সভ্যতার ক্রমবিকাশের
জন্য অপরিহার্য
উপাদান বিদ্যুৎ।
জীবাশ্ম জ্বালানির
মাধ্যমে বিদ্যুৎ
উৎপাদন বিশ্বব্যাপী
প্রায় ৭৩
শতাংশ কার্বন
নিঃসরণ করে।
এক যুগ
আগেও আমাদের
কাছে লোডশেডিং
খুব পরিচিত
ছিল। বিগত
এক যুগে
বিদ্যুৎ খাতে
ব্যাপক হারে
সরকারি ও
বেসরকারি বিনিয়োগের
ফলে এ
খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা
অর্জিত হয়েছে।
২০০৯ সালে
দেশে মাত্র
২৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র
ছিল, বর্তমানে
তা ১৪৬টি।
দেশে বর্তমানে
মোট বিদ্যুৎ
উৎপাদনক্ষমতা ২৫২৩৫
মেগাওয়াট এবং
প্রায় শতভাগ
জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের
সুবিধা পাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
একটি বড়
অংশ প্রাকৃতিক
গ্যাসের ওপর
নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক
কালে বিভিন্ন
সমীক্ষা থেকে
দেখা যায়,
ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক
গ্যাসের চাহিদার
বিপরীতে বিদ্যমান
গ্যাসক্ষেত্র থেকে
সরবরাহ প্রায়
কঠিন হয়ে
পড়েছে এবং
নতুন গ্যাসক্ষেত্র
আবিষ্কার না
হলে আগামীতে
চাহিদার তুলনায়
সরবরাহ ক্রমান্বয়ে
কমতে থাকবে।
এছাড়া বিদ্যুতের
ক্রমবর্ধমান চাহিদা
ও উন্নয়নের
গতি অক্ষুণ্ন
রাখতে কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন
করতে হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন
ও কার্বন
নিঃসরণ হ্রাসের
নিমিত্তে বিশ্বব্যাপী
জীবাশ্ম জ্বালানি
থেকে বিদ্যুৎ
উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত
করা হচ্ছে।
প্রচলিত বিদ্যুতের
পাশাপাশি নবায়নযোগ্য
জ্বালানি ব্যবহারের
হার ক্রমাগত
বাড়ছে। বিশ্বের
বিভিন্ন দেশ
এরই মধ্যে
তাদের মোট
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
একটি অংশ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
থেকে উৎপাদনের
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করেছে। বাংলাদেশ
২০০৮ সালে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
নীতিমালা প্রণয়ন
করে এবং
২০২০ সাালের
মধ্যে মোট
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
১০ শতাংশ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
থেকে উৎপাদনের
লক্ষ্যমাত্রা ঠিক
করা হয়েছিল।
তবে লক্ষ্যমাত্রার
তুলনায় নবায়নযোগ্য
জ্বালানি খাতের
অর্জন এখনো
আশানুরূপ নয়।
বর্তমানে প্রায়
৭৭৫.৭৯
মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য
জ্বালানি থেকে
উৎপাদন হচ্ছে।
১৯৫৭ সালে
কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী
নদীর ওপর
দেশের প্রথম
পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র
নির্মাণের মধ্য
দিয়ে নবায়নযোগ্য
জ্বালানির সূচনা
হয়। পরবর্তী
সময়ে এ
কেন্দ্রে ৫০
মেগাওয়াট কাপলান
টাইপের টারবাইন
সংবলিত চতুর্থ
ও পঞ্চম
ইউনিট স্থাপন
করা হয়,
যাতে মোট
বিদ্যুৎ উৎপাদন
২৩০ মেগাওয়াট
পর্যন্ত বৃদ্ধি
পায়। বেসরকারি
উদ্যোগে সিলেটে
প্রথম সোলার
হোম সিস্টেম
স্থাপনের মাধ্যমে
সৌরবিদ্যুৎ যুগের
সূচনা হয়।
পরবর্তী সময়ে
১৯৯৬ সালে
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট
কোম্পানি লিমিটেড
(ইডকল) কর্তৃক
সোলার হোম
সিস্টেম কর্মসূচি
ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত
হয়। এ
পর্যন্ত প্রায়
৬ মিলিয়ন
সোলার হোম
সিস্টেম স্থাপন
করা হয়েছে,
যা সমগ্র
বিশ্বে সোলার
হোম কার্যক্রমে
রোল মডেল
হিসেবে বিবেচিত
হচ্ছে। এ
কর্মসূচির মাধ্যমে
প্রতি বছর
২২৫ মিলিয়ন
মার্কিন ডলার
মূল্যের ১
লাখ ৮০
হাজার টন
কেরোসিনের সাশ্রয়
হচ্ছে। তাছাড়া
কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন
কাজে প্রায়
৭০ হাজার
মানুষ প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে
জড়িত। নবায়নযোগ্য
জ্বালানি সম্প্রসারণে
সোলার প্যানেল,
সোলার প্যানেল
প্রস্তুতের উপাদান,
চার্জ কন্ট্রোলার,
ইনভার্টার, এলইডি
লাইট, সৌরচালিত
বাতি ও
বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের
ওপর সরকার
শুল্ক অব্যাহতিমূলক
প্রণোদনা প্রদান
করেছে। সম্প্রতি
নবায়যোগ্য জ্বালানি
খাতে বেসরকারি
খাত মিনিগ্রিড,
মাইক্রোগ্রিড এবং
আইপিপির মাধ্যমে
বিনিয়োগে আগ্রহ
পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তবে সৌরবিদ্যুৎ
পার্ক তৈরির
জন্য প্রয়োজনীয়
অকৃষি জমির
সংকট একটি
বড় অন্তরায়।
দেশের নবায়নযোগ্য
জ্বালানি সম্প্রসারণ
ও জ্বালানি
দক্ষতা অর্জনে
সরকার ২০১২
সালে টেকসই
ও নবায়নযোগ্য
জ্বালানি উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)
গঠন করে।
প্রতিষ্ঠানটি ২২
মে ২০১৪
থেকে তার
কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে
শুরু করে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
সম্প্রসারণ ও
বিভিন্ন অবকাঠামো
সেক্টরে জ্বালানি
দক্ষতা নিশ্চিতকরণ
স্রেডার মূল
লক্ষ্য। স্রেডা
সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি
অন্যান্য নবায়নযোগ্য
উৎস থেকে
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
সম্ভাব্যতা যাচাই
করছে। এরই
মধ্যে বায়োমাস
রিসোর্স অ্যাসেসমেন্ট
ও বায়ুবিদ্যুৎ
উৎপাদনের জন্য
উইন্ড রিসোর্স
ম্যাপিং করা
হয়েছে। আমাদের
বিস্তীর্ণ উপকূলীয়
এলাকায় বায়ুবিদ্যুতের
টারবাইন বসিয়ে
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
উজ্জ্বল সম্ভাবনা
রয়েছে। বায়ুবিদ্যুতের
সংযোজন নবায়নযোগ্য
জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা
অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে।
শহরকেন্দ্রিক নবায়নযোগ্য
জ্বালানি উৎপাদনের
লক্ষ্যে নেট
মিটারিং পলিসি
প্রণয়ন করা
হয়েছে। এতে
কোনো গ্রাহক
তার ভবন
বা শিল্প-কারখানার
বিদ্যুতের মোট
চাহিদার ৭৫
শতাংশ বিদ্যুৎ
সোলার প্যানেল
থেকে উৎপাদন
করে তা
নিজে ব্যবহার
এবং উদ্বৃত্ত
বিদ্যুৎ জাতীয়
গ্রিডে প্রদানের
মাধ্যমে আর্থিকভাবে
লাভবান হতে
পারে। এ
পলিসি বাস্তবায়নের
ফলে পোশাক
কারখানার বৃহৎ
ছাদকে কাজে
লাগিয়ে স্বল্প
