পেট্রোম্যাক্স এলপিজি ইয়ুথ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪০ বছর ধরে ইয়ুথ গ্রুপ ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক অবদানের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ও ব্যবসায়িক প্রসারের অংশ হিসেবে পেট্রোম্যাক্স এলপিজি বাজারে আসে ২০১৮ সালে।

ভোক্তা চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে আমাদের রয়েছে মোংলা ও ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের দুটি এলপিজি টার্মিনাল, টাঙ্গাইলে ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড নিজস্ব সিলিন্ডার ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট, দুটি এলপিজি বহনকারী ভেসেল, সুদক্ষ কর্মীবাহিনী ও দেশব্যাপী বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক। মাত্র চার বছরে আমরা আমদানি ও বিক্রির ক্ষেত্রে পঞ্চম স্থানে চলে আসতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে আমাদের প্রায় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন সিলিন্ডার বাজারে আছে।

২০২২ সালে গত বছরের তুলনায় আমাদের প্রায় ২০ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা আছে। ভোক্তাদের কাছে পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় আমাদের আরো ২টি এলপিজি প্লান্ট সম্প্রসারণের জন্য আমরা এরই মধ্যে পরিকল্পনা পর্যায়ে কাজ করছি।

বর্তমানে এলপিজি গ্রাহক আগের তুলনায় পণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। এলপি গ্যাস ব্যবহারে অনেক গ্রাহক সচেতন হয়ে পণ্যটি কিনছেন, সেক্ষেত্রে পেট্রোম্যাক্স এলপি গ্যাস গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় অন্যতম সেরা। গ্রাহকদের মনে এ জায়গা করে নেয়ার জন্য প্রথম থেকেই পেট্রোম্যাক্স এলপিজির পরিবেশক, রিটেইলার ও ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আমাদের সুদক্ষ লজিস্টিকস ও বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত দেশের আনাচেকানাচে আমাদের পণ্যটি সহজলভ্য করতে সক্ষম হয়েছি এবং অঞ্চলভিত্তিক ব্র্যান্ড প্রমোশন কার্যক্রমের মাধ্যমে পেট্রোম্যাক্স এলপিজির শতভাগ আন্তর্জাতিক গুণগত মানের নিশ্চয়তা ভোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।

আমাদের গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা খুবই গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি। আমাদের গ্রাহকরা এখন ঘরে বসে আমাদের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সিলিন্ডার হোম ডেলিভারি পেতে পারেন।

নিরাপদ জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। ২০২০ সালে দেশে এলপিজির ব্যবহার ছিল প্রায় ১২ লাখ টন, ২০২১ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ হ্রাসের কারণে বাসাবাড়িতে সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজির চাহিদা বাড়তে থাকে। বাজারে এখন অনেকগুলো কোম্পানি এলপি গ্যাস বাজারজাত করছে। চাহিদার তুলনায় অধিক জোগান বর্তমানে এ খাতের একটি প্রধান সমস্যা। ফলে বর্তমান বাজারে একটি অসুস্থ মূল্য প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। আবার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা ভেবে ভর্তুকি মূল্যে সিলিন্ডার বাজারে দেয়া হলে একটি অসৎ চক্র সিলিন্ডার স্ক্র্যাপিং করে এলপিজি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ নষ্ট করছে।

বাংলাদেশে এলপিজি সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশে এলপিজির বাজারমূল্য আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে সৌদি আরামকো কোম্পানি। তারা যে মূল্য নির্ধারণ করে আমরা সেই মূল্যে আমদানি করে নিয়ে আসি এবং ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি মূল্য সাধারণত আমাদের এ আন্তর্জাতিক বাজারের আমদানি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।

ভোক্তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক বর্তমানে এলপি গ্যাসের ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। বাজারে এলপিজি মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করার ব্যাপারে পেট্রোম্যাক্স এলপিজি খুবই আন্তরিক। এরই মধ্যে আমাদের সব পরিবেশক ও রিটেইলারকে সরকারের নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রকাশ ও সেই মূল্যে বিক্রয়ের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি।

যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার ধীরে ধীরে আমাদের দেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কারণ এলপিজি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং কম কার্বন নিঃসৃত হওয়ায় গাড়ির ইঞ্জিন ভালো থাকে দীর্ঘদিন, মাইলেজ বেশি পাওয়া যায়।

 

ফিরোজ আহমেদ: চিফ অপারেটিং অফিসার

পেট্রোম্যাক্স এলপিজি লিমিটেড