হিসেবে
কাজ করেছে।
এ ধরনের
খাদ্যপণ্যের উৎপাদন
নির্ভুলভাবে হিসাবের
জন্য দেশব্যাপী
যে জরিপ
প্রয়োজন, তা
হয়নি বললেই
চলে বা
এ-সংক্রান্ত
কোনো জরিপ
চালানো হয়ে
থাকলে সে-সম্পর্কিত
প্রচার-প্রচারণাও
কম।
সংক্ষেপে আমরা
বলতে পারি
যে বাংলাদেশ
ব্যাপকভাবে চাল
উৎপাদন সমস্যার
সমাধান করেছে।
অন্য ফসলের
ক্ষেত্রে আমরা
মিশ্রিত ফলাফল
দেখতে পাই,
কিছু ক্ষেত্রে
ইতিবাচক, কিছু
ক্ষেত্রে আবার
হতাশাজনক।
পরিবর্তনগুলো বোঝার
জন্য প্রাপ্ত
তথ্যগুলো গুণগত
মানসম্পন্ন নয়,
অবশ্য তথ্য
সংগ্রহের ধারাবাহিকতা
ও নির্ভরযোগ্যতা
এ দেশে
শতাব্দীর পুরনো
সমস্যা।
প্রাকৃতিক মত্স্য ও অ্যাকোয়াকালচার
সরকারি হিসাব মতে গত দুই দশকে মাছের বার্ষিক উৎপাদন বেড়েছিল ৫ শতাংশ হারে। উৎপাদন বৃদ্ধির হিসাবটি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও সামুদ্রিক উৎস থেকে মত্স্য আহরণের ওপর নির্ভর করে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে নদী ও মোহনার পাশাপাশি প্লাবন ভূমির প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত মোট মাছের পরিমাণ ৭৫-৭৬ শতাংশ। তবে যে বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। উদাহরণস্বরূপ, নদী ও মোহনা থেকে মাছ ধরার পরিসংখ্যানটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) ১৯৮৩ সালের ফ্রেইম সার্ভে অনুযায়ী। এরপর পার হয়েছে প্রায় চার দশক। পরিবর্তন এসেছে ভূমি ও জলাভূমির আয়তনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে। তাই অনেকটা সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আগের অনেক জলাশয় বা পুকুরের অস্তিত্ব এখন আর নেই। একইভাবে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে (বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, পরিবারের জন্য) এমন লাখ লাখ পরিবারের ওপর বছরের পর বছর ধরে কোনো ধরনের জরিপ না চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়টিও অস্পষ্ট। তাছাড়া নিজেদের মাছ ধরার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে জেলে বা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে নদী বা খাল-বিলে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না, এসব উৎসে মাছের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকাংশে কমেছে। একই সঙ্গে তারা এটাও মনে করে যে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং বাজার থেকে তারা যেসব মাছ কেনে, তার অনেকটাই এ উৎস থেকে আসে।
বাণিজ্যিকভাবে মাছ
চাষ কতটা
সর্বব্যাপী হয়ে
উঠেছে? মত্স্য
অধিদপ্তরের তথ্যমতে,
২০১৭-১৮
সাল নাগাদ
পুকুরে মাছ
চাষের পরিমাণ
ছিল ১৯
লাখ টন;
যা মোট
মাছ উৎপাদনের
৪৪ শতাংশ
এবং বাণিজ্যিক
মাছ চাষের
৭৯ শতাংশ।
এ অবস্থায়
নীতিনির্ধারকদের আগের
তুলনায় যথাসম্ভব
আরো সুনির্দিষ্টভাবে
পুকুরে বা
অনুরূপ জলাশয়ে
বাণিজ্যিক মাছ
চাষের সংখ্যা
এবং উৎপাদন
সম্পর্কে জানা
প্রয়োজন। স্পারসোর
১৯৮৩ সালের
তথ্যের ভিত্তিতে
পুকুরের আয়তন
হিসাব করা
হলেও ২০১৪-১৫
সালের দিকে
এর সঙ্গে
কিছু বাড়তি
তথ্য নেয়া
হয়। তবুও
সাধারণভাবে এটা
সত্য যে
মাছ উৎপাদনসংক্রান্ত
এসব তথ্যের
বাস্তব ভিত্তি
পরিষ্কার নয়।
গবাদিপশু ও
হাঁস-মুরগি
উৎপাদন
আমরা যখন
রোজকার সদাই
করতে বাজারে
যাই, তখন
হাঁস-মুরগি
এবং অন্যান্য
মাংসের সরবরাহ
দেখে অনুমান
করতে পারি
উৎপাদন বেড়েছে।
বিশেষ করে
মুরগির মাংস
ও ডিম
উৎপাদন বৃদ্ধির
বিষয়টি তর্কাতীত।
যদিও এ-সম্পর্কিত
তথ্যগুলোয় বড়
ধরনের ফাঁক
ও অসংগতি
রয়েছে। তথ্যের
সমস্যাটি আরো
তীব্র হয়ে
ওঠে যখন
আমরা বিবেচনা
করি যে
ঐতিহাসিকভাবেই অতীতের
মতো এখনো
গ্রামীণ প্রায়
প্রতিটি বাড়িতে,
খামার কিংবা
খামারহীন, গবাদিপশু
ও হাঁস-মুরগি
পালন করা
হয়। অন্যদিকে
সাম্প্রতিককালে মাংস
ও ডিমের
উৎপাদন বৃদ্ধির
জন্য বাণিজ্যিক
পোলট্রি ফার্মগুলো
বড় ধরনের
ভূমিকা রেখেছে।
তবুও আমরা
এ-জাতীয়
বাণিজ্যিকীকরণের মাত্রা
নিশ্চিতভাবে জানি
না। উদাহরণস্বরূপ,
বিভিন্ন ধরনের
উৎস থেকে
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী
বাণিজ্যিক পোলট্রি
ফার্মের সংখ্যা
৬৫-৭০
হাজার থেকে
১৫০ হাজার
হতে পারে।
একটি উৎসের
ভিত্তিতে প্রাপ্ত
তথ্যানুযায়ী, প্রতি
বছর ডিম
উৎপাদনের পরিমাণ
৭ দশমিক
৩৪ বিলিয়ন,
যার মানে
দিনে দুই
কোটি (২০
মিলিয়ন) ডিম
উৎপাদিত হয়।
অন্য একটি
উৎসের তথ্যানুযায়ী,
এটি ৩৩
মিলিয়ন—পার্থক্যের
পরিমাণটি ৫০
শতাংশেরও বেশি।
প্রাপ্ত তথ্যগুলোয়
আরো দেখা
যায় যে
দুধ উৎপাদনের
পরিমাণ আগের
বছরের তুলনায়
পরবর্তী সময়ে
হঠাৎ করে
কোনো কোনো
বছর
৪৫-৪৬
শতাংশ বা
৩০ শতাংশ
বৃদ্ধি পেয়েছে,
অথচ গবাদিপশুর
সংখ্যার ক্ষেত্রে
কোনো ধরনের
পরিবর্তনের কথা
উল্লেখ করা
হয়নি। এ
সবকিছুর অর্থ
হচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে
যারা এ
ধরনের পরিবর্তনগুলোর
হিসাব রাখার
দায়িত্বে রয়েছেন,
প্রাণিসম্পদ অর্থনীতির
পরিবর্তনের সাম্প্রতিক
তথ্যগুলো এখনো
তাদের হিসাবের
বাইরেই রয়েছে।
কৃষক
আগেই
ইঙ্গিত দেয়া
হয়েছে যে
সময়ান্তরে শস্য,
মত্স্য, গবাদিপশুসহ
সার্বিক কৃষিতে
বিভিন্ন ধরনের
পরিবর্তন সত্ত্বেও
কৃষকদের অবস্থার
খুব একটা
উন্নতি ঘটেনি।
এখানে প্রথম
বিবেচ্য হলো,
কারা আসলে
কৃষক। ২০১৯
সালের সর্বশেষ
কৃষিশুমারির প্রাথমিক
প্রতিবেদনে কৃষক
পরিবারের অনুপাত
তুলে ধরা
হয়েছে, যা
মনে হচ্ছে
আগের তুলনায়
কমছে। এ
অনুপাত ১৯৮৩-৮৪
সালের প্রায়
৭৩ শতাংশ
থেকে ২০১৯
সালে প্রায়
৫৬ শতাংশে
নেমে এসেছে,
যদিও সার্বিক
সংখ্যা বেড়েছে।
তবে এ
থেকে অবশ্য
কৃষকের বিভাজনের
আকার বোঝা
যায় না।
২০০৮ সালের
তথ্যানুযায়ী, এক
একর ও আড়াই
একর পর্যন্ত
চাষ করেন
এমন কৃষকের
অনুপাত যথাক্রমে
৫২ ও
৮৪ শতাংশ।
অথচ তারা
যথাক্রমে কেবল
মোট আবাদি
জমির ১৬
ও ৫০
শতাংশ চাষ
করে। আবার
বড় কৃষকরা
যারা ৭
দশমিক ৫
একরের বেশি
জমি চাষ
করেন, তারা
কৃষকের মোট
সংখ্যার মাত্র
২ শতাংশ,
তাদের হাতে
চাষকৃত জমি
১৩ শতাংশ।
এসব বিষয়
ইঙ্গিত দেয়
যে অধিকাংশ
কৃষক সত্যিই
খুব ছোট।
অন্যদিকে অনেকেই
মনে করেন
যে বৃহৎ
বাণিজ্যিক কৃষি
খামার এবং
প্রাতিষ্ঠানিক ভূমি
মালিকানা বাড়ছে।
আমরা জানি
যে, জাতিসংঘ
গত বছর
‘পারিবারিক
খামার দশক’
পালনের ডাক
দিয়েছে। সে
প্রেক্ষিতে আদতইে
বাংলাদেশে পারিবারিক
বনাম প্রাতিষ্ঠানিক
কৃষি কি
অবস্থায় আছে
এবং তা
কৃষিতে কি
ধরনের প্রভাব
ফেলছে, তা
বোঝা জরুরি।
অবশ্য সরকারের
পরিসংখ্যান খাতগত
আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান
অর্থাৎ বাংলাদেশ
পরিসংখ্যান ব্যুরো
(বিবিএস) ভূমি
মালিকানার এসব
নতুন তথ্য
সংগ্রহে এখনো
ততটা চেষ্টা
করেনি।
এসব কৃষকের
পূর্বপুরুষরা জমিদারি
ব্যবস্থার অধীনে
যাতনার মধ্য
দিয়ে দিনযাপন
করেছে, ব্রিটিশ
থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির
পরে যা
তিরোহিত হয়।
ওই জিঞ্জিরের
অবসান ঘটলেও
দুর্ভাগ্যক্রমে বাজারশক্তির
অদৃশ্য বেড়ি
তাদের আবার
বন্দি করেছে,
বিশেষ করে
যখন থেকে
তারা বোরো
ধানের মতো
ফসল, যার
জন্য নগদে
খরচ করতে
হয়, চাষ
শুরু করে
তখন উৎপাদন
খরচ মেটানোর
জন্য গ্রামীণ
মহাজনদের ওপর
তাদের নির্ভরশীল
হতে হয়েছিল।
সময়ের আবর্তে
ব্যাংক ব্যবস্থার
প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ
ধীরে ধীরে
মহাজনদের কিছুটা
প্রতিস্থাপিত করেছে।
তবে মধ্যস্বত্বভোগী
কিংবা চালকলের
কাছে নিজেদের
উৎপাদিত ফসল
বিক্রি করতে
বাজারের ওপর
নির্ভরশীল হওয়ায়
এবং ফসলের
উৎপাদন ব্যয়
ও বাজারের
দামের ফারাকের
কারণে কৃষকদের
আর্থিক ক্ষতির
আরেক অধ্যায়
সূচিত হয়।
বেশ কয়েক
বছর থেকে
এই নাটকের
বারবার পুনরাবৃত্তি
হচ্ছে। অতিসম্প্রতি
কৃষিমন্ত্রী একথা
জোরেশোরেই বলেছেন,
আপাতত নতুন
বাণিজ্যিক মত্স্যচাষীরা
ফসল উৎপাদকদের
এই নিয়তি
সম্ভবত কিছুটা
এড়াতে সমর্থ
হয়েছেন। এখানে
অবশ্য বৃহৎ
মাছচাষী বেশি
এবং তারা
মাছ চাষের
ভূমির একটা
বেশ বড়
অংশ নিয়ন্ত্রণ
করে। সাম্প্রতিক
একটি সুচারু
জরিপ মতে,
ছোট পুকুরের
মাছচাষী (আধা
একর পর্যন্ত)
মোট মাছচাষীদের
৩৬ শতাংশ,
কিন্তু তারা
মাত্র ১২
শতাংশ মাছ
চাষ এলাকা
নিয়ন্ত্রণ করে।
মাছচাষীদের মধ্যে
মাঝারি (আধা
একর থেকে
দুই একর
পর্যন্ত) এবং
বড় (দুই
একরের বেশি)
উদ্যোক্তারা পুকুর
এলাকার যথাক্রমে
৩৫ ও
৫৩ শতাংশ
নিয়ন্ত্রণ করেন।
কাজেই এসব
চাষীর সাধারণভাবে
বিপণন মধ্যবর্তীদের
সঙ্গে বেশ
ভালো দরকষাকষির
ক্ষমতা রয়েছে
বলে মনে
করা যেতে
পারে।
কৃষিকাজের লৈঙ্গিক
মাত্রায় আমরা
এতক্ষণ খুব
একটা দৃষ্টি
দিইনি। বিবিএসের
২০১৬-১৭
শ্রমশক্তি জরিপে
উঠে এসেছে
কৃষিতে মোট
নিয়োজিত ২২
দশমিক ৭
মিলিয়ন শ্রমশক্তির
মধ্যে নারীদের
অংশ ৪৫
শতাংশ, শ্রমবাজারের
মোট নিয়োজিত
নারীদের যা
প্রায় ৭৩
শতাংশ। এখানে
দুটি বিষয়
পরিষ্কার। নারীদের
শ্রম নিয়োজনের
প্রধান খাত
হলো কৃষি
এবং এ
খাতে তাদের
মোট শ্রমশক্তির
অর্ধেকের কাছাকাছি
কর্মরত। এর
অর্থ হলো,
কৃষিতে যা-ই
ঘটুক না
কেন, তাতে
নারীদের ওপর
প্রভাব (কু
বা সু)
প্রায় পুরুষদের
মতোই পড়ে।
আনুষ্ঠানিক সরকারিভাবে
দেখা না
হলেও প্রায়
সর্বত্রই বসতভিটায়
শাকসবজি চাষ
এবং হাঁস-মুরগি
ও গবাদিপশু
পালনের মাধ্যমে
গেরস্থালী খাদ্য
উৎপাদনের বিষয়টি
প্রায় এককভাবে
নারীদের হাতে
ছিল। সম্ভবত
এ ধারাবাহিকতা
এখনো বজায়
রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোয়
দেখা যায়
যে পরিবারে,
বিশেষত গ্রামীণ
পরিবারে, গেরস্থালী
খাদ্য উৎপাদন
তাদের পুষ্টিগত
ভারসাম্যের ওপর
উল্লেখযোগ্য মাত্রায়
ইতিবাচক প্রভাব
ফেলে। দুর্ভাগ্যক্রমে,
কৃষির সাধারণ
পরিসংখ্যানে এসব
কৃষি উৎপাদনের
হিসাব যথাযথ
বিবেচনা করা
হয় না,
যা আবারো
ধান ও
ক্ষেত কৃষির
বাইরের পরিবর্তনের
বিষয়টিকে অস্পষ্ট
করে তোলে।
উল্লেখ করা
যেতে পারে
যে বর্তমানে
চলমান মহামারীর
প্রথম দিকে
যখন সরবরাহ
ব্যবস্থা ভেঙে
পড়েছিল, তখন
বসতবাড়ির আঙিনায়
চাষাবাদ এবং
গেরস্থালী খাদ্য
উৎপাদনের গুরুত্বটি
নতুন করে
সামনে এসেছে।
শ্রমিকের প্রকৃত
ব্যবহার এবং
যান্ত্রিকীকরণ ইস্যু
নিয়ে শেষে
বলতে চাই।
এবারের বোরো
ধান কাটার
মৌসুমে কৃষিযন্ত্রের
ব্যবহার আমাদের
বড় স্বস্তি
দিয়েছে। কৃষি
শ্রমের একটি
অংশ আসে
সাধারণত পরিবারের
সদস্যদের মধ্য
থেকে, স্বেচ্ছাশ্রমের
ভিত্তিতে। আর
বড় অংশ
আসে মজুরি
ভিত্তিতে। বেশকিছু
ক্ষেত্রে মজুরিভিত্তিক
শ্রমিকরা অন্য
জায়গা থেকে
আসে, এটা
প্রতি বছরই
ঘটে। কোনো
কোনো ক্ষেত্রে
দেশের এক
প্রান্ত থেকে
অন্য প্রান্তে
তারা যান।
এবারের বোরো
ধান কাটার
সময়ে সুনামগঞ্জের
ঘটনাটি ছিল
ব্যতিক্রম, কারণ
মহামারীতে অন্য
এলাকা থেকে
শ্রমিক যাওয়া
ছিল সাংঘাতিকভাবে
কঠিন। তদুপরি
ধান পেকে
প্রায় পড়ে
যাওয়ারই উপক্রম
হয়েছিল, সৌভাগ্যক্রমে
তা অবশ্য
ঘটেনি। যেহেতু
কৃষির বিশেষত
ধান চাষের
বিভিন্ন পর্যায়ে
যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব
এবং তা
ঘটেছেও, ধান
কাটার যান্ত্রিকীকরণ
বর্তমান ঘটনার
পরিপ্রেক্ষিতে নতুন
করে দেখার
অবকাশ রাখে।
বিশেষত এর
ফলে অভিগমনকারী
কৃষি শ্রমিকের
আয় ও
বিনিয়োগ কীভাবে
হ্রাস পাবে
না, সে
সম্পর্কে সম্যক
উপলব্ধি প্রয়োজন।
বর্তমান কৃষি
এবং খাদ্য
ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ঝুঁকি
কৃষির
ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি
ও উন্নয়নসংক্রান্ত
বিষয়ে যাওয়ার
আগে বিদ্যমান
উৎপাদন প্রণালির
কিছু ঝুঁকি
নিরীক্ষা করা
প্রয়োজন ও
জরুরি। কেননা
এসব বিষয়
সমাধানে পদক্ষেপ
নেয়া না
হলে ব্যবস্থাটি
দুর্বল থাকবে
এবং এটি
খাদ্যনিরাপত্তাহীনতাও সৃষ্টি
করতে পারে।
ধান নিয়েই
প্রথমে আলোকপাত
করা যাক।
আগেই যেমনটা
আলোচনা করা
হয়েছে, বাংলাদেশে
বোরো সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ধানে
পরিণত হয়েছে।
এটি পুরোপুরিভাবে
সেচনির্ভর, যেটি
আবারো কমবেশি
ভূগর্ভস্থ পানির
ওপর নির্ভর
করে। ধান
উৎপাদনকারী অন্য
দেশগুলোর তুলনায়
এটি বিস্ময়কর।
কারণ
এসব দেশে
ধান চাষে
বৃষ্টির পানির
সঙ্গে পরিপূরক
সেচই রীতি
এবং সেটিও
প্রধানত উপরস্থ
পানি থেকে
আহরণ করা
হয়। বাংলাদেশে
প্রচুর বৃষ্টিপাত
হয় এবং
এখানে অনেক
উপরস্থ জলাধারও
আছে। কাজেই
অন্য দেশগুলোর
মতো কিছুটা
একই ধরনের
এখানে সেচকাজ
পরিচালিত হবে,
এটিই অনেকে
মনে করেন।
কিন্তু বিভিন্ন
কারণে এটি
ঘটেনি। এই
প্যাটার্নের কারণে
দুই রকম
সমস্যা সৃষ্টি
হয়েছে।
এর মধ্যে
একটি সমস্যা
হলো, ধানক্ষেত
প্লাবিত করার
চাষাবাদ-সংক্রান্ত
দীর্ঘদিনের রীতি,
এ কারণে
প্রচুর পানি
প্রয়োজন হয়।
এক কেজি
ধান উৎপাদনে
আমাদের দেশের
কৃষকরা মোটামুটি
তিন হাজার
লিটার পানি
ব্যবহার করেন।
আর দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার দেশগুলোয়
এটি অর্ধেকের
কাছাকাছি বা
তার কিছু
বেশি মাত্র,
যার অর্থ
হলো জমিতে
সেচ দেয়ার
জন্য ভূগর্ভ
থেকে তাদের
অনেক কম
পানি তুলতে
হয়। আমাদের
এখানে শুকনো
মৌসুমে চাষের
কারণে বোরোর
ক্ষেত্রে সব
পানিই আসে
সেচকৃত পানি
হিসেবে—বেশির
ভাগটাই ভূগর্ভস্থ
উৎস থেকে,
বাকিটা উপরস্থ
জলাধার থেকে।
ভূগর্ভস্থ পানির
ওপর অত্যধিক
নির্ভরতার ফল
হলো অনেক
এলাকায়, বিশেষ
করে বাংলাদেশের
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
এরই মধ্যে
পানির স্তর
নেমে গিয়ে
নানা সমস্যা
সৃষ্টি করছে।
এই চর্চা
অব্যাহত থাকলে
বোরো চাষ
ব্যাপকভাবে কমতে
পারে এবং
খাদ্যনিরাপত্তার সমস্যা
হতে পারে।
আমরা জানি,
এ সমস্যার
প্রতিকার হিসেবে
যথাযথ প্রযুক্তি
ব্যবহার, সামাজিক
উদ্যোগ এবং
প্রণোদনা দেয়া
সম্ভব। দুর্ভাগ্যক্রমে,
এসব বিষয়
অতটা গুরুত্বের
সঙ্গে এখনো
চেষ্টা করা
হয়নি। যদিও
এখানে বলা
উচিত এ
সম্পর্কে কৃষি
মন্ত্রণালয় অতিসম্প্রতি
একটি পাইলটভিত্তিক
উদ্যোগ নিয়েছে।
কৃষির অন্য
প্রধান সমস্যা
হলো তথ্যগত
অসংগতি এবং
অসম্পূর্ণতা, যেটি
খাদ্য ব্যবস্থার
কাঠামো সম্পর্কে
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ও বিনিয়োগে
জটিলতা সৃষ্টি
করে। কারণ
ভিত্তি অবস্থা
যথাযথভাবে পরিষ্কার
নয়। ফলে
ভবিষ্যতে অতি
উৎপাদন বা
কম উৎপাদন
এবং এক
বা অন্য
ফসলের সরবরাহে
সমস্যা সৃষ্টি
হতে পারে
কিংবা এরই
মধ্যে সমস্যা
সৃষ্টি হয়েছে।
এর কারণে
পুষ্টিগত ভারসাম্যহীনতা
সৃষ্টি হতে
পারে। এটি
বিপণন ও
সরবরাহ শৃঙ্খল
ব্যবস্থার সমস্যা
বাড়িয়ে অপচয়
বাড়াতে এবং
কৃষকের আয়ও
কমাতে পারে।
উপরন্তু, এটি
মাঝেমধ্যে ফসলবিন্যাসে
বড় রকমের
পরিবর্তন ঘটাতে
পারে। যেমন
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের
অনেক জায়গায়
ধানি জমি
আম বাগানে
পরিণত হচ্ছে।
অন্যদিকে এটি
পানির সমস্যার
কিছুটা সমাধানও
করেছে। কারণ
আম বাগানের
জন্য অনেক
কম পানি
লাগে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের
ইস্যুটি অবশ্যই
বড় করে
মাথায় রাখতে
হবে, কারণ
তা উৎপাদনে
ধারাবাহিকতার সমস্যা
সৃষ্টি করে।
বন্যা, খরা,
ঘূর্ণিঝড় ও
জলোচ্ছ্বাস নিয়মিতভাবে
দেশকে বিপর্যয়ের
মুখে ফেলে।
এ বছরও
ফেলেছে ফসলবিন্যাসে
পরিবর্তনের মাধ্যমে
কৃষকরা এ
সবকিছু মানিয়ে
নিয়েছে বটে,
কিন্তু এখনো
তা পুরোপুরি
হয়নি। বড়
ধরনের উপর্যুপরি
বন্যাগুলো সাধারণত
আমনের সময়ে
ঘটে। এ
ধরনের বন্যা
ধান ও
শাকসবজির ব্যাপক
ক্ষতি করে
এবং পরিবহন
সমস্যার কারণে
সরবরাহ ব্যবস্থার
বিঘ্ন ঘটায়।
এমনিতেই সরবরাহ
ব্যবস্থাগত দুর্বলতা
রয়েছে। তার
মধ্যে বন্যা
হলে এর
আরো অবনতি
ঘটে। এর
পরিণাম আবারো
কৃষকদের আয়
হারানো এবং
জীবিকার সংকট
সৃষ্টি। চলমান
বন্যাগুলো একটি
দুর্ভাগ্যজনক উদাহরণ।
বিবিএস নিয়মিতভাবে
বিভিন্ন দুর্যোগের
কারণে ফলনের
ক্ষতি হিসাব
করে বটে,
কিন্তু তা
পরিপূর্ণ চিত্র
নয়। কারণ
এক্ষেত্রে কৃষি
উৎপাদনের ক্ষতিই
দেখা হয়।
কৃষক উপকরণে
যে ব্যয়
করল, তার
কমই হিসাব
করা হয়।
ফলে এভাবে
নিরূপিত ক্ষতি
আসলের তুলনায়
কমই হয়।
আগামীর পাঁচ
দশক
ভবিষ্যতে
কৃষিতে কী
ঘটতে পারে
তা নির্ভর
করবে কৃষির
বাইরের কিছু
নিয়ামকের ওপর।
প্রথমটি হলো
জনসংখ্যা ও
আয় পরিবর্তন।
উভয়ই খাদ্যের
মোট চাহিদা
এবং এর
কাঠামোর ওপর
প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান
ব্যুরোর (বিবিএস)
প্রাক্কলন অনুযায়ী,
২০৬১ সালে
দেশের জনসংখ্যা
আনুমানিক ২১০
মিলিয়ন থেকে
২৫০ মিলিয়নে
দাঁড়াতে পারে।
এর মধ্যে
একটি মধ্যম
সংখ্যা হলো
২২৩ মিলিয়ন।
কোনো কিছু
তেমন পরিবর্তন
না হলে
মধ্যম সংখ্যার
হিসাবে খাদ্যের
চাহিদা প্রায়
৫০ শতাংশ
বাড়তে পারে।
অবশ্য আয়
পরিবর্তনের বিষয়ও
বিবেচনায় রাখতে
হবে। মহামারীর
ঠিক আগে
স্থির মূল্যে
মাথাপিছু জিডিপি
প্রায় ৮
শতাংশ হারে
উন্নীত হয়েছিল।
তার অর্থ
হলো, শেষ
হিসাবে প্রতি
বছর আমাদের
মাথাপিছু জিডিপি
কম-বেশি
৬ শতাংশ
হারে বাড়ছিল।
এর মানে
হলো, এই
গতিবেগ বজায়
থাকলে আনুমানিক
আগামী ১২
বছর বা
২০৩০ সালের
পর পরই
মাথাপিছু জিডিপি
দ্বিগুণ হবে।
দুর্ভাগ্যক্রমে, মহামারী
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড
স্থবির করে
দিয়েছে এবং
আগের রেশ
ফিরিয়ে আনতে
আরো কিছুটা
সময় লাগবে।
অবশ্য আর
যদি বিচ্যুতি
না-ও
ঘটে তাহলেও
সম্ভবত আগের
প্রবৃদ্ধির পথে
যেতে দুই-তিন
বছর লাগবে।
আমরা এরই
মধ্যে জানি
যে একটি
বিশাল জনগোষ্ঠী
অংশত বা
পুরোপুরিভাবে নিজেদের
জীবিকা হারিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সরকারি
খাত মোটামুটি
অক্ষত থেকেছে।
আনুষ্ঠানিক ব্যক্তি
খাত বড়
মাত্রায় অভিঘাতের
শিকার হয়েছে
এবং এখনো
পুরোপুরি নিজ
পায়ে দাঁড়াতে
সক্ষম হয়নি।
বিশেষত ক্ষুদ্র
ও মাঝারি
উদ্যোগগুলো এখনো
টিকে থাকার
লড়াই করছে।
সবচেয়ে বড়
বিষয়, অনানুষ্ঠানিক
খাতে নিয়োজিতরাই
সবচেয়ে বেশি
ভুক্তভোগী।
সাধারণত আয়
বৃদ্ধির সঙ্গে
খাদ্যে ব্যয়ের
অনুপাত পড়ে
যায়; যদিও
শস্যভিত্তিক থেকে
অধিক পুষ্টিনিবিড়
প্রাণিজ আমিষজাতীয়
খাবার যেমন
দুধ, ফলফলাদি
ও শাকসবজি
খাওয়ার ঝোঁক
বাড়ে। সময়ের
আবর্তে ভাত
খাওয়া থেকে
সরে আসার
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর
হয়েছে, যদিও
খুব ধীরে
ধীরে। এখন
মানুষ শস্যবহির্ভূত
খাদ্যের দিকে
ঝুঁকেছে। আয়ে
মহামারীজনিত হঠাৎ
পতন এক্ষেত্রে
আবার বেপথু
করতে পারে।
যেহেতু পুষ্টিনিবিড়
শস্যবহির্ভূত খাদ্য
সাধারণত অধিক
ব্যয়বহুল, মানুষ
হয়তো ভাতের
প্রতি আবারো
ব্যাপকভাবে ঝুঁকতে
পারে। কাজেই
স্বল্প থেকে
মধ্যমেয়াদে মাথাপিছু
ভিত্তিতে চালের
চাহিদা বাড়তে
পারে; তবে
অর্থনীতি কিছুটা
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
বিধায় স্বাভাবিক
প্রবণতাগুলো আশা
করা যায়
ধীরে হলেও
পুনরায় শুরু
হবে।
এ বাস্তবতায়
উল্লেখ করা
দরকার যে
বোরো ধান
মোটামুটি ঠিকমতো
তুলে আনার
কারণে সব
খাতের মধ্যে
কৃষি, বিশেষ
শস্যভিত্তিক কৃষি,
সবচেয়ে কম
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে শাকসবজি
ও ফলফলাদির
সরবরাহ ব্যবস্থা
বিঘ্নিত হওয়ার
কারণে বাজারে
সুষ্ঠুভাবে পৌঁছতে
পারেনি বলে
কৃষকদের ব্যাপক
লোকসান হয়েছে।
আরো বেশি
লোকসান হয়েছে
পোলট্রি ও
দুগ্ধ খামারিদের।
মাছ চাষ
সম্ভবত তুলনামূলক
কম লোকসানে
পড়েছে। সরবরাহ
ব্যবস্থা স্বাভাবিক
হওয়ায় সেগুলো
অবশ্য আবার
আগের অবস্থায়
ফিরতে শুরু
করেছে। কাজেই
স্বল্প থেকে
মধ্যমেয়াদে অনেকেই
মনে করেন
যে বর্তমান
অর্থনৈতিক প্রায়
মন্দা থেকে
উত্তরণে কৃষি
অন্যতম প্রধান
কৌশল হতে
পারে। অবশ্য
সেটি সম্ভব
করতে হলে
সরবরাহ শৃঙ্খলের
ইস্যু, কৃষকদের
ন্যায্য দাম
নিশ্চিত, পচনশীল
পণ্যের যথাযথ
সংরক্ষণের সুবিধাসহ
বিপণন অবকাঠামো
আধুনিকায়ন করতে
হবে এবং
অপচয় কমাতে
যথাযথ পরিবহনের
জন্য আধুনিক
যানবাহন ব্যবস্থা
সংযোজন করতে
হবে। এসব
বিষয়ে উন্নতি
ঘটাতে সরকারকে
কৃষিপণ্যের উৎপাদনস্থল
ও গন্তব্যস্থল
উভয় ক্ষেত্রে
যথাযথ প্রযুক্তি
প্রবর্তন ও
অর্থায়ন নীতিগুলো
নতুনভাবে বিন্যাস
করার নীতি
ও প্রণোদনা
ব্যবস্থা নিতে
হতে পারে।
বড় বড়
শহরকেন্দ্রে অবস্থিত
সুপারমার্কেটগুলো এক্ষেত্রে
অনুঘটক হিসেবে
কাজ করে
একটি বড়
ভূমিকা পালন
করতে পারে।
তবে আমাদের
অন্য চ্যালেঞ্জগুলোও
ভুললে চলবে
না। বর্তমান
খাদ্য ব্যবস্থায়
একটি বড়
ইস্যু পুষ্টিগত
ভারসাম্যহীনতা। খর্বত্ব,
কম ওজন,
কৃশকায়ত্ব, ক্ষুদ্র
পুষ্টিকণাজনিত ঘাটতি
এখনো বেশি
এবং ভয়
আছে যে
চলমান মহামারী
এসব সমস্যা
আরো তীব্র
করতে পারে,
যা ভবিষ্যৎ
অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত
করবে এবং
প্রবৃদ্ধি হারে
অবনমন ঘটাবে।
আরেকটি বড়
চ্যালেঞ্জ জলবায়ু
পরিবর্তন। কয়েকটি
বিষয় ঘটতে
পারে। সবিস্তারে
না গিয়েও
বলা যায়,
সব ফসলের
উৎপাদন কমতে
পারে। মাছ,
দুধ, গবাদিপশু
ও হাঁস-মুরগির
উৎপাদনও কমে
যেতে পারে
তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত
জীবনচক্র পরিবর্তনের
কারণে। গবাদিপশুর
প্রজননক্ষমতাও কমতে
পারে। সবকিছু
ছাপিয়ে জলবায়ুসংক্রান্ত
দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা
ও ভয়াবহতা
উভয়ের দিক
থেকে প্রকোপ
বাড়তে পারে।
বিশেষভাবে উল্লেখ
করা দরকার
যে পানি
নিয়ে আমাদের
অনেক সমস্যা
হবে। অসময়ে
বৃষ্টিপাত কিংবা
ভারি বৃষ্টিপাত,
ভয়াবহ ও
ঘন ঘন
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়,
জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি
ঘটনা ঘটবে।
এসব বিষয়
এখন আগের
চেয়ে অনেক
বেশি দৃশ্যমান।
কম বৃষ্টিপাতের
কারণে পুনর্ভরণের
অভাবে ভূর্গভস্থ
পানির সংকট,
খরা এবং
আঞ্চলিক পানি
সংকট ও
অমীমাংসিত আন্তঃসীমান্ত
সমস্যার কারণে
অনিশ্চিত উপরস্থ
পানিপ্রবাহ বাড়তি
সমস্যা সৃষ্টি
করবে। যথাযথ
অভিযোজন নীতি
গ্রহণ ও
বাস্তবায়ন করা
না হলে
উল্লিখিত ইস্যুগুলোর
প্রভাবে খাদ্য
উৎপাদনে বড়
ধরনের পতন
ঘটবে, যা
ব্যাপকভাবে খাদ্য
ও পুষ্টিনিরাপত্তাহীনতার
অবস্থা সৃষ্টি
করতে পারে।
আর যদি
তেমনটি ঘটে
তাহলে অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি থেকে
আমাদের আশা
করা অনেক
সুফল বাস্তবায়ন
আদৌ সম্ভব
হবে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই
এসব সমস্যার
সমাধান আমাদের
খুঁজে বের
করতে হবে।
কৃষিতে সেচ
পানির সংরক্ষণ,
প্রযুক্তি প্রবর্তন
এবং অর্থনৈতিক
প্রণোদনা ব্যবস্থার
কথা আগেই
উল্লেখ করা
হয়েছে। এসব
বিষয় যথাযথভাবে
এগিয়ে নিতে
হবে এবং
পানি সংকটের
পরিণাম রুখতে
আমাদের নিজেদেরই
পানি ব্যবস্থাপনার
এক বা
একাধিক নতুন
পদ্ধতি বের
করতে হবে।
এখানে উল্লেখ্য
