উৎপাদন ও
উৎপাদনশীলতা প্রাণিসম্পদে
একটি সহজাত
প্রবৃত্তি। স্বাস্থ্যবান
ও মেধাবী
জাতি গঠনে
প্রাণিসম্পদের অবদান
অপরিসীম। তবে
যে বিষয়টি
সবচেয়ে আলোচনা
ও উদ্বেগের
জন্ম দিয়েছে
তা হচ্ছে
পশু-পাখির
খাদ্যে গ্রোথ
প্রমোটার হিসেবে
অ্যান্টিবায়োটিকসের যথেচ্ছ
ব্যবহার এবং
মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষায়
এর বিরূপ
প্রতিক্রিয়া।
দৈহিক বৃদ্ধি
ত্বরান্বিত করার
উদ্দেশ্যে অ্যান্টিবায়োটিক
গ্রোথ প্রমোটার
দীর্ঘদিন ধরে
ক্রমাগতভাবে খামারিরা
কর্তৃক পশু-পাখির
খাদ্যে ব্যবহূত
হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে
অণুজীব কর্তৃক
অ্যান্টিবায়োটিকসের প্রতি
প্রতিরোধী হয়।
এ ধরনের
প্রাণিজ আমিষ
গ্রহণের ফলে
মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিকসের
প্রতি প্রতিরোধী
ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি
হয়। ফলে
রোগাক্রান্ত মানুষের
চিকিৎসা অনেক
সময় মারাত্মকভাবে
ব্যাহত হতে
পারে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালস বিভিন্ন
প্রকার রোগ
সৃষ্টিকারী জীবাণুর
বিরুদ্ধে কাজ
করে মানবসভ্যতাকে
এগিয়ে নিতে
সহায়তা করেছে।
যদি প্রতিনিয়ত
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স
তৈরি হতে
থাকে। তবে
অদূরভবিষ্যতে জীবাণুুঘটিত
রোগ চিকিৎসার
জন্য কার্যকর
কোনো ওষুধ
পাওয়া যাবে
না। ফলে
অতি সাধারণ
রোগেই অনেক
মানুষসহ প্রাণিকুল
এ পৃথিবী
থেকে হারিয়ে
যাবে। ২০১৬
সালে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্সের জন্য
পৃথিবীতে সাত
লাখ মানুষ
মৃত্যুবরণ করেছে।
আমরা এখনই
যদি এ
ব্যাপারে কার্যকর
কোনো পদক্ষেপ
না নিই
তবে ২০৫০
সালে এক
কোটি মানুষ
মারা যাবে।
নিরাপদ প্রাণিজ
আমিষ ও
পুষ্টিনিরাপত্তায় বাংলাদেশসহ
বিশ্বব্যাপী প্রাণিসম্পদের
প্রতিকূলতা দুই
ধরনের। ১.
অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া,
২. অ্যান্টিবায়োটিক
রেজিস্ট্যান্স যেটি
জনস্বাস্থ্যের হুমকির
কারণ বলে
বিবেচিত। ফলস্বরূপ,
বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থার গবেষণা
মতে, প্রাণিজাত
পণ্য খাওয়ার
ফলে মানবশরীরে
কলিব্যাসিলোসিস, এন্টারোকক্কাস,
কম্পাইলোব্যাকটার, কলেরা
বা ডাইরিয়া,
টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড,
ক্লোসট্রিডিয়াম ইত্যাদি
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স
রোগগুলো ছড়িয়ে
পড়ে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স
কোনো
জীবাণুু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
বা অ্যান্টিবায়োটিকের
প্রতি সংবেদনশীলতা
হারিয়ে ফেললে
বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের
(অ্যান্টিবায়োটিক) প্রতি
প্রতিরোধক্ষমতা তৈরিতে
সক্ষম হলে
ওই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
(অ্যান্টিবায়োটিক) দিয়ে
ওই জীবাণু
দ্বারা সৃষ্ট
কোনো রোগের
চিকিৎসা ফলপ্রসূ
হয় না
