এলপিজি ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যান্য কোম্পানির পাশাপাশি বেক্সিমকো এলপি গ্যাস
বাজারজাত করছে।
এ খাতে
মার্কেট শেয়ারও কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য। নতুন বছরে
এলপি গ্যাস
নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
বাংলাদেশ এখন
র্যাপিড গ্রোথ
পর্যায়ে আছে।
দেশের জন্য
এলপিজি সেক্টরটি
তাই খুব
গুরুত্বপূর্ণ। নতুন
বছরে সিলিন্ডার
ব্যবহারে সচেতনতা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে
কাজ করছি
আমরা, এজন্য
আমাদের ক্যাম্পেইন
প্ল্যানও রয়েছে।
আমরা চাই
সচেতনতা বৃদ্ধির
মাধ্যমে দুর্ঘটনা
কমিয়ে এনে
মানুষের জানমালের
নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে।
বিগত মাসগুলোতে
করোনাভাইরাসের প্রকোপে
বেক্সিমকো এলপিজি
নানাবিধ ব্যবস্থা
গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে
অন্যতম হিসেবে
আমরা ঘরে
বসেই পণ্য
বুঝে নেয়ার
সুবিধার কথা
উল্লেখ করব।
দেশজুড়ে শক্তিশালী
টিম নিয়োগের
মাধ্যমে জেলা
ও উপজেলাভিত্তিক
হোম ডেলিভারি
চালু করেছি
আমরা। ডেলিভারি
সিস্টেমকে আরো
ত্বরান্বিত করতে
বাংলাদেশে আমরাই
প্রথম কাস্টমাইজ
সাইকেল প্রদান
করেছি, যার
মাধ্যমে করোনাকালেও
নির্বিঘ্নে সিলিন্ডার
পৌঁছে দেয়া
যাবে ভোক্তার
দোরগোড়ায়। বেক্সিমকো
এলপিজির ভেরিফায়েড
ফেসবুক পেজেও
আমাদের কল
সেন্টার নাম্বারে
ফোন করে
সাধারণ মানুষ
এ সুবিধা
উপভোগ করছে।
বাড়তি সতর্কতা
হিসেবে দেশের
বিভিন্ন প্রান্ত
থেকে সিলিন্ডার
প্লান্টে আসামাত্রই
তা আগে
জীবাণুনাশক দিয়ে
পরিষ্কার করা
হয়। এরপর
সব নিরাপত্তা
নিশ্চিত করে
আমরা ক্রেতাদের
কাছে বেক্সিমকো
স্মার্ট সিলিন্ডার
পৌঁছে দেয়ার
চেষ্টা করছি।
এলপি গ্যাস
ব্যবহারে গ্রাহক এখন সচেতন
হয়ে পণ্যটি কিনছে। সেক্ষেত্রে অনেকের পছন্দের তালিকায় বেক্সিমকো এলপি গ্যাস। কারণটা কী
বলে মনে
করেন? এ
খাতে আপনাদের মার্কেট শেয়ার
কত?
একজন দায়িত্বশীল
নাগরিক হিসেবে
ভাবতে ভালো
লাগে যে
এখন মানুষ
এলপিজি ব্যবহারে
আগের চেয়ে
অনেক বেশি
সচেতন হয়েছে।
মানুষ এখন
ভালো আর
মন্দের তফাত
বোঝে, জানে
কী তার
পরিবারের জন্য
নিরাপদ হবে।
এজন্যই দিন
দিন বেক্সিমকো
স্মার্ট এলপিজি
সিলিন্ডারের চাহিদা
বাড়ছে।
কারণ হিসেবে
আমি বলব
যে ইউরোপিয়ান
স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন
এবং স্পেসিফিকেশন
অনুসারে তৈরি
আমাদের ফাইবার
গ্লাস সিলিন্ডারগুলো
যেমন টেকসই
তেমন নিরাপদ।
এ কম্পোজিট
সিলিন্ডারগুলোতে গ্লাস
ফাইবার ও
রেজিনের তিনটি
স্তর থাকে,
যা সিলিন্ডারকে
দেয় অভাবনীয়
শক্তি ও
স্থায়িত্ব। এছাড়া
এ সিলিন্ডারের
কিছু বিশেষ
বৈশিষ্ট্য রয়েছে,
যা বাজারের
অন্য সিলিন্ডার
থেকে এটাকে
আলাদা করেছে।
ক্রেতারা এ
সিলিন্ডার খুব
পছন্দ করেন।
কারণ বেক্সিমকো
স্মার্ট সিলিন্ডারে
গ্যাসের লেভেল
বাইরে থেকে
দেখা যায়।
এছাড়া সাধারণ
সিলিন্ডারের তুলনায়
প্রায় অর্ধেক
ওজন এবং
মরিচা পড়ে
না। সব
থেকে বড়
যে সুবিধা
তা হলো
এটি শতভাগ
বিস্ফোরণরোধী, তাই
পরিবারের নিরাপত্তায়
এটিই সেরা।
এজন্যই ক্রেতারা
আমাদের স্মার্ট
সিলিন্ডারের ওপর
আগ্রহী হয়ে
উঠছে।
এ মুহূর্তে
বেক্সিমকো এলপিজির
মার্কেট শেয়ার
৬ শতাংশ।
এ বছর
মার্কেট শেয়ার
৮ শতাংশে
এবং ২০২৩
সালে ১০
শতাংশে নিয়ে
যাওয়ার লক্ষ্যে
কাজ করছি
আমরা।
বর্তমানে এলপি
খাতে ৩২
হাজার কোটি
টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। বাজার
পর্যালোচনায় আরো
বৃহৎ আকারে
বিনিয়োগ করার
সুযোগ কতটুকু? আপনারা আরো
বেশি বিনিয়োগ নিয়ে ভাবছেন কিনা?
সত্যি কথা
বলতে গেলে
এলপিজি হচ্ছে
ভবিষ্যৎ। নিত্যদিনের
ব্যবহারে এখন
আর এলপিজির
বিকল্প নেই
বললেই চলে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের
রিজার্ভ সীমিত
এবং তা
শেষের পথে।
এরই মধ্যে
সরকার নতুন
করে কোনো
গ্যাসের সংযোগ
দেয়া বন্ধ
করেছে। তাই
বাসাবাড়িতে প্রাত্যহিক
ব্যবহারে জায়গা
করে নিয়েছে
এলপিজি। এখন
শুধু বাসাবাড়িতেই
যে এলপিজি
ব্যবহার হচ্ছে
তাও কিন্তু
নয়, বড়
বড় কল-কারখানা,
হোটেল-রেস্টুরেন্ট,
ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর
ও যানবাহনের
জ্বালানি হিসেবেও
এর বহুল
ব্যবহার হচ্ছে।
নিরাপদ ও
সাশ্রয়ী জ্বালানি
হিসেবে যানবাহনে
ব্যবহারের জন্যও
জায়গা করে
নিয়েছে এলপিজি।
তাই আরো
বৃহৎ বিনিয়োগের
সুযোগ রয়েই
যায়। বিশদে
বলতে গেলে,
২০১৩ সালে
৮০ হাজার
টন এলপিজির
চাহিদা ছিল।
এ খাতে
ব্যাপকভাবে চাহিদা
বেড়েছে ২০১৬
সাল থেকে।
৮০ হাজার
টন ২০১৬
সালে এসে
প্রায় চার
লাখ টনে
চলে গিয়েছিল।
২০২০ সালে
এসে সেটি
১২ লাখ
৩০ হাজার
টনে চলে
আসে। বাংলাদেশে
কোনো খাতেই
এত অল্প
সময়ের মধ্যে
এত প্রবৃদ্ধি
আসেনি। বর্তমানে
বাজারে এর
চাহিদা আছে
সাড়ে ১৮
লাখ টন,
যা ২০২৫
সালের মধ্যে
২৩ লাখ
টনে উন্নীত
হবে।
বাজারে এখন
কতগুলো কোম্পানি এলপি গ্যাস
বাজারজাত করছে?
দীর্ঘমেয়াদি বাজার
ব্যবস্থাপনায় এ
খাতে ঝুঁকি
দেখছেন কিনা?
বাংলাদেশের বাজারে
২৭টি কোম্পানি
রয়েছে। বাংলাদেশের
মতো ছোট
একটি দেশে
২৭ জন
অপারেটর সংখ্যাটি
অনেক, যেখানে
আমাদের পার্শ্ববর্তী
দেশগুলোতে বড়জোর
পাঁচ-ছয়টি
কোম্পানি এলপিজি
বাজারজাত করে।
কোম্পানি বেশি
থাকার কারণে
বাজারে টিকে
থাকতে অনেকেই
কম দামে
সিলিন্ডার বিক্রি
করছে। ফলে
একেকটি সিলিন্ডারে
অনেক টাকা
ভর্তুকি দিয়ে
আমাদের ব্যবসা
করতে হচ্ছে।
এটি নিঃসন্দেহে
একটি কোম্পানির
টিকে থাকার
জন্য হুমকিস্বরূপ।
রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে অটোগ্যাসের বাজার
প্রসারিত হচ্ছে। এরই মধ্যে
বাজারে হাইব্রিড গাড়ি চলে
এসেছে। অটোগ্যাসের প্রসারে হাইব্রিড গাড়ি কোনো
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে কিনা?
অটোগ্যাস এরই
মধ্যে বিশ্বজুড়ে
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি
হিসেবে অত্যন্ত
জনপ্রিয় ও
প্রশংসিত। পৃথিবীর
অন্যান্য উন্নত
দেশেও হাইব্রিড
গাড়ি রয়েছে।
কিন্তু পাশাপাশি
এলপিজি চালিত
গাড়ির চাহিদাও
কম নয়।
বাজারে নতুন
একটি মাধ্যম
আসছে, এটা
ভালো ব্যাপার।
তবে আমি
মনে করি
না যে
হাইব্রিড গাড়ি
আসা মানেই
এলপিজির বাজার
কমে যাওয়া।
দুটি সম্পূর্ণ
দুই ধরনের
সেগমেন্ট।
অটো গ্যাসে
মাইলেজ বেশি
পাওয়া যায়।
গাড়ির যন্ত্রাংশও
ভালো থাকে।
তুলনা করলে
এটি অকটেনের
মতোই সার্ভিস
দেয়। সিএনজি
ব্যবহারে গাড়িতে
যে সমস্যাগুলো
হয়, এলপিজিতে
সেগুলো হয়
না। অধিক
তাপ হয়
না, ওজন
কম। ফলে
গাড়ি ঝুঁকিমুক্ত
থাকে। এ
কারণে একটি
সেগমেন্টের মানুষ
অটোগ্যাসে ভরসা
করবে বলে
আমি মনে
করি।
আর বেক্সিমকো
অটোগ্যাস নিয়ে
বলতে গেলে,
আমরা একসঙ্গে
কাজ করার
লক্ষ্যে মেঘনা
পেট্রোলিয়াম লিমিটেড,
পদ্মা অয়েল
কোম্পানি লিমিটেড
এবং যমুনা
অয়েল কোম্পানি
লিমিটেডের সঙ্গে
এরই মধ্যে
চুক্তি স্বাক্ষর
করেছি। ফলে
এখন থেকে
তাদের নিবন্ধিত
ফিলিং স্টেশনগুলোতে
এলপিজি পাম্প
স্থাপন ও
অটোগ্যাস বিক্রি
করতে পারবে
বেক্সিমকো এলপিজি।
এ মুহূর্তে
বেক্সিমকো এলপিজির
৫০০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি
লাইসেন্স ও
কনভারশন ওয়ার্কশপ
স্থাপনে ২৫টি
লাইসেন্স রয়েছে,
যা ২০১৬
সালে জ্বালানি
ও খনিজ
সম্পদ বিভাগ
কর্তৃক প্রদান
করা হয়েছিল।
বর্তমান সময়ে
বেক্সিমকো এলপিজি
আগ্রহী ফিলিং
স্টেশন মালিকদের
এলপিজি ডিসপেনসার
স্থাপন করতে
সম্পূর্ণ সহায়তা
দিচ্ছে।
সরকার থেকে
এলপি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই মূল্য
বেক্সিমকো কতটুকু কার্যকর করেছে। এলপি গ্যাসের মূল্য প্রদর্শনের জন্য কমিশন
নির্দেশনা দিয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা বেক্সিমকো কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে?
বেক্সিমকো এলপিজি একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বরাবরই সরকারের নির্ধারিত সব নিয়ম ও নীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেছে। প্রথম থেকে বেক্সিমকো এলপিজি সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যে সিলিন্ডার বাজারজাত করে আসছে। এরই মধ্যে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা আমাদের সব ডিস্ট্রিবিউশন ও খুচরা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য তালিকা দিয়েছি, যা প্রতি মাসেই সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্য অনুযায়ী আপডেট রাখা হবে। আমরা চাই, সাধারণ মানুষ যেন মূল্যসংক্রান্ত সব ভোগান্তি এড়িয়ে নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।