খরচে বিদ্যুৎ
উৎপাদনের মাধ্যমে
পণ্যের উৎপাদন
ব্যয় হ্রাস
পাচ্ছে। এছাড়া
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ
ব্যবহারের ফলে
আন্তর্জাতিক বাজারে
উৎপাদিত পণ্যের
চাহিদা বাড়ছে।
ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা
শহরে নবায়নযোগ্য
জ্বালানি উৎপাদনে
ভবনের ছাদ
খুবই উপযুক্ত।
অবকাঠামো নির্মাণ
ও পরিকল্পনায়
বিষয়টি গুরুত্বসহকার
বিবেচনায় নেয়া
প্রয়োজন। নতুন
নতুন শহর
যেমন পূর্বাচল
উপশহরের ভবনগুলোর
উচ্চতার ক্রম
প্লটের অবস্থান
অনুযায়ী (উত্তর-দক্ষিণ)
নির্ধারণ করা
গেলে প্রায়
সব ভবনের
ছাদ থেকে
সোলার প্যানেলের
মাধ্যমে নবায়নযোগ্য
বিদ্যুৎ উৎপাদন
করা সম্ভব।
এছাড়া প্রস্তাবিত
উচ্চ বন্যাকবলিত
জমিগুলো রক্ষার্থে
সেখানে সোলার
পার্ক নির্মাণের
সুযোগ রাখলে
তা জমির
ধরন পরিবর্তন
ব্যতিরেকেই জমির
মালিক অর্থনৈতিকভাবে
বিপুল লাভবান
হতে পারবে।
ওই সব
জমির মালিক
নিচু জমি
ভরাট না
করেও সোলার
পার্ক স্থাপনের
মাধ্যমে ঢাকা
শহরের আশপাশের
প্লাবন ভূমি
রক্ষা হবে।
উল্লেখ্য, গৃহায়ণ
ও গণপূর্ত
মন্ত্রণালয়াধীন নগর
উন্নয়ন অধিদপ্তর
কর্তৃক ময়মনসিংহ
বিভাগীয় শহরের
মহাপরিকল্পনায় ফ্লাড
ফ্লো জোনকে
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের
জন্য নির্ধারণ
করা হয়েছে।
যা ভবিষ্যতের
ময়মনসিংহ শহরকে
অধিক পরিবেশবান্ধব
শহর হিসেবে
চিহ্নিত করবে।
তারা বঙ্গবন্ধু
শিল্প নগরে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
সংস্থানের জন্য
জায়গা নির্ধারনের
পরিকল্পনা করছে।
বিভিন্ন অর্থনৈতিক
অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের
ছাদ থেকে
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও
সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ আমাদের
আগামীর শিল্প
ও নগরায়ণ
হবে পরিবেশবান্ধব।
সাধারণত ১
মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
উৎপাদনে প্রায়
৩.৫
একর জায়গা
প্রয়োজন হয়।
আমাদের দেশে
এক সঙ্গে
এত বড়
জায়গা একক
মালিকানাধীন অবস্থায়
পাওয়া যায়
না এবং
একাধিক মালিকানায়
জায়গা থাকায়
তা ক্রয়
বা লিজ
গ্রহণ সহজতর
নয়। এছাড়া
ভূমি বন্দোবস্ত
নীতিমালায়ও সোলার
পার্ক স্থাপনে
অকৃষি খাসজমি
বন্দোবস্ত দেয়ার
বিষয়টি স্পষ্ট
নয়। সম্প্রতি
স্রেডার উদ্যোগে
ও জিআইজেডের
সহায়তায় বাংলাদেশ
মত্স্য গবেষণা
ইনস্টিটিউট চিংড়িঘেরের
ওপর সোলার
প্যানেল বসিয়ে
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
ক্ষেত্রে চিংড়ি
চাষে কোনো
বিরূপ প্রতিক্রিয়া
বিষয়ে গবেষণা
করেছে। গবেষণা
অনুযায়ী মাছ
চাষের সঙ্গে
সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট
স্থাপনে মাছের
উৎপাদনে তেমন
বিরূপ প্রতিক্রিয়া
পরিলক্ষিত হয়
না। দেশের
উপকূলীয় এলাকায়
প্রায় ২
লাখ ৭০
হাজার হেক্টর
জমিতে চিংড়ি
চাষ হয়।
ওই জমির
অর্ধেক সৌরবিদ্যুতের
আওতায় আনতে
পারলে প্রায়
১ লাখ
মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য
বিদ্যুৎ উৎপাদন
সম্ভব। যা
আমাদের শতভাগ
বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য
খাত থেকে
উৎপাদনের এক
বিশাল সম্ভাবনা।
এছাড়া আমাদের
বিভিন্ন জলাভূমি
যেমন হাওর-বাঁওড়সহ
নদীতে ভাসমান
সৌরবিদ্যুতের উজ্জ্বল
সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এর
জন্য প্রয়োজন
আরো বিস্তর
গবেষণা, সরকারি
পৃষ্ঠপোষকতা ও
পাইলট প্রকল্প
বাস্তবায়ন।
২০৫০ সালের
মধ্যে কার্বনমুক্ত
বিশ্বের লক্ষ্যমাত্রা
নির্ধারণ করা
হয়েছে। এ
লক্ষ্যে চীনের
মতো কয়লা
ও জীবাশ্ম
জ্বালানিনির্ভর দেশ
ও নবায়নযোগ্য
জ্বালানির ওপর
ব্যাপক গুরুত্ব
আরোপ করছে।
তারা বর্তমানে
৬০ শতাংশ
বিদ্যুৎ কয়লা
থেকে উৎপাদন
করে। সেখান
থেকে ২০৬০
সাল নাগাদ
নিজেদের কার্বন
নিউট্রাল দেশ
হিসেবে ঘোষণার
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করেছে। আমাদের
প্রতিবেশী দেশ
ভারত কয়লা
থেকে বিদ্যুৎ
উৎপাদনের নির্ভরতা
থেকে নবায়নযোগ্য
জ্বালানি বিশেষ
করে জলবিদ্যুৎ
ও সৌরবিদ্যুতের
দিকে ঝুঁকছে।
বর্তমানে প্রায়
২০ শতাংশ
বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য
জ্বালানি থেকে
উত্পন্ন হয়।
২০৩০ সালের
মধ্যে তারা
৪৫০ গিগাওয়াট
নবায়নযোগ্য জ্বালানির
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করেছে। অতএব
সমগ্র বিশ্বের
সঙ্গে তাল
মিলিয়ে আমাদেরও
নবায়নযোগ্য জ্বালানির
দিকে ঝুঁকতে
হবে। আশার
কথা সোলার
প্যানেলের দাম
ক্রমাগতভাবে হ্রাস
ও একই
সঙ্গে এফিশিয়েন্সি
বৃদ্ধির ফলে
প্রচলিত জীবাশ্ম
জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের
পরিবর্তে সৌর
বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের
মাধ্যমে জলবায়ুদূষণ
রোধসহ অবকাঠামো
উন্নয়নে ইতিবাচক
ভূমিকা রাখা
সম্ভব।
জ্বালানি সাশ্রয়
এক
ইউনিট বিদ্যুৎ
সাশ্রয় করলে
তা দুই
ইউনিট বিদ্যুতের
সমান পরিবেশগত
সুবিধা দেয়।
তাই উৎপাদনের
চেয়ে অনেক
বেশি ব্যয়সাশ্রয়ী,
টেকসই ও
পরিবেশবান্ধব বিধায়,
বর্তমানে সারা
বিশ্বে জ্বালানি
দক্ষতা ও
সংরক্ষণ কার্যক্রমকে
প্রথম জ্বালানি
বা ফার্স্ট
ফুয়েল হিসেবে
বিবেচনা করা
হয়। সাধারণত
ভবন ও
শিল্প-কারখানায়
জ্বালানি ও
বিদ্যুতের অপচয়
হয়ে থাকে।
পুরনো অদক্ষ
যন্ত্রপাতির ব্যবহার
ও অসচেতনতা
জ্বালানি অপচয়ের
মূল কারণ।
দেশের ক্রমবর্ধমান
জ্বালানি ও
বিদ্যুতের চাহিদা
মেটাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র
স্থাপনের পাশাপাশি
সরকার ‘এনার্জি
এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড
কনজারভেশন (ইইঅ্যান্ডসি)
মাস্টারপ্ল্যান আপটু
২০২০’ প্রণয়ন
করেছে। যেখানে
শিল্প-কারখানা
ও ভবনের
জ্বালানি সাশ্রয়,
হোম অ্যাপ্লায়েন্সে
যেমন টেলিভিশন,
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত
যন্ত্র, বৈদ্যুতিক
ফ্যান, লাইট
প্রভৃতি উৎপাদন,
বাজারজাত ও
ব্যবহারের ক্ষেত্রে
জ্বালানি দক্ষতা
নিশ্চিতের জন্য
দিকনির্দেশনা দেয়া
হয়েছে। ইইঅ্যান্ডসি
মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে
২০৩০ সালে
২০১৩-১৪
অর্থবছরের তুলনায়
জিডিপিপ্রতি ২০
শতাংশ জ্বালানি
দক্ষতা অর্জনের
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করা হয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানে লক্ষ্যমাত্রা
অর্জনের জন্য
চিহ্নিত পাঁচটি
সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম
যথাযথভাবে বাস্তবায়নের
মাধ্যমে উৎপাদন,
সরবরাহ ও
ব্যবহারিক পর্যায়ে
২০২১ সালের
মধ্যে প্রতি
বছর প্রায়
৭ হাজার
৪৮২ গিগাওয়াট-আওয়ার
বিদ্যুৎ সাশ্রয়
হবে, যা
২০০০ মেগাওয়াট
ক্ষমতার একটি
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায়
এক বছরে
উৎপাদিত বিদ্যুতের
সমান। স্রেডার
তথ্য অনুসারে,
জ্বালানি দক্ষতা
অর্জনে গৃহীত
পদক্ষেপের মাধ্যমে
এরই মধ্যে
২০১৩-১৪
অর্থবছরের তুলনায়
২০১৯-২০
অর্থবছরে জিডিপিপ্রতি
১২ শতাংশ
জ্বালানি সাশ্রয়
অর্জন করা
সম্ভব হয়েছে।
খাতভিত্তিক জ্বালানির
ব্যবহারের চিত্র
অনুসারে দেশের
প্রায় ৪৮
ভাগ জ্বালানি
শিল্প খাতে
এবং ৩১
ভাগ জ্বালানি
আবাসিক খাতে
ব্যবহূত হচ্ছে।
শিল্প-কারখানায়
উন্নত প্রযুক্তির
জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির
ব্যবহার ও
ভবন নির্মাণের
ক্ষেত্রে গ্রিন
বিল্ডিং গাইডলাইন
অনুসরণ করে
জ্বালানি দক্ষতা
অর্জন সম্ভব।
টেক্সটাইল খাত
বৈদেশিক মুদ্রা
অর্জনের একটি
গুরুত্বপূর্ণ খাত।
শিল্প খাতে
ব্যবহূত মোট
জ্বালানির প্রায়
৩০ ভাগ
ব্যবহূত হয়
টেক্সটাইল ও
গার্মেন্টস খাতে।
জ্বালানি দক্ষ
বয়লার, উন্নত
সুইং মেশিন
(এয়ারজেট লুম,
ডিরেক্ট ড্রাইভ
মোটর ইত্যাদি)
ও অন্যান্য
জ্বালানি দক্ষ
যন্ত্রপাতি ও
বৈদ্যুতিক সামগ্রী
ব্যবহার করে
টেক্সটাইল ও
গার্মেন্টস খাতে
ব্যবহূত জ্বালানির
প্রায় ৪১
দশমিক ৩৩
শতাংশ সাশ্রয়
করা সম্ভব।
জ্বালানিসাশ্রয়ী উন্নত
প্রযুক্তি ব্যবহারের
মাধ্যমে রাসায়নিক
সার তৈরিতে
ব্যবহূত জ্বালানির
প্রায় ৩৬
দশমিক ৩৬
শতাংশ সাশ্রয়
করা সম্ভব।
সামগ্রিকভাবে জ্বালানি
দক্ষ যন্ত্রপাতি
ব্যবহারের মাধ্যমে
আমাদের শিল্প
খাতে বর্তমান
অবস্থার থেকে
প্রায় ৩১
শতাংশ জ্বালানি
সাশ্রয় সম্ভব।
সরকার জ্বালানি
দক্ষতা অর্জনের
বিষয়টিকে গুরুত্ব
দিয়ে জাইকার
সহায়তায় বিশেষ
করে গার্মেন্টস
খাতে জ্বালানিসাশ্রয়ী
যন্ত্রপাতি ক্রয়ের
জন্য ৪-৬
শতাংশ সুদে
ঋণ দিচ্ছে।
এছাড়া শিল্প
ও বৃহৎ
প্রতিষ্ঠানে জ্বালানির
অপচয়ের কারণ
চিহ্নিত করে
অপচয় রোধে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য
নিয়মিত এনার্জি
অডিট পরিচালনা
করা প্রয়োজন।
কেননা দিন
দিন শ্রমিকের
বেতন বৃদ্ধি,
আন্তর্জাতিক বাজারে
কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি
এবং বিদ্যুৎ
ও জ্বালানির
মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে।
সে তুলনায়
উৎপাদিত পণ্যের
দাম রফতানির
ক্ষেত্রে তেমন
বৃদ্ধি পায়
না। এজন্য
শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টিকে
থাকতে নানাবিধ
চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন
হতে হচ্ছে।
নিয়মিতভাবে এনার্জি
অডিট করে
জ্বালানির অপচয়
রোধ করে
পণ্য উৎপাদনের
ব্যয় হ্রাস
করা সম্ভব।
নব্বই দশকের
শুরু থেকে
সমগ্র বিশ্বে
গ্রিন বিল্ডিংয়ের
ধারণার প্রচলন
হয়। আপাতদৃষ্টিতে
গ্রিন বিল্ডিং
বলতে ভবনের
সবুজায়ন বোঝালেও
বিষয়টি মূলত
ভবনের বিদ্যুৎ
ও জ্বালানি
সাশ্রয়বিষয়ক। বর্তমানে
বিভিন্ন দেশ
তাদের নিজেদের
প্রেক্ষাপটে ভিন্ন
ভিন্ন গ্রিন
বিল্ডিং রেটিং
সিস্টেম চালু
করেছে। প্রতিবেশী
দেশ ভারতে
একাধিক গ্রিন
বিল্ডিং রেটিং
প্রচলিত আছে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী
ইউএস গ্রিন
বিল্ডিং কাউন্সিল
কর্তৃক প্রণীত
লিডারশিপ ইন
এনার্জি অ্যান্ড
এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন
(এলইইডি) জনপ্রিতা
পেয়েছে। বাংলদেশের
গার্মেন্টস খাতে
এ সার্টিফিকেশনটি
জনপ্রিয়তা অর্জন
করেছে। যদিও
এতে সরাসরি
কোনো আর্থিক
লাভ হচ্ছে
না। তবে
ভবনের বিদ্যুৎ
সাশ্রয় ও
স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশের
বিষয়গুলো গুরুত্ব
পাচ্ছে, যা
পরোক্ষভাবে লাভবান
করছে। পক্ষান্তরে
এ সিস্টেমে
বাংলাদেশের সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেক
বিষয় অনুপস্থিত
এবং এতে
বিপুল পরিমাণ
বৈদেশিক মুদ্রা
বিদেশে চলে
যাচ্ছে। শুধু
কোনো প্রকল্প
রেজিস্ট্রেশন করতে
১৫০০ মার্কিন
ডলার খরচ
হয়। এর
বাইরে বর্গফুটপ্রতি
সার্টিফিকেশন ফি
এবং পরামর্শক
ফিও রয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে
বাংলাদেশের জন্য
একটি নিজস্ব
গ্রিন বিল্ডিং
রেটিং সিস্টেমের
প্রয়োজন ছিল।
২০১৮ সালে
স্রেডার জ্বালানি
দক্ষ ভবন
নির্মাণ কার্যক্রমের
আওতায় ভবনগুলোয়
বিদ্যুৎ ব্যবহার
ও পরিবেশগত
মান গুরুত্বের
সঙ্গে বিবেচনা
করে বিল্ডিং
এনার্জি এফিশিয়েন্সি
অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট
রেটিং (বিইইইআর)
সিস্টেমের একটি
খসড়া প্রণয়ন
করা হয়েছে।
এ রেটিং
সিস্টেম অনুসরণের
মাধ্যমে ভবনের
জীবনচক্রে পরিবেশগতভাবে
জড়িত প্রক্রিয়া,
যেমন নকশা
থেকে নির্মাণ,
পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ
ও সংস্কার
এবং ধ্বংস
পর্যন্ত প্রক্রিয়াগুলোতে
জ্বালানি সাশ্রয়
নিশ্চিত করবে।
এ সিস্টেম
সরকারি ও
বেসরকারি এবং
আধাসরকারি সব
অবকাঠামোসহ অফিস
ভবন, স্কুল,
হাসপাতাল, সামরিক
স্থাপনা, সরকার
প্রদত্ত বা
পরিচালিত হাউজিং,
বিমানবন্দরসহ সকল
প্রকার ভবনের
ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য
হবে। এ
রেটিং সিস্টেমের
ওপর ভিত্তি
করে বিভিন্ন
ব্যাংকের সবুজ
অর্থায়ন স্কিমের
আওতায় স্বল্পসুদে
ঋণ গ্রহণ
করাও সম্ভব
হবে। দেশের
ক্রমবর্ধমান জ্বালানি
ও বিদ্যুতের
চাহিদা মিটিয়ে
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা
রক্ষার্থে নবায়নযোগ্য
জ্বালানির ব্যবহার
ও জ্বালানি
সাশ্রয় নিশ্চিত
করার কোনো
বিকল্প আমাদের
নেই।
মো. নাফিজুর রহমান: স্থপতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, প্রাক্তন উপপরিচালক, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)





