২০১৫ সাল
থেকে এলপি
গ্যাস বিক্রি করছে ওমেরা
পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (ওপিএল)।
এ খাতে
কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ার এখন
দ্বিতীয়। এলপি
গ্যাসের বাজার
এখন আরো
বড় হচ্ছে। বাজার সম্প্রসারণে নতুন বছরে
ওমেরার পরিকল্পনা কী?
২০১৫ সালে
যাত্রা শুরু
হওয়া ওমেরা
পেট্রোলিয়াম এখন
দেশের দ্বিতীয়
সর্বোচ্চ এলপিজি
অপারেটর। ওপিএল
প্রথম রিভারাইনভার্স
দিয়ে সরবরাহ
চক্র নিশ্চিত
করেছে। স্বল্প
সময়ে পণ্যের
গুণগতমান শতভাগ
নিশ্চিত করায়
ওমেরা এখন
ভোক্তার কাছে
প্রিয় একটি
নাম। আমরা
আমাদের এ
সাফল্যের অগ্রযাত্রা
অব্যাহত রাখতে
চাই। আর
এজন্য আমাদের
দক্ষ কর্মীবাহিনী
নিরলসভাবে কাজ
করে যাচ্ছে।
নতুন বছরে
ব্যবসায় আরো
গতি আনতে
আমরা বিভিন্ন
পদক্ষেপ নিচ্ছি,
যা আমাদের
ভোক্তাসেবা এবং
অভিজ্ঞতা আরো
উন্নত করবে।
ওমেরা এলপিজির সারা দেশে
পরিবেশক ও
গ্রাহক সংখ্যা কত?
সারা দেশে
এলপি গ্যাস
সরবরাহে বৃহৎ
নেটওয়ার্ক গড়ে
তুলেছে ওমেরা।
বর্তমানে ২২০টির
বেশি পরিবেশক
রয়েছে। খুচরা
বিপণন কেন্দ্র
রয়েছে ৩৫
হাজার। বাগেরহাটের
মোংলায় ওমেরার
মাদার প্লান্ট।
এছাড়া ওমেরার
রয়েছে রোড
ট্যাংকারপুল।
এলপি গ্যাস
ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কথা
মাথায় রেখে
গ্রাহক এখন
সচেতন হয়ে
পণ্যটি কিনছে,
সেক্ষেত্রে গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় ওমেরা এলপিজি থাকার কারণ
নিরাপত্তা নাকি
মূল্য?
এখানে বেশ
কয়েকটি বিষয়
কাজ করে।
প্রথমত, সিলিন্ডারে
নিরাপত্তাজনিত ব্যাপারটি
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওমেরার সেফটি
রেকর্ড বাজারের
অন্যান্য সিলিন্ডারের
তুলনায় অনেক
বেশি শক্তিশালী।
একটি বিষয়ে
অনুসন্ধান জরুরি।
সেটি হলো
কম মূল্যের
এলপি গ্যাস
সিলিন্ডার সরবরাহকারী
প্রতিষ্ঠানগুলো সিলিন্ডারের
নিরাপত্তার বিষয়ে
যথেষ্ট ইতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গি রাখে
কিনা। এছাড়া
আরো কয়েকটি
বিষয় রয়েছে,
যা আমরা
মার্কেট সার্ভে
করে পেয়েছি
তা হলো
ওমেরার সিলিন্ডারের
রঙ (লেমনগ্রিন)।
যা গৃহিণীদের
কাছে খুব
আকর্ষণীয়। এছাড়া
ওমেরা এলপি
গ্যাস সিলিন্ডার
অন্য এলপি
গ্যাস বাজারজাতকারী
প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারের
চেয়ে দুই
ঘণ্টা থেকে
দুদিন পর্যন্ত
বেশি ব্যবহার
করা যায়।
এর বাইরে
ওমেরা পেট্রোলিয়াম
একমাত্র কোম্পানি,
যা বাংলাদেশ
সরকার কর্তৃক
পরপর দুবার
সেরা এলপিজি
কোম্পানি হিসেবে
স্বীকৃতি পেয়েছে।
কমপ্লায়েন্স ও
প্রক্রিয়াগত উন্নত
প্রযুক্তি ব্যবহারের
ফলে এ
সুবিধা পাওয়া
যায়। এর
বাইরে দেশব্যাপী
শক্তিশালী নেটওয়ার্কের
কল্যাণে ওমেরার
এলপি গ্যাস
সহজলভ্য হওয়ায়
গ্রাহকরা দ্রুত
পেতে পারেন।
সিলিন্ডারের মানের
ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডের কথা
বলছেন আপনারা। এটির ব্যাখ্যা কী?
ওমেরা ইস্ট
কোস্ট গ্রুপের
একটি প্রতিষ্ঠান।
জ্বালানি খাতে
এ প্রতিষ্ঠানের
রয়েছে ৪০
বছরের বেশি
অভিজ্ঞতা। আমাদের
প্রতিটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের
মূল বৈশিষ্ট্য
হলো প্রযুক্তিগত
উত্কর্ষ নিশ্চিত
করা, যা
আমাদের সব
প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত
করা হয়েছে।
আমাদের সব
এলপি গ্যাস
ফ্যাক্টরির শুরু
থেকে শেষ
পর্যন্ত প্রতিটি
ধাপে যত
মেশিনারিজ ব্যবহার
করা হয়েছে,
তার সব
ইউরোপিয়ান প্রযুক্তির।
যা ওমেরাকে
অন্যের থেকে
আলাদা করেছে।
আমাদের এ
স্ট্যান্ডার্ড, আধুনিক
স্থাপনা এবং
কমপ্লায়েন্স রেকর্ডের
দিক থেকে
বাংলাদেশে আমরা
একমাত্র এলপিজি
কোম্পানি। ওমেরা
ওয়ার্ল্ড এলপিজি
অ্যাসোসিয়েশনের একমাত্র
ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিল
মেম্বার।
বাজারে বর্তমানে ২৭টি কোম্পানি এলপি গ্যাস
বাজারজাত করছে।
প্রতিযোগিতা যেমন
বাড়ছে, তেমনি
গ্যাসের চাহিদাও বেড়েছে। মার্কেটে চ্যালেঞ্জ আসলে
কতটুকু?
এলপিজি খাতে প্রচুর বিনিয়োগ
আসছে এখন।
আগামীর জ্বালানি
হবে গ্রিন
ফুয়েল। পরিবেশবান্ধব
জ্বালানির বিকল্প
নেই। তবে
টেকসই এলপিজি
খাতের জন্য
সরকারের নীতিসহায়তা
জরুরি। সরকারের
মূল্য নির্ধারণকারী
প্রতিষ্ঠান এলপি
গ্যাসের মূল্য
পুনর্নির্ধারণ করে
দেয়ার পরও
কিছু প্রতিষ্ঠান
কম দামে
বাজারে এলপি
গ্যাস বিক্রি
করছে। অসুস্থ
এ প্রতিযোগিতা
রোধে নিয়ন্ত্রক
প্রতিষ্ঠানকে আরো
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
অনুসরণ করা
দরকার।
এলপি গ্যাসের মূল্যের ক্ষেত্রে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যে তারতম্য দেখা
যায়। গ্রাহকরা এটা নিয়ে
নানা ধরনের
প্রশ্ন তোলেন। এটার ব্যাখ্যা কী?
এলপিজির কাঁচামাল
সম্পূর্ণ বৈশ্বিক
বাজারের মূল্যের
ওপর নির্ভরশীল।
প্রতি মাসেই
এলপিজির কাঁচামালের
মূল্যের ওঠানামা
হয়। যারা
এলপি গ্যাস
আমদানি করে
তাদের সবার
জন্যই এ
মূল্য প্রযোজ্য।
এক্ষেত্রে আমাদের
কিছুই করার
থাকে না।
তবে সরকার
একটি ভালো
পদক্ষেপ নিয়েছে।
তা হলো
মাসের প্রথম
সপ্তাহের মধ্যে
বাংলাদেশ এনার্জি
রেগুলেটরি কমিশন
(বিইআরসি) বাজারে
খুচরা মূল্য
নির্ধারণ করে
দিচ্ছে। আর
কাজটি এলপিজি
অপারেটর এবং
সরকারের একান্ত
আন্তরিক প্রচেষ্টার
মাধ্যমে সফল
হয়েছে। এক্ষেত্রে
এলপিজি অপারেটরস
অ্যাসোসিয়েশন অব
বাংলাদেশ (লোয়াব)
সভাপতি ও
ইস্ট কোস্ট
গ্রুপের চেয়ারম্যান
আজম জে
চৌধুরীর ঐকান্তিক
প্রচেষ্টা অন্যতম।
এলপি গ্যাসের বাজার সম্প্রসারণে কোম্পানি পর্যায়ে বড় কোনো
পরিকল্পনা আছে
কিনা?
ওমেরা শুরু
থেকেই এ
খাতে বৃহৎ
আকারে বিনিয়োগ
করে আসছে।
যার কারণে
স্বল্প সময়ে
ওমেরা দেশের
প্রতিটি স্থানে
অত্যন্ত দ্রুত
ও সফলভাবে
পৌঁছতে সক্ষম
হয়েছে। সময়ের
চাহিদার সঙ্গে
সামঞ্জস্য রেখেই
আমরা সেবার
মান উন্নয়ন
ও সরবরাহ
বৃদ্ধি করতে
সবসময় অবকাঠামোগত
উন্নয়ন ও
ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে
যাচ্ছি।
এনার্জি কমিশন
থেকে এলপি
গ্যাসের মূল্য
প্রতি মাসে
পুনর্নির্ধারণ করা
হচ্ছে। এই
মূল্য কার্যকরে ওমেরা কতটুকু আন্তরিক?
আগেও বলেছি
ওমেরা একটি
কমপ্লায়েন্স কোম্পানি।
সরকারের যেকোনো
সুদূরপ্রসারী ও
যৌক্তিক সিদ্ধান্তের
প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
সরকার কর্তৃক
মূল্য নির্ধারণের
সঙ্গে সঙ্গে
আমরা নিশ্চিত
করি যেন
আমাদের সব
রিটেইলার পয়েন্টে
মূল্য তালিকা
সময়মতো হাল
নাগাদ করা
হয়, যা
ক্রেতার দৃষ্টিগোচরে
থাকে। কিন্তু
মার্কেটে একটি
অস্থির অবস্থা
সৃষ্টি হচ্ছে,
কারণ সরকারের
মূল্য নির্ধারণকারী
প্রতিষ্ঠান এলপি
গ্যাসের দাম
নির্ধারণ করে
দেয়ার পরও
কিছু প্রতিষ্ঠান
এর চেয়ে
কম দামে
বাজারে গ্যাস
বিক্রি করছে।
এমন অসুস্থ
প্রতিযোগিতা শিল্পে
শঙ্কা তৈরি
করছে। প্রতিযোগিতায়
টিকতে না
পেরে প্রকৃত
প্রতিষ্ঠানগুলো রুগ্ণ
হয়ে পড়ছে।
এ অসুস্থ
প্রতিযোগিতা রোধে
এলপিজির মূল্য
নির্ধারণে তদারকি
প্রতিষ্ঠানকে আরো
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
অনুসরণ করতে
হবে।
এলপি গ্যাসের আরেকটি রূপান্তর অটোগ্যাস। গাড়িতে এখন সিএনজির পরিবর্তে অটোগ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। সামনে এটি
আরো বৃহৎ
জায়গা দখলে
নেবে। এ
খাতে ব্যবসায়িক সাড়া কেমন?
পরিবহন খাতে এখন এলপি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। দিন দিন ব্যবহারের পরিমাণও বাড়ছে। এটি পরিবেশবান্ধব। সরকার সারা দেশে ২ হাজার ৫৫০টিরও অধিক এলপি গ্যাসস্টেশনের অনুমতি দিয়েছে, যা এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীদের কাছে সহজলভ্য করে তুলছে। ওমেরার একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওমেরা গ্যাসওয়ান এই সেবা দিচ্ছে। ৩২টির বেশি অটোগ্যাস স্টেশন এরই মধ্যে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ওমেরা ইতালিয়ান পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।