যে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে
দেশে এরই
মধ্যে পানির
প্রকৃত সামাজিক
মূল্য বের
করার একটা
চেষ্টা চলছে।
এটি হলে
বিভিন্ন খাতে
পানি ব্যবহার
ও সংরক্ষণসংক্রান্ত
নীতিমালা তৈরি
করা সম্ভব
হবে।
অন্যদিকে আমাদের
অবশ্যই গভীরভাবে
ফসল ও
পশুর জীবনচক্রের
দিক থেকে
বিষয়গুলো কীভাবে
পরিবর্তিত হচ্ছে,
সেটি লক্ষ
রাখতে হবে—যাতে
নতুন টেকসই
জাতের উন্নয়ন
ঘটানো যায়
কিংবা বর্তমানে
থাকা জাতের
মধ্যে কোনগুলো
কম সংবেদনশীল,
সেগুলো চিহ্নিত
করা যায়
এবং প্রণোদনা,
প্রযুক্তি ও
অর্থায়নের মাধ্যমে
সেগুলো কৃষকের
কাছে জনপ্রিয়
করা যায়।
এসব বিষয়
ব্যাপকতর গবেষণা
পদ্ধতি ও
বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষকতার
মাধ্যমে একটি
জ্ঞানভিত্তি সৃষ্টি
ও এর
অধিকতর উন্নয়ন
দাবি করে।
আমরা জানি,
সরকার তার
জলবায়ু পরিবর্তন
কৌশল হালনাগাদের
পাশাপাশি একটি
জাতীয় অভিযোজন
পরিকল্পনা তৈরির
প্রক্রিয়া শুরু
করেছে। উভয়টির
ক্ষেত্রে কৃষি
ও খাদ্য
ব্যবস্থা কৃষকবান্ধব
ও বিজ্ঞানভিত্তিক
করার বিষয়টিতে
পর্যাপ্ত দৃষ্টি
ও মনোযোগ
দিতে হবে।
উপসংহার
আমরা
এখানে গত
পাঁচ দশকের
কৃষি ও
খাদ্য ব্যবস্থা
পর্যালোচনার চেষ্টা
করেছি। উল্লিখিত
সময়ে কৃষিতে
লক্ষণীয় বেশকিছু
অর্জন থাকলেও
প্রধান কিছু
ঝুঁকি এখনো
রয়ে গেছে।
সেগুলো এখনো
দূর করার
যথাযথ উদ্যোগ
নেয়া হয়নি।
এসব ঝুঁকির
কিছু তদারকি
ও তথ্য
সংগ্রহের যথাযথ
পদ্ধতির ঘাটতি
এবং আরো
পরিষ্কারভাবে বিদ্যমান
ভিত্তি অবস্থা
ও সময়ান্তরে
এর পরিবর্তনগুলো
চিহ্নিত করার
বিষয়টি বিশ্লেষণের
অভাবে সৃষ্ট।
পুরনো সরবরাহ
শৃঙ্খল ও
বিপণন ব্যবস্থা
এবং সরকারের
মূল্য সহায়তা
ব্যবস্থা যথাযথ
না হওয়ায়
সেগুলোর আরো
অবনমন ঘটেছে,
যা কৃষকের
জন্য কৃষিকাজ
অব্যাহত রাখার
ক্ষেত্রে নিরুৎসাহমূলক।
অন্যগুলো প্রাকৃতিক
প্রেক্ষাপটের কারণে,
যার মধ্যে
আর্থসামাজিক ব্যবস্থাটি
কাজ করে।
এর ফল
হলো, কৃষকদের
নিম্ন আয়
এবং একটি
বড়সংখ্যক মানুষের
জন্য খাদ্য
ও পুষ্টিহীনতা
সৃষ্টি। এসব
ঝুঁকি ছাড়াও
রয়েছে পানির
মতো সম্পদ
ব্যবহারে অদক্ষতা
এবং নিম্ন
উৎপাদনশীলতা ইস্যু।
চলমান মহামারীতে
পুরো ব্যবস্থার
দুর্বলতাগুলো ফুটে
উঠেছে, কিন্তু
ব্যবস্থাটি আগের
জায়গায় ফিরতে
বেশকিছু সময়
নিতে পারে।
কিন্তু আগের
অবস্থা ও
ব্যবস্থায় ফিরলে
চলবে না।
দুটোরই পরিবর্তন
প্রয়োজন। বর্তমান
মহামারী আমাদের
নতুনভাবে সে
চিন্তা ও
তার রূপায়ণের
সুযোগ সৃষ্টি
করেছে। তাকে
কাজে লাগাতে
হবে।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
অনেক। এর
মধ্যে একটি
হলো জলবায়ু
পরিবর্তন, যা
কৃষি ও
খাদ্য ব্যবস্থার
জন্য খুব
প্রতিকূল ও
কঠিন অবস্থা
সৃষ্টি করতে
পারে। চলমান
মহামারী থেকে
বেরিয়ে আসতে
কৃষির একটি
প্রস্থান কৌশল
থাকতে হবে
এবং খাতটিকে
ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ
বাংলাদেশের ভিত্তিতে
পরিণত করতে
হলে বিজ্ঞান,
প্রযুক্তি ও
সুশাসনের সমন্বয়
ঘটাতে হবে।
একই সঙ্গে
কৃষকদের ন্যায্য
মূল্যপ্রাপ্তিকে প্রাধান্য
দিতে হবে।
ড. এম আসাদুজ্জামান: সাবেক গবেষণা পরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)