বা রোগীকে
সুস্থ করা
যায় না,
জীবাণুুর এ
পরিবর্তনকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স বলে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স
একটি মারাত্মক
সমস্যা যা
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা
ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের
জন্য একটি
মারাত্মক হুমকি
হিসেবে আবির্ভূত
হয়েছে।
সুপার বাগ
বা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স অরগ্যানিজম
কোনো
জীবাণু যখন
একই সাথে
অনেকগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের
বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা
গড়ে তুলতে
সক্ষম হয়
তখন তাকে
সুপার বাগ
বা মাল্টি
ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স
অরগ্যানিজম বলে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালস ও
অ্যান্টিবায়োটিক
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালস
এক প্রকার
জৈব বা
অজৈব উপাদান
যা এক
বা একাধিক
জীবাণুর বিরুদ্ধে
কাজ করে
জীবাণুুর কার্যকারিতা
নষ্ট করতে
সক্ষম, জীবাণুুঘটিত
নানা রোগ
চিকিৎসায় ব্যবহূত
হয়। যেমন
পেনিসিলিন, টেট্রাসাইক্লিন,
মেট্রোনিডাজল ইত্যাদি।
এর মধ্যে
যেসব উপাদান
শুধু ব্যাক্টেবিয়ার
বিরুদ্ধে কার্যকর
সেগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক
বলে। যেমন
পেনিসিলিন, জেন্টামাইসিন,
স্ট্রেপ্টোমাইসিন ইত্যাদি।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কেন এবং
কীভাবে হয়
বিংশ
শতাব্দীতে অ্যান্টিবায়োটিকের
আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানের
একটি গুরুত্বপূর্ণ
দ্বার উন্মোচন
করেছে। অদ্যাবধি
এ অ্যান্টিবায়োটিক
কোটি কোটি
মানুষ এবং
অন্যান্য প্রাণিকুলের
জীবন রক্ষা
করে চলেছে।
তবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স শুরু
হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের
মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার
এবং অপব্যবহার
এ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স প্রক্রিয়াকে
ত্বরান্বিত করছে।
প্রাণিজ পণ্য
অনিরাপদ হওয়ার
কারণ
গরু
মোটাতাজাকরণে ফিড
অ্যাডিটিভস যেমন
প্রোবায়োটিকস, এনজাইম,
অ্যামাইনো অ্যাসিড,
ভিটামিন-মিনারেল
প্রিমিক্স, ইউরিয়া
ইত্যাদির ফলে
ভিটামিন ও
খনিজ লবণের
ঘাটতি মিটিয়ে
প্রাণীর খাবার
শরীরে কাজে
লাগে এবং
পশম খুব
চকচকে হয়।
তাছাড়া ক্যালসিয়ামজাতীয়
ওষুধে প্রাণী
খুব শক্তিশালী
হয় এবং
দ্রুত বৃদ্ধি
পায়। অনুরূপভাবে
মেটাবলিক স্টিমুলেন্টস
যেমন বিউটাফসফেন,
টলডিমফস ইত্যাদি।
অতিদ্রুত গরুর
শরীরে মাংস
বৃদ্ধির জন্য
ভিটামিনের পাশাপাশি
টনিকজাতীয় ইনজেকশন
ব্যবহার করা
হয়। এসব
ওষুধ ব্যবহারের
ফলে গরুর
মাংসের গুণগত
মানের কোনো
ক্ষতি হয়
না বা
মাংস খাওয়ার
ফলে মানুষের
দেহে ক্ষতিকর
কোনো প্রতিক্রিয়া
তৈরি করে
না। এসব
রাসায়নিক উপাদান
সঠিক মাত্রায়
ব্যবহার বিজ্ঞানসম্মত
এবং স্বাস্থ্যকর
ও নিরাপদ।
তবে মাত্রাতিরিক্ত
ফিড অ্যাডিটিভস,
প্রিজারভেটিভস ও
কনজারবেটিভসের মাধ্যমে
প্রাণীর মাংস
ও মুরগির
ডিমে ভেজাল
ঢুকে পড়ে।
স্টেরয়েড হরমোন
যেমন ডেক্সামেথাসন,
ডাইথাইলস্টিলব্রেল, হেক্সাট্রল,
জেরানল ইত্যাদি
এক ধরনের
জরুরি জীবন
রক্ষাকারী ওষুধ।
গরু মোটাতাজাকরণে
এর ব্যবহার
একটি বড়
সমস্যা। দ্রুত
গরুকে মোটাতাজাকরণের
জন্য যেসব
বাণিজ্যিক স্টেরয়েড
ইনজেকশন ব্যবহার
করা হয়
তা হলো
ডেক্সাভেট, ডেক্সাকট,
জেকাসন, ওরাডেক্স,
প্রিক্সোনল-এস,
প্রেডনিভেট, প্রেডনিসলন
ইত্যাদি।
এছাড়া পোলট্রি
ডিম ও
মাংস সাধারণত
ফিডে দূষকের
মাধ্যমে পোলট্রির
মাংস ও
ডিম তথা
ফিডে ভেজাল
মেশানো হয়।
যেমন ঝিনুকের
গুঁড়ার মাধ্যমে
ইকোলাই/সালমোনেলা
নামক ব্যাকটেরিয়া
ছড়িয়ে পড়ে।
টাইলসের গুঁড়ো
লাইমস্টোনের সাথে
মেশানোর ফলে
পোলট্রি খাদ্য
দূষিত হয়।
ট্যানারি বর্জ্য
বা মিট
ও বোন
মিলের লেড,
ক্রোমিয়াম, সিসা
ও আর্সেনিকের
উত্কৃষ্ট উৎস।
ভুট্টা হলো
পোলট্রি খাদ্য
তৈরির সিংহভাগ
অংশ দখল
করে আছে।
কিন্তু কালো
ভুট্টা রোগ-জীবাণু
তৈরির ডিপো
হিসেবে কাজ
করে। তেলবিহীন
চালের কুঁড়া
পোলট্রিকে খাওয়ানোর
মাধ্যমে পোলট্রিতে
নানাবিধ রোগব্যাধি
ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের
কারণে, অতিরিক্ত
ও সঠিক
মাত্রায় ভেটেরিনারি
ওষুধ ব্যবহার
না করায়
সুপার বাগ
নামক পৃথিবী
ধ্বংসকারী ব্যাধি
আজ জেঁকে
বসেছে। উত্তম
মানের ওষুধের
অভাবে জনস্বাস্থ্য
ঝুঁকিপূর্ণ। উৎপাদন
ও উৎপাদনশীলতায়
দক্ষ জনবল
ও দক্ষতার
বড় অভাব।
অতিরিক্ত রোগ
সংক্রমণ, রোগ
প্রতিরোধ ও
প্রতিকারে উপযুক্ত
কৌশলের অভাব।
দুর্বল রোগ-জীবাণু
শনাক্তকরণ পদ্ধতি।
খামার ও
খামারিদের সাথে
চিকিৎসার নামে
প্রতারণার মাধ্যমে
শিশুসহ মানবস্বাস্থ্য
হুমকির মুখে
পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রাণিসম্পদে নিষিদ্ধ উপকরণগুলো
জনস্বাস্থ্যের
কথা বিবেচনা
করে গবাদিপ্রাণী
ও পোলট্রি
খাদ্যে মানবস্থাস্থ্যের
কথা বিবেচনা
করে উল্লিখিত
উপকরণগুলো নিষিদ্ধ
করা হয়েছে:
১. অ্যান্টিবায়োটিক
২. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেসিডিউ ৩.
গ্রোথ হরমোন
৪. স্টেরয়েড
৫. ক্রোমিয়াম
৬. পেস্টিসাইড
৭. জিএম
প্রডাক্টস ৮.
মাইকোটক্রিন ৯.
ভারী ধাতু
১০. তেজস্ক্রিয়
পদার্থ ১১.
বিসমাথ ইত্যাদি।
নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ সরবরাহে করণীয়
প্রাণিজ
শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিকসের
ব্যবহার সম্পর্কিত
তিনটি মূলনীতি
অনুসরিত হলে
অ্যান্টিবায়োটিকসের প্রতি
অহেতুক প্রতিরোধক্ষমতা
সৃষ্টি করার
মূল ফ্যাক্টরগুলো
বহুলাংশে হ্রাস
বা বিদূরিত
করা যাবে।
১. মানুষের
মারাত্মক সংক্রমণের
ক্ষেত্রে চিকিৎসার
জন্য ব্যবহার্য
‘সর্বশেষ’
ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকস
মানুষের খাদ্যোৎপাদনের
জন্য প্রতিপালিত
পশুপাখি বা
কৃষিতে ব্যবহার
করা উচিত
নয়। ২.
পশু-পাখির
রোগ প্রতিরোধকল্পে
অ্যান্টিবায়োটিকসের ব্যবহার
ন্যূনতম পর্যায়ে
রাখতে হবে।
সংক্রমণ প্রতিরোধের
পদ্ধতি (অ্যান্টিবায়োটিকস
ব্যতীত) উন্নয়ন
ও বিস্তৃত
করতে হবে।
৩. গ্রোথ
প্রমোটার হিসেবে
অ্যান্টিবায়োটিকস ব্যবহার
পর্যায়ক্রমে পরিত্যাগ
করতে হবে।
বাংলাদেশের মানুষের
জন্য যে
পরিমাণ প্রোটিনের
প্রয়োজন তার
চাহিদা মেটানোর
জন্য খামারিদের
প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ
কর্মীরা গরু
মোটাতাজাকরণের কলাকৌশল
সম্প্রসারণ করছেন।
যদিও সরকার
খুব সীমিত
পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে
আমেরিকা থেকে
ব্রাহমান জাতের
ষাঁড়ের বীজ
আমদানি করে
সরকার যদি
বৈধভাবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক
পশু আমদানিসহ
‘বাংলাদেশ
ও পশুজাত
পণ্য সঙ্গনিরোধ
আইন’ ২০০৫
(২০০৫ সালের
৬নং আইন)
প্রয়োগ করে
তবে এ
সমস্যার সমাধান
হবে।
যেহেতু গবাদিপশুতে
স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ
মাংসের গুণাগুণ
নষ্ট করে
দেয় এবং
মানুষের রোগ
প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে
দেয়, তাই
মোটাতাজা করার
জন্য গরুতে
স্টেরয়েডের ব্যবহার
মোটেই কাম্য
নয়। ব্যবহূত
ওষুধ হতে
পারে কৃমিনাশক,
ফিড অ্যাডিটিভ
বা মেটাবোলিক
স্টিমুলেন্টস।
এছাড়া ১.
প্রাণিসম্পদের খাদ্য
ও ফিড
এডিটিভের গুণগত
মান নিয়ন্ত্রণ
করা। ২.
ওষুধ, হরমোন,
স্টেরয়েড ও
তার রেসিডিউয়ের
গুণগত মান
নিয়ন্ত্রণ করা।
৩. বেসরকারি
খাতে গুণগত
মানসম্পন্ন পশু-পাখির
খাদ্য ও
অন্যান্য উপকরণ
উৎপাদনের জন্য
গবেষণাগার পরীক্ষার
মাধ্যমে সনদ
প্রদান করা।
৪. প্রাণিসম্পদ
উৎপাদন উপকরণ
ও প্রাণিজাত
খাদ্যের মান
নিয়ন্ত্রণের জন্য
ভ্রাম্যমাণ আদালত
পরিচালনায় সহায়তা
করা। ৫.
প্রাণিসম্পদ থেকে
উৎপাদিত পণ্য
ও উপজাতের
রুটিন অ্যানালাইসিস
পরিচালনা করা।
৬. গুণগত
মানসম্পন্ন পশু-পাখির
খাদ্য ব্যবহারে
জনসচেতনতা তৈরি
করা। ৭.
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স
সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণার
মাধ্যমে জাতীয়
জনসচেতনতা বৃদ্ধি
করা প্রয়োজন।
৮. স্কুল,
কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে
অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার
ও এর
প্রতিরোধী বিষয়
অন্তর্ভুক্ত করতে
হবে। ৯.
এক স্বাস্থ্য,
এক বিশ্ব
সম্পর্কিত ধারণার
অবতারণা করতে
হবে (‘এক
স্বাস্থ্যনীতি মিশনের’
মতে, মানবস্বাস্থ্য,
প্রাণিস্বাস্থ্য ও
বাস্তুসংস্থানের পরিবেশ
একে অন্যের
প্রতি নির্ভরশীল।
ভেটেরিনারিয়ান, চিকিৎসক
ও অন্যান্য
পেশাজীবীর পারস্পরিক
সহযোগিতার মাধ্যমেই
মানুষ ও
অন্যান্য প্রজাতির
স্বাস্থ্যের উন্নতি
করা সম্ভব
যা ‘এক
স্বাস্থ্যের’ লক্ষ্য)।
১০. জাতীয়
রেফারেন্স গবেষণাগার
স্থাপন করা
প্রয়োজন। ১১.
নতুন নতুন
আবির্ভাবযোগ্য রোগ
ও তার
প্রতিরোধী হওয়া
সম্পর্কে কারিগরি
দক্ষতা বৃদ্ধি
ও নির্ণয়
করতে হবে।
১২. নতুন
চিকিৎসা সম্পর্কে
গবেষণা ও
দক্ষতা বাড়ানো
প্রয়োজন। ১৩.
উত্তম স্বাস্থ্য
ব্যবস্থাপনা ও
আদর্শিক খামার
পরিচালনার নীতি
অনুসরণে জরুরি
ব্যবস্থা নিতে
হবে। ১৪.
কোনো খামার
স্থাপনের আগে
মানসম্মত প্রশিক্ষণের
ব্যবস্থা করা
যেতে পারে।
১৫. প্রয়োজনীয়
লাইসেন্সকৃত ওষুধের
তালিকা ও
আদর্শ চিকিৎসা
নীতিমালা থাকতে
হবে। ১৬.
খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা
কৌশল প্রস্তুত
করতে হবে।
১৭. উত্তম
কৃষি অনুশীলন
চর্চা করা
ভালো। ১৮.
উত্তম শিল্প
অনুশীলন ও
উত্তম ব্যক্তিগত
পরিচর্যা বাড়াতে
হবে। ১৯.
নিরাপদ খাদ্য
নিশ্চিত করতে
পর্যবেক্ষণ ও
নজরদারি বাড়াতে
হবে। ২০.
রোগ-ব্যাধিমুক্ত
খামার পরিচালনা
করতে হবে।
২১. ইচ্ছামতো
ড্রাগ নিবন্ধন
দেয়া যাবে
না। ২২.
ওষুধের প্যাকে
উত্তম লেবেল,
উৎপাদনের তারিখ,
মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ
সুস্পষ্ট থাকতে
হবে। ২৩.
ওষুধের প্রত্যাহারকাল
অবশ্যই মানতে
হবে। ২৫.
প্রাণিস্বাস্থ্য ও
মানবস্বাস্থ্য সমন্বিতভাবে
কাজ করতে
হবে। ২৬.
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা
অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ
কিংবা ব্যবহারের
আগে বিএমডিসি
বা বিভিসি
রেজিস্টার্ড ডাক্তার
ও বিশেষজ্ঞের
ব্যবস্থাপত্র নেয়া
প্রয়োজন। ২৭.
সংক্রামক রোগের
চিকিৎসায় যতদূর
সম্ভব স্বল্প
বর্ণালির অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
বা অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহার করা।
২৮. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
বা অ্যান্টিবায়োটিকের
সঠিক মাত্রায়
ও পূর্ণ
কোর্স ব্যবহার
করা প্রয়োজন।
অ্যান্টিবায়োটিক অপর্যাপ্ত
ব্যবহার এএমআরের
অন্যতম কারণ।
২৯. অধিকাংশ
ক্ষেত্রে জ্বর,
সর্দি-কাশি
ও ডায়রিয়া
ভাইরাসের কারণে
হয়। সেক্ষেত্রে
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার
করা থেকে
বিরত থাকা
ভালো। ৩০.
প্রাণিসম্পদে বা
মেস্য ওজনবর্ধক
হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার দণ্ডনীয়
অপরাধ। ৩১.
সংক্রমণ প্রতিরোধে
ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
বজায় রাখা
প্রয়োজন এবং
নিয়মিত হাত
ধোয়ার অভ্যাস
গড়ে তুলতে
হবে। ৩২.
গবাদি পশু-পাখির
খামারের জীবনিরাপত্তার
ব্যবস্থা নিশ্চিত
করতে হবে।
৩৩. নিয়মিত
খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
রাখতে হবে।
বিজ্ঞানীদের মতামত
হচ্ছে, জীবনিরাপত্তা
ও স্যানিটেশন
ব্যবস্থা কঠোর
করতে হবে
এবং এর
সাথে ভ্যাকসিন
প্রদান কর্মসূচি, all-in
all-out পদ্ধতি,
বিভিন্ন বয়সী
মুরগি স্বতন্ত্রভাবে
প্রতিপালন, ভ্যাকসিন
প্রদান মনিটরিং,
সুষম খাদ্য
সরবরাহ ইত্যাদি
অবশ্যই বৈজ্ঞানিক
পন্থায় গৃহীত
হতে হবে।
আমাদের দেশের
প্রাণিজ আমিষ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়
দেশীয় চাহিদা
পূরণের পাশাপাশি
(মাছ, মাংস,
ডিম, দুধ
এসবের বিভিন্ন
প্রডাক্ট) বিদেশের
বাজারে লোভনীয়
সামগ্রী হিসেবে
গৃহীত হবে,
এটাই আমাদের
আন্তরিক কামনা।
মো. ফজলুল
করিম: উপজেলা প্রাণিসম্পদ
কর্মকর্তা
সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা





