দায়িত্ব গ্রহণের আড়াই বছর অতিক্রম করেছেন রেলপথমন্ত্রী। পদ্মা সেতু রেলসংযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু নির্মাণসহ রেলওয়ের চলমান ৩৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড রেলপথ, মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, ঢাকায় বৃত্তাকার রেলপথ গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা তৈরিতে। চলমান প্রকল্প আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো নিয়ে রেলমন্ত্রী কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামীম রাহমান

বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন তো আপনি কৈশোরে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকে জানতে চাই, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রেল যোগাযোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রেখেছে?

স্বাধীনতার আগে আমাদের এ দেশে পাকা সড়ক খুব একটা ছিল না। হেঁটে, নৌকায়, গরু কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে যাতায়াতই ছিল মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। আর ছিল ব্রিটিশদের তৈরি করে দেয়া প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রেল নেটওয়ার্ক। মুক্তিযুদ্ধে রেলওয়ের এ নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকিস্তানি সেনাদের ঠেকাতে হার্ডিঞ্জ, ভৈরব ও তিস্তা ব্রিজের মতো অনেক অবকাঠামো আমাদের গেরিলা যোদ্ধারা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। ট্রেনে পাকিস্তানি সৈন্যদের জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ পরিবহন করা হতো। সেসব লুট করতে গিয়ে ট্রেনে হামলা চালাতেন গেরিলা যোদ্ধারা। এ কারণে অনেক রোলিংস্টকও সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পুরো বাংলাদেশ বিধ্বস্ত এক জনপদে পরিণত হয়। রেল নেটওয়ার্কও এর বাইরে ছিল না। তবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেল নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনে মনোযোগী হন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সেতু-কালভার্ট মেরামতও করা হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে পুনর্গঠিত রেল নেটওয়ার্ক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭৫ সাল-পরবর্তী সময়ে এসে আবার রেলের উন্নয়ন থমকেও গেছে।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও বাংলাদেশের রেলে উন্নতির ছাপ খুব একটা লাগেনি। রেল ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৫০ বছর কি যথেষ্ট নয়?

৫০ বছর তো অনেক সময়। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের রেলওয়েকে আজ বিশ্বমানের করে তোলার সব সম্ভাবনাই ছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু কাজটি শুরুও করেছিলেন। তার সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথ—সবই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর যে সরকারগুলো দেশ পরিচালনা করেছে, তারা সে পথ থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত হয়ে যায়। ১৯৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কেবল সড়ককেই প্রাধান্য দিয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সড়ক ছিল সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের মতো। রেলপথ ছিল তিন হাজার কিলোমিটারের মতো। ৫০ বছর পর আমরা যদি হিসাব করে দেখি, রেলপথ তিন হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। বৃদ্ধি পাওয়ার বদলে কমেছে। বিপরীতে বর্তমানে শুধু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরেরই সড়ক রয়েছে ২২ হাজার কিলোমিটারের বেশি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাকা সড়ক ১ লাখ ৩১ হাজার কিলোমিটারের বেশি। রেলের এই যে দুরবস্থা তার জন্য ১৯৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো যেমন দায়ী, তেমনি উন্নয়ন সহযোগীরাও সমানভাবে দায়ী। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই রেলে উন্নয়ন শুরু হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যাপক অবহেলিত ছিল।

গত এক দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। মানুষ এসবের সুফল কতটা পাচ্ছে?

আমি যদি পরিসংখ্যা দিয়ে বলি, তাহলে এ সময়ে নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে ৩৩০ কিলোমিটার। ২৫০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়ালগেজ করা হয়েছে। ১১০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৯১টি নতুন স্টেশন বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। পুনর্বাসন/পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে আরো ১৭৭টি স্টেশন বিল্ডিং। প্রায় ৩০০টি নতুন রেলসেতু তৈরি করা হয়েছে। ৬৪৪টি সেতু সংস্কার করা হয়েছে। নতুন ইঞ্জিন কেনা হয়েছে ৪৬টি। কোচ কেনা হয়েছে ২৭০টি। আরো ৪৩০টি কোচ মেরামত করা হয়েছে। ৫১৬টি মালবাহী ওয়াগন, ৩০টি ব্রেক ভ্যান কেনা হয়েছে। ৯০টি স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। ১১৭টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। ৩৬টি ট্রেনের রুট বাড়ানো হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত অবহেলিত থাকা রেল নেটওয়ার্কে এ উন্নয়নগুলো নতুন প্রাণ সংযোজন করেছে। যাত্রীরা এখন রেল ভ্রমণে যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পণ্য পরিবহনও অনেক সহজতর হয়েছে।

বাংলাদেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগে বঙ্গবন্ধু সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সেতুটি কীভাবে কাজে লাগছে?

অবিভক্ত ভারতে আমাদের এ অঞ্চলে কলকাতা ছিল সবকিছুর কেন্দ্রে। সেই কলকাতাকে ঘিরেই কিন্তু সে সময় বেশির ভাগ ট্রেন চলত। ভারত বিভক্ত হয়ে যখন পাকিস্তান হলো, তখন প্রাদেশিক রাজধানী হলো ঢাকা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার পূর্ববঙ্গের রেলওয়ের উন্নয়নে কোনো বিনিয়োগই করেনি। দেশ স্বাধীনের পর পরই ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতির পিতা যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। জাপান সফরে গিয়ে কিছু প্রাথমিক কাজও তিনি শুরু করে দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের পর যা থমকে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর কাজ শুরু হয়েছে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের আমলে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে সেতুটির সঙ্গে রেলপথ যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সুফল কিন্তু মানুষ এখনো পেয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু হওয়ার আগে উত্তরাঞ্চল ছিল দেশের অবহেলিত একটা অঞ্চল। মঙ্গা ছিল যার নিত্যসঙ্গী। একটি সেতু পুরো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চেহারাই পাল্টে দিয়েছে। কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত, শিল্প-কারখানা স্থাপন, নানা ধরনের পণ্য পরিবহন সহজ করার পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতে নতুন গতি এনে দিয়েছে এ সেতু। এখন বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে আলাদা একটা রেলসেতু তৈরি করা হচ্ছে। এটির কাজ শেষ হলে হলে আরো গতি পাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন।

পদ্মা সেতু রেল যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে?

পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিতে বিরাট একটা পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত নতুন রেললাইন তৈরি করা হচ্ছে। ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ২৪৪ কিলোমিটার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা হলে ভোলা জেলা ও পার্বত্যাঞ্চলের জেলাগুলো বাদে দেশের প্রায় সব জেলাতেই রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। আর পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে উঠবে। মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি মোংলা ও পায়রা বন্দরের সঙ্গেও রেলের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে দ্রুত আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও গতিশীল করে তুলবে এসব রেল নেটওয়ার্ক।

রেলে আর কী কী উন্নয়ন হচ্ছে?

আমাদের রেল সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোথাও মিটারগেজ, আবার কোথাও ব্রডগেজ লাইন। যমুনার পশ্চিম পারে হলো ব্রডগেজ। আর লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগ মিটারগেজ। একইভাবে নদীর (যমুনা) এপারে পুরো রেল নেটওয়ার্কটিই মিটারগেজ। আমাদের আশপাশের যেসব দেশ রয়েছে, তারা তাদের রেল ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করেছে। তাদের সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্ক ব্রডগেজ বা স্ট্যান্ডার্ডগেজে নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গেল যে লাইনগুলো আছে ধাপে ধাপে সেগুলো ডাবল লাইন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা থেকে মোংলা, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যশোর পর্যন্ত যেসব রেলপথ তৈরির করা হচ্ছে বা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে—সবই ব্রডগেজ বা ডুয়ালগেজ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রামের মিটারগেজ লাইনগুলোকে ডুয়ালগেজ করা হচ্ছে। আখাউড়া থেকে সিলেটের মিটারগেজ রেলপথটি ডুয়ালগেজ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর, জয়দেবপুর থেকে যমুনা সেতু পার হয়ে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়ালগেজ ডাবল লাইন করা হবে। সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার সঙ্গে সরাসরি রেলসংযোগ দেয়া হবে। এ কাজগুলোর প্রক্রিয়া কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় না থাকা আমাদের দেশে একটা বড় সমস্যা। এটা কীভাবে দূর করা যায়?

উন্নত দেশগুলোর দিকে যদি আমরা তাকাই, দেখতে পাব তারা সমন্বিত একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ, আকাশ পথকে তারা সমান গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশে হয়েছে এর উল্টোটা। প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ২০১১ সালে রেলপথের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তখন থেকে বাংলাদেশের রেলপথের উন্নয়নে একের পর এক বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। একইভাবে নৌপথকেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যে সমন্বয়হীনতা ছিল, তা দূর করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। নৌপথগুলো রক্ষার জন্য রেল বা সড়ক সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স ঠিক করে দেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগে মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বয় করে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। তবে দীর্ঘদিন যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কিন্তু সহজে দূর করা যাবে না। এটা ধারাবাহিকভাবে করতে হবে ও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা রয়েছি।

কিছুদিন আগে জার্মানির রাষ্ট্রদূত আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। পরে কি জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে?

জার্মানি বাংলাদেশের রেল খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমন আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য তাদের প্রস্তাবও করেছি।

২০০৯ সালের বাংলাদেশ রেলওয়ে আর ২০২১ সালের বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন?

২০০৯ সালে বাংলাদেশে রেলওয়ে ছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটা সংস্থা। আর এখন এটি স্বতন্ত্র একটি মন্ত্রণালয়। ২০০৯ সালের দেশের রেলের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট ছিল ৫০০ কোটি টাকা। এখন রেলের উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯ সালের দিকে রেলের চেহারা ছিল বিবর্ণ। পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় ট্রেন, নড়বড়ে রেলপথ, ভাঙাচোরা স্টেশন—সবখানেই ছিল উন্নয়ন দীর্ঘদিনের অনুন্নয়নের ছাপ। আর এখন রেলে নতুন নতুন ইঞ্জিন কোচ এসেছে। বিরতিহীন ট্রেন চালু হয়েছে। চকচকে স্টেশন বিল্ডিং হয়েছে। সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিডিউল বিপর্যয় হতো, রাত ১২টার ট্রেন ছাড়ত পরদিন সকালে, এখন কিন্তু বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই চলাচল করছে।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে কীভাবে রেখে যেতে চান?

উন্নয়ন হলো একটা ধারাবাহিক বিষয়, যা রেলে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নতুন নতুন রেলপথ তৈরি হয়েছে। নতুন নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। রেলে উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটতে শুরু করেছে। আমরা এখন হাইস্পিড ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছি। দেশের বড় বড় স্টেশনকে মাল্টি মোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি। ঢাকা শহরের চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা করছি। উন্নত দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক যেভাবে গড়ে উঠেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্কে সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এর সবই করা হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।