ডলারের মান বৃদ্ধি দেশের কোম্পানিগুলোকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যায় ফেলছে কি?

হ্যাঁ। বিশ্বব্যাপী ডলার সংকটের কারণে এর মান বেড়েছে। হয়তো জেনে থাকবেন, মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপ সব পণ্যই মূলত আমদানীকৃত উন্নত মানের কাঁচামাল থেকে দেশে উৎপাদন করা হয়। ডলার সংকট এবং এর মান বৃদ্ধির কারণে কাঁচামালের দামও বেড়েছে অনেকাংশে। এছাড়া ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলা নিয়ে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনা ও দীর্ঘসূত্রতায়। এলসি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আমদানীকৃত কাঁচামাল শিপমেন্টও দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায়ও। সময়মতো কাঁচামাল না পাওয়ায় পণ্য উৎপাদন ধীর হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে পণ্য উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষের সক্ষমতার কথা চিন্তা করে আমরা পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়াতে পারছি না। ফলে ডলারের মান বৃদ্ধির কারণে একটি ব্যবসায়িক সমস্যা দিন শেষে থেকেই যাচ্ছে। তবে আশা করছি, দ্রুতই ডলারের এ সংকট সমাধান হবে আর আমরাও আগের মতো স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারব। 

দেশী কোম্পানিগুলো আরো বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা আপনার চোখে ধরা পড়েছে কি?

বাংলাদেশে দেশীয় ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার বিকাশ লাভ করার আগ পর্যন্ত পুরো ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজারটাই বিদেশী পণ্যের দখলে ছিল। তবে গুণগত মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় নকশাসংবলিত দেশী পণ্য বাজারজাত শুরু হওয়ার পরই এ চিত্র ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। পণ্যের গুণগত মান ঠিক থাকায় গ্রাহক দেশী পণ্যের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। বিশেষ করে মিনিস্টার-মাইওয়ান ব্র্যান্ড বাজারে যে বিশাল অংশের মার্কেট শেয়ার বর্তমানে ধরে রেখেছে তাতে এটা বেশ পরিষ্কার যে ক্রেতারা আন্তর্জাতিক গুণগত মানসম্পন্ন দেশী ব্র্যান্ডগুলোকেই বেছে নিচ্ছে। তাই দিন দিন দেশী কোম্পানিগুলোর মার্কেট শেয়ার বাড়ছে। বর্তমানে ৮০ শতাংশেরও বেশি বাজার দেশী ইলেকট্রনিকস কোম্পানির দখলে। 

ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার বিকাশে সরকারি নীতিসহায়তা কেমন পাওয়া গেছে? বর্তমান পরিস্থিতিতে এ খাতের জন্য নতুন কোনো সহায়তার প্রয়োজন দেখছেন কি?

ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে সরকারি নীতিসহায়তা অনেক বেশি পাওয়া যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় শিল্পগুলোর জন্য আরো এক-দুই বছর কর সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা অর্জনে বিদ্যমান সুবিধা আগামী এক-দুই বছর বাড়ানো হলেও হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এতে পণ্যমূল্য বাড়বে এবং শিল্পের সক্ষমতা কমবে। দেশকে শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্নভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে আছেন। তবে ইলেকট্রনিকস শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার ‍যদি আরো কিছু ধরনের সহায়তা করেন তাহলে এ শিল্প আরো অনেক দূর এগিযে যাবে বলে মনে করি। সুবিধাগুলো হলো গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম, নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, বাজার প্রণোদনা ও সহায়তা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যনীতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার মাধ্যমে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বাজারে দেশী কোম্পানিগুলো কেমন করছে?

গত বছর গরম শুরু হওয়ার পর পরই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র অর্থাৎ এসির চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছিল। এ বছরও গরম আসার আগেই বাজারে এসির বেশ চাহিদা দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, ক্রমান্বয়ে এ চাহিদা আরো বাড়বে। এ বছর তাপমাত্রা গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা ৩০ হাজারেরও বেশি এসি উৎপাদন ও বাজারজাতের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এসির বাজারে দেশী কোম্পানিগুলোর দাপটই বেশি। এর প্রধান একটি কারণ হলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দেশী এসিগুলোর বাজারমূল্য বিদেশী এসির তুলনায় অনেক কম।

সামনে ঈদুল ফিতর। এ উৎসবে কোন কোন ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়ে?

কয়েক বছর ধরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা দুটো ঈদই আসছে গরমের মধ্যে। সেজন্য দুটো ঈদ উপলক্ষেই মোটামুটি সব পণ্যের চাহিদা বাড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফ্রিজ ও এসির ওপরই বেশি চাহিদা দেখা যায়। তবে রমজানকে কেন্দ্র করে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের চাহিদাও বাড়ে ব্যাপক হারে। এছাড়া টেলিভিশন বিক্রি বছরজুড়েই থাকে। তবে সামনে যেহেতু দুটো ঈদ এবং টি২০ বিশ্বকাপ সেহেতু টিভি বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় এ সময় বেড়ে যাবে বলে আশা করছি।

ঈদ উপলক্ষে আপনারা এবার কী ধরনের ছাড় বা অফার রাখছেন ক্রেতাদের জন্য? 

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপ নিয়ে এসেছে ‘জব্বর ব্যাপার—শতকোটি টাকার ঈদ উপহার’ নামে বিশেষ অফার। এ অফারে ক্রেতা সব পণ্যের সঙ্গে একটি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবে, যা ঘষলেই পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ইনস্ট্যান্ট গিফট বক্স, শতভাগ পর্যন্ত ফ্রি পণ্যসহ নিশ্চিত আকর্ষণীয় সব পুরস্কার। সঙ্গে থাকছে ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট।