অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট সন্তোষজনক। এর কারণ আমাদের দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে, দেশের জিডিপি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে, কৃষি ও অন্যান্য খাতের উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আমদানি রফতানি খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দেশে সন্তোষজনক হারে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসছে। এমতাবস্থায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনুসরণযোগ্য বলা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন এলপিজি-নির্ভর হয়ে উঠেছে। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে এ গ্যাস পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার বেড়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে আমি মনে করি।

জি-গ্যাস এনার্জিপ্যাকের এলপিজি ব্র্যান্ড। খুলনার দাকোপ উপজেলার চুনকুড়ির ১ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৭৭৫ ডেসিমল জমিতে আমাদের একটি এলপিজি বোতলজাত এবং সিলিন্ডার উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার এলপিজি ধারণক্ষমতা ৫ হাজার ৪০০ দশমিক ৮৩ টন। এটি জি-গ্যাস ব্র্যান্ড নামে দেশে আমদানি, স্টোরেজ, বোতলজাত ও বিপণনের জন্য এলপিজি মার্কেটে কাজ করছে। বর্তমানে জি-গ্যাস সারা দেশে ৩০০টি এলপিজি রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ-যাবত্কালে ১১৬টি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনে আমরা এলপিজি সরবরাহ করছি। প্রকল্পটি নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী এবং ভবিষ্যতে এটি নিয়ে আমাদের আরো অনেক কাজ করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা অয়েল কোম্পানির সঙ্গে তাদের নিবন্ধিত ফিলিং স্টেশনগুলোয় অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন ও এলপিজি অটোগ্যাস সরবরাহের ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।

তবে অন্যান্য খাতের মতো এ সেক্টরেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ থেকে এলপিজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা আমদানি ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বাজারদর বাড়ছে। যদি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতে কাজ করা যেত, তাহলে আমরা বড় জাহাজ থেকে সরাসরি এলপিজি সরবরাহ করতে পারতাম।

যেহেতু এলপিজির একটি বড় অংশই বাংলাদেশে আমদানি করা হয়, সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দামের ওঠা-নামাও একটি চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এলপিজির মূল্য অপরিবর্তিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার শীত, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিলিন্ডার পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অবৈধ ক্রস-ফিলিং এ খাতে এলপিজি সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বড় অন্তরায়। তাই এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং অতিসত্বর এ খাতসংশ্লিষ্ট সব প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদের দেশেও আমরা জ্বালানি ও শক্তি খাতে প্রযুক্তির অসীম সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিকস বাস্তবায়ন, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ক্লাউড ব্যবহার, রোবট ও ড্রোনের মাধ্যমে পরিদর্শন এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার জ্বালানি খাতে আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।

 

নাওইদ রশিদ: চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড